দেশ

করোনা’ভাইরাস এর প্রতিষেধকের বিজ্ঞাপন নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে রামদেবের পতঞ্জলি।


চৈতালি নন্দী : চিন্তন নিউজ:২৪শে জুন:–
করোনা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কার হয়নি। এই রোগের ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা চালাচ্ছে বিশ্বের তাবড় তাবড় ওষুধ সংস্থা গুলি। এই সংস্থাগুলিতে নতুন সংযোজন যোগগুরু রামদেবের আয়ুর্বেদিক ওষুধ সংস্থা পতঞ্জলি।

সম্প্রতি রামদেবের এই সংস্থাটি দাবী করেছে তারা একটি ভেষজ যৌগ তৈরী করেছে যা কোভিড ১৯ প্রতিরোধে একশো ভাগ সক্ষম। কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক রামদেবকে আপাতত এই প্রচার থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। তারা আরও বলেছে যে ওষুধ তৈরীর জন‍্যে যে গবেষণা ও ক্লিনিক‍্যাল  পরীক্ষার প্রয়োজন তা এখানো হয়নি। এছাড়াও এই ধরণের ওষুধ পরীক্ষার জন‍্যে যসব শর্তাবলী মেনে চলতে হয় তাতেও ফাঁক থেকে গেছে।

যদিও একটি সাংবাদিক সম্মেলনে রামদেব দাবি করেছেন যে ওষুধটা তৈরীর পর যে ক্লিনিকাল টেষ্ট হয়েছে তাতে তিন দিনের মধ‍্যে ৬৯% রোগী এবং সাত দিনের মধ‍্যে নিরাময় হয়েছে একশোভাগ রোগী। এই ওষুধটিতে রয়েছে প্রাচীন ভেষজ উপাদান যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কিন্তু আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার সঙ্গে যুক্তরা মনে করেন এই সুযোগে এই রোগপ্রতিরোধকারী ওষুধটিকেই রামদেব করোনা প্রতিষেধক হিসেবে প্রচার করে একচেটিয়া ব‍্যবসা করতে চাইছে। কারণ তারা মনে করেন পতঞ্জলি আদতে একটি কর্পোরেট সংস্থা ছাড়াকিছু নয়।

এই প্রসঙ্গেই চিকিৎসক মহলে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন উঠতে থাকে। রামদেবকে এই ক্লিনিক‍্যাল ট্রায়ালের অনুমতি কে দিল অথবা কাদের উপর চালানো হয়েছে এই ট্রায়াল?এন আই এম এস (NIMS)-এর (জয়পুর) দুই প্রবীণ চিকিৎসক, যারা ক্লিনিকাল ট্রায়ালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা জানান, যাদের উপর ওষুধ গুলি প্রয়োগ করা হয়েছিলো তাদের করোনার লক্ষণ গুলি স্পষ্ট ছিলোনা। তারা আর‌ও বলছেন বিশ্বজুড়ে যেসব মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের মধ‍্যে ৮০%-ই কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে যাচ্ছন। তাছাড়াও ভাইরাসটি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত রোগটির কোনো এ্যন্টিভাইরাল থেরাপি আবিষ্কার না হওয়ায় কারণে সহায়ক ওষুধ গুলিকেই ব‍্যবহার করা হচ্ছে।

পতঞ্জলির বিভিন্ন উৎপাদন সামগ্রীর সম্পর্কে বহু অভিযোগ জমা পড়ছে বহুদিন থেকেই। বর্তমানে রোগটির আতঙ্কে মানুষ যখন দিশেহারা সেইসময় আত্মনির্ভরশীলতার  উপদেষ্টা মোদির সঙ্গে সখ‍্যতাকে মূলধন করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করাই এই কর্পোরেট সংস্থাটির উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।