জেলা

পূর্ব বর্ধমান জেলার খবর


কল্পনা গুপ্ত, চিন্তন নিউজ, ২২শে অক্টোবর: শারদীয়া দূর্গোৎসবের শুরুতে কচিকাঁচা ছাত্রছাত্রীদের মুখগুলোর কথা মনে করে তাদের দাদাদিদিরা যারা নিজেরাও ছাত্রছাত্রী তারা নতুন জামাকাপড় দেওয়ার এক অনুষ্ঠান করে। ভারতের ছাত্র ফেডারেশন, পূর্ব বর্ধমান জেলার পক্ষ থেকে পার্কাস রোডে জেলা পার্টি অফিস শহিদুল্লা ভবনের নিকটে বস্ত্রবিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠান শুরু হয় সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক অমল হালদার ও জেলা সম্পাদক অচিন্ত মল্লিকের উপস্থিতিতে। প্রায় ৫২ জন ছাত্রছাত্রীকে পোষাক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানকে মনোরম করার আর নতুন ভাবনার বীজ বপনের উদ্দেশ্যে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সংগঠনের সদস্য সব্যসাচী রায় চৌধুরী ও আকাশ চক্রবর্তী। সিপিআই(এম) পার্টির প্রবীন নেতা অরিন্দম কোঙারকে ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে শারদ ছাত্র সংগ্রাম পুস্তিকা তুলে দেওয়া হয়।

বর্ধমান শহর ১ এরিয়া কমিটির অন্তর্গত পুলিশ লাইন এল.আই.সি. মার্কেটের সামনে মার্কসীয় প্রগতিশীল পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্রের সূচনার সাথে সাথে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির করা হয়েছে। এখানে ব্লাড প্রেসার, অক্সিজেন লেভেল, শরীরের ওজন মাপা হয়। মাস্ক ছাড়া যাঁরা বেরোচ্ছেন তাঁদেরকে মাস্ক দেওয়া হয়েছে।আজকের এই বুক স্টলের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন সি পি আই (এম) কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আভাস রায় চৌধুরী, পার্টির জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তাপস সরকার , অপূর্ব চ্যাটার্জী প্রমূখ।

ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি (মাঃ ) কালনা ২ এরিয়া কমিটির শারদীয়া বুক ষ্টল উদ্বোধন করা হলো বৈদ্যপুর গ্যারেজে, উদ্বোধন করেন প্রবীণ পার্টি নেতৃত্ব সুধীর ঘটক। উপস্থিত ছিলেন সনাতন টুডু, শ্রীকুমার দুবে, মহঃ শা, জয়দীপ ভট্টাচার্য্য, সুভাষ নন্দী, পুষ্পেন ভট্টাচার্য্য, পীযুষ চ্যাটার্জী, কাজী মুজাফফর হোসেন। সি পি আই ( এম) জামালপুর ১ এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে জামালপুর থানার পুলমাথা সংলগ্ন বাজারে মার্ক্সীয় ও প্রগতিশীল বিপণন কেন্দ্র খোলা হয়।

কালনার পূর্ব সাতগাছিয়ার সুভাষ পল্লীতে নির্যাতিতা কিশোরীর বাড়িতে যান সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি রাজ্য সভানেত্রী অঞ্জু কর এবং মহিলা নেতৃত্ব সব রকম সহযোগিতা আশ্বাস দেন। ভূমিহীন জনমজুর পরিবারের হাতে শারদোৎসবে জামাকাপড় ও কিছু খাদ্যদ্রব্যাদি দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন অঞ্জলী মণ্ডল, সরযূ সরকার, সন্ধ্যা রায়।

বর্ধমান শহর জুড়ে ২৬ শে নভেম্বরের সাধারণ ধর্মঘটের প্রস্তুতি চলছে। ধর্মঘট করেই ধর্মঘটের অধিকার রক্ষার শপথ নিচ্ছে বর্ধমান শহরের অসংগঠিত ক্ষেত্রে শ্রমিকরা। রুটি রুজির সংগ্রামকে রক্ষার জন্য ২৬শে নভেম্বর সারা দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সমর্থনে বর্ধমান শহরের জি টি রোড সংলগ্ন পুলিশ লাইন এলাকায় দেওয়াল লিখন চলছে। লকডাউন ক্ষতি করেছে রোজ যারা খেটে খায় তাদের। অনেক শ্রমিককে তৃণমূলের কর্মীরা ভয় দেখিয়ে কিছুদিন তাদের দিকে রাখলেও কিছুদিন পরে তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে আবার লাল পতাকার আশ্রয়ে ফিরে এসেছেন।

মিষ্টির দোকানে সারা বছর কাজ করেও যারা বোনাস পাননি তারা শ্রমিক আন্দোলনের ফলে বোনাস আদায় করতে পেরেছেন। তাই ২৬শে নভেম্বর সারা দেশ ব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটে শ্রমজীবী মানুষ সংগঠিত হচ্ছে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা নিয়ে। ধর্মঘটের প্রচার চলছে। বর্ধমান শহরে লেদ, মোটর সাইকেল গ্যারেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে শ্রমিকদের নিয়ে সভা চলছে। শ্রমিকরা নিজের হাতে কাগজের পোষ্টার লাগাচ্ছে। এ লড়াই তাঁদের রুটি রুজির লড়াই। আত্মমর্যাদার লড়াই। প্রতিটি শ্রমজীবী পরিবারকে ৭৫০০ টাকা নগদে দিতে হবে, ১০ কেজি খাদ্য শস্য বিনামূল্যে দিতে হবে, কৃষি বিল বাতিল করতে হবে, বেসরকারীকরন চলবে না, পরিযায়ী শ্রমিকদের বিকল্প কাজ দিতে হবে এই দাবিগুলি দেওয়ালে লেখা হয়েছে।

আজ মেমারি সিটুর সহযোগিতায় অবসর প্রাপ্ত রেলোয়ে এমপ্লয়ি এসোসিয়েশন থেকে রেলওয়ে হকারদের ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হলো।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।