দেশ বিদেশ

ব্যক্তি কুৎসা করে নোবেলজয়ীর সাফল্যকে খাটো করা যাবে না।


নিউজ ডেস্ক:চিন্তন নিউজ:১৮ই অক্টোবর:–অর্থনীতিতে সদ্য নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আপামর বাঙালি তথা ভারতবাসী গর্বিত।

অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় অর্থনীতির ক্ষেত্রে যে দিকটির প্রতি আলোকপাত করেছেন তা হলো,”গরীবের হাতে অর্থ দিতে হবে”। তিনি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান ভারতের বেহাল অর্থনৈতিক অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। দেশের সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ নেই। ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। মুষ্টিমেয় পুঁজিপতিদের হাতে দেশের অর্থনীতি কুক্ষিগত। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম এনডিএ সরকারের নোটবন্দি নিয়ে বলেছিলেন–নোটবন্দি সফল হবে না। এই সমস্ত‌ই অর্থনীতির ভালোমন্দ আলোচনা। দেশের অর্থনীতির হিতার্থে নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়কের এই মতামত। এগুলো কোনোটাই রাজনৈতিক নয়।

খুব দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক ব্যাপার হলো, সরকারি অর্থনীতির সমালোচনার ফলে কিছু অংশের মানুষ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুৎসা রটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তি জীবনের কাহিনী। চিন্তন এই রটনার তীব্র নিন্দা করছে। যে তত্ত্বের ভিত্তিতে এই নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি, তাকে কোনও ভাবেই ব্যক্তি কুৎসার দ্বারা খাটো করা যায় না।

আজকের এই জনস্বার্থ সম্বলিত অর্থনীতির যে পথের দিশা দেশকে তথা পৃথিবীকে দেখিয়েছেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, সেইজন্য সকলের গর্বিত হ‌ওয়া উচিৎ বলে মনে করে চিন্তন।

বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির যে অবস্থা, তা দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলছে ,এই মত প্রায় সর্বজনবিদিত, দলমত নির্বিশেষে ।অর্থনীতিবিদ ডঃ অমর্ত্য সেন‌ও এক‌ই কথা বলেছিলেন আগে, তাই তাঁর মত নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ আজ সরকারের চক্ষুশূল।

অধ্যাপক অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গবেষণায় ধনী-দরিদ্র বৈষম্য দূরীকরণের কথা বলেছেন।তিনি আর‌ও বলেছেন, যেহেতু দেশের ৭০% মানুষ থাকে গ্রামাঞ্চলে, তাদের মধ্যে জমিবন্টন ও উৎপন্ন ফসলের দাম নির্দিষ্ট করলে তাদের আয় বাড়বে।জনস্বাস্থ্য ও জনশিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। জনশিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন। উল্লেখ্য, জনস্বাস্থ্য ও জনশিক্ষা নিয়ে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির কথা নোবেলজয়ী ডঃ অমর্ত্য সেন বারবার বলেছেন।
তাই শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।