রাজ্য

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পুরুলিয়া


নিউজডেস্ক, চিন্তন নিউজ, ২৯ জুলাই: রবিবার গভীর রাতে মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পুরুলিয়া। রিখটার স্কেলে কম্পন মাত্রা ছিল ৪। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২২ কিমি গভীরে ছিল এই ভূকম্পের উৎস স্থল। রবিবার পুরুলিয়া এবং ঝাড়খণ্ড লাগোয়া বেশ কিছু স্থানে ভূমিকম্প হয় রাত ২.৩০ মিনিট নাগাদ। হঠাৎ কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরুলিয়া শহরের মানুষের মধ্যে। ঘুম থেকে উঠে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করে দেন অনেকে। শুধু তাই নয়, আফটার শকের আশঙ্কায় গোটা রাত অনেকেই বাড়ির বাইরে নিরাপদ আশ্রয়ে কাটিয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে।

ভূবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, গত কয়েকদিন ধরেই ভারতের নানা প্রান্তে এই ধরনের মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে। এদিনই রাত ১টা নাগাদ জম্মু-কাশ্মীরেও ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৩.২। তেমন শনিবার রাতে বাঁকুড়া জেলাতে অনুভূত হয়েছে কম্পন। শনিবার অরুণাচল প্রদেশের পূর্ব কামেঙ্গ জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার তীব্রতা ছিল ৫.৫। শুক্রবার বিকালে ভূমিকম্প হয় আসামে। যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৬। যদিও পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, জম্মু-কাশ্মীর, অরুণাচলপ্রদেশ এবং আসাম সব স্থানেই ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার নিচে পৃথিবীর প্লেটগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরপর নড়েচড়ে গেছে। ভূত্বক থেকে অনেকটা নিচে হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা কম হয়েছে।

অন্যদিকে কলকাতাতেও আগামী দু’মাসের মধ্যে বড়সড় রকমের ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন ভূবিজ্ঞানীরা। কলকাতা নিয়ে তাঁদের আশঙ্কার কারণ জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা জানিয়েছেন পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে ২০০-২২৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ইয়াসিন প্লেট। আয়তনে বিরাট হওয়ায় অনেকে একে ইয়াসিন রেঞ্জও বলে থাকেন। কলকাতার ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৪ কিলোমিটার নিচ দিয়ে গিয়েছে এই ইয়াসিন রেঞ্জ।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা বারবার এই ছোট কম্পনগুলোর ফলে ধাক্কা লাগতে পারে ইয়াসিন রেঞ্জে যার ফলে ভারতের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি বড়সড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে কলকাতাতে। কেন কলকাতা নিয়ে এত আতঙ্ক ভূবিজ্ঞানীদের? খড়্গপুর আইআইটি’র জিওফিজিক্স বিভাগের অধ্যাপক শঙ্কর নাথের মতে, যেহেতু কলকাতা ভূপৃষ্ঠের নিচের জলস্তর অন্যান্য জায়গার চেয়ে অনেকটাই উপরে এবং তার উপর রয়েছে পলিমাটির নরম স্তর সেহেতু কম্পনের ফলে সৃষ্ট তীব্র জলোচ্ছ্বাস থেকে সলিল সমাধি ঘটতে পারে কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল সমূহের। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে ঢাকুরিয়া, পার্কস্ট্রিট, নাগের বাজার থেকে শুরু করে রাজারহাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।