বিদেশ

কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েয়েডের প্রতি পুলিশি বর্বরতা,নগ্ন করে দিল হোয়াইট হাউসের বর্ণবিদ্বেষী, প্রভুত্ববাদী চেহারা


চৈতালি নন্দী:চিন্তন নিউজ:৩১শে মে:- এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভূল চেক দেবার অপরাধে প্রকাশ‍্য রাস্তায় আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ পুলিশ গলায় হাঁটু চেপে ধরে কয়েক মিনিটের মধ‍্যে খুন করে এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে। আমেরিকার এই ক্রান্তিকালে যখন করোনার জেরে মৃত‍্যুর সংখ্যা লক্ষাধিক ছাড়িয়েছে ,কাজ হারিয়েছে চার কোটির বেশী মানুষ, তখন নতুন করে সারা আমেরিকা জুড়ে প্রবল হচ্ছে প্রতিবাদের ঝড়। দেশজুড়ে ইয়াং আমেরিকানদের, বর্ণবিদ্বেষ ও পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে অশান্ত দাবানলের মতো যে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়েছে ,তা আমেরিকার প্রভূত্ববাদী চেহারাটা আরও নগ্ন, আরও উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড নিজের জীবন দিয়ে আমেরিকার আগ্রাসী শাসকশ্রেণীর ভয়াল নির্মমতাকে এনেছে পৃথিবীর সামনে। এই বিক্ষোভের জেরে চলেছে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ । এর জেরে ভীত হোয়াইট হাউসে তালা পড়েছে, জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা। সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। জারি হয়েছে কার্ফু। তবু প্রতিবাদের আগুন হয়েছে আরও উত্তাল ।

  এই ঘটনা মনে পড়িয়ে দেয় দাসপ্রথাকে। এদেশের দলিত ও মুসলমান হত‍্যার সঙ্গেও মিল পাওয়া যায় এই ঘটনার।  করোনা মহামারীর মধ‍্যেই উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় বিশ্বের দেশগুলির মধ‍্যেই বর্ণবৈষম‍্য ও ধর্ম ও জাতিগত বিদ্বেষ মাথাচাড়া দিচ্ছে। ইউরোপ ও আমেরিকায় শেতাঙ্গদের তুলনায় বৈষম‍্যের শিকার কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয় জনগোষ্ঠী। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলির মধ‍্যে সাদাকালোর যে জাতিবিদ্বেষ তা এককথায় বর্ণবিদ্বেষ, যা এই সংকটকালে সামনের সারিতে চলে এসেছে। ভয়ঙ্কর কথা এই যে শিকাগো শহরে মোট আক্রান্তের ৫২% এবং মৃত্যুর ৬৮% কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর।

বর্ণবিদ্বেষ বা জাতিবিদ্বেষ মানবিক আচরণের বিপরীতমুখী দিক। আধুনিক বিশ্ব জ্ঞান বিজ্ঞানে অনেক এগিয়ে গেলেও কয়েক কদম পিছিয়ে গেছে মানবিক মূল‍্যবোধে। সংকটকালে প্রকাশ ঘটছে এই সুপ্ত দিকটিরই। এই হত‍্যার ঘটনাটি ভাইরাল হতেই মহামারী, কার্ফুর আতঙ্ক উড়িয়ে পথে নেমে পড়েছে জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে তরুণ, শ্রমজীবী  ইয়াং  ব্রিগেড। আমেরিকার এই লক্ষ লক্ষ তরুণ প্রজন্মই আজ ভারতবাসীর প্রেরণা। তারাই জ্বালিয়ে রেখেছে আশার প্রদীপ। ভারতেও অভিনীত হচ্ছে একই নাটক । মহামারীর সংকটের সুযোগে শাসকশ্রেণী অপরিনামদর্শী র মতো এর ভয়ঙ্কর পরিনতির কথা না ভেবে খেলে চলেছে সম্প্রদায়িক তাস। এখানেই মার্কসের দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের যথার্থতা। সর্বত্রই শাসকের চরিত্র থাকে অপরিবর্তিত।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।