দেশ রাজ্য

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বাংলার পরিবেশে বিষ


রঘুনাথ ভট্টাচার্য, চিন্তন নিউজ, ৫ জুন: পরিবেশ নিয়ে সারা বিশ্ব চিন্তিত। সেই প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান কোথায়, একটু তলিয়ে দেখা যাক।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে প্রকাশিত রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রন পরিষদের প্রতিবেদন কী বলছে?
বিগত বছরে কলকাতার বাতাসে পি.এম.২.৫ – অর্থাৎ অতি সূক্ষ বিষাক্ত তথা দূষিত কণা ছিল জাতীয় অনুমোদন সীমার দ্বিগুণ। যেটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্থিরীকৃত মানের ৭গুণ বেশী।
২০১৮ পর্য্যন্ত পি.এম.২.৫ এর বার্ষিক গড় এই শহরে ছিল ৭৩.৬ মাইক্রো গ্রাম প্রতি ঘন মিটারে, যেখানে জাতীয় গড় ৪০। আর WHO এর সীমা হল ১০ মা:গ্রাম:।
পি.এম.১০ কণা পি.এম.২.৫ এর থেকে একটু কম বিষাক্ত ধরা হয়। সেটা জাতীয় সীমা থেকে দ্বিগুণ বেশী এই শহরে। ২০১৫ থেকে এই বিষ এই শহরে দ্রুত ক্রমবর্ধমান। ২০১৫ এর ১১৪.৯ মা:গ্রা: বেড়ে ২০১৮ তে ১২৪.৪ মা: গ্রা:। যেখানে জাতীয় গড় হল ৬০ আর WHO অনুমোদন করে ২৫ মাত্র।
জেলাগুলির অবস্থা কী? পি.এম. ২.৫ এর হিসাবে কলকাতা যখন রাজ্যে শীর্ষে, পি.এম.১০
এর হিসেবে সবচেয়ে বেশি মুর্শিদাবাদ (১৪৭.৪ মা:গ্রা), পরেই আছে বর্ধমান (১৩৬.৯), নদীয়া (১৩১.৮)।
দূষণ পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রী কল্যান ভদ্রের মতে রাস্তায় খাবারের দোকানগুলো আর ইস্তিরির ঘুমটিগুলোর জ্বালানো কয়লার ধোঁয়া থেকে পি. এম. ২.৫ বিষ শহরের বাতাসে বেশি ঢোকে। এরা যাতে গ্যাস বা বিদ্যুত ব্যবহার করেন সেই জন্য একটি আর্থিক সাহায্যের পরিকল্পনা নেওয়া
হচ্ছে। রাজ্য পরিবেশ সচিব জানান অবস্থা রীতিমত ভয়াবহ। দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা দুটি বাদে সব জেলাতেই এই দূষণ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর মতে দিল্লীর কুখ্যাত বিষায়ন থেকেও কলকাতা পিছিয়ে পড়তে চলেছে।
এ ব্যাপারে সরকার আশা করে, এক বছরের মধ্যে ডিজেল ব্যবহার কমিয়ে এনে কম্প্রেসড প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে জোর দেওয়া হবে। কৃষি দপ্তর এক পরিকল্পনা নিয়েছে যাতে কৃষকরা ‘নাড়া’ জ্বালিয়ে বায়ুদূষণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকেন। বিভিন্ন বেসরকারি উদ্যোগেও এই বিষায়নের সঙ্গে লড়াই চলছে,জনচেতনা জাগ্রত করার কাজে। এই ব্যাপারে উৎসাহী আমেরিকান সেন্টারের ডিরেক্টর শ্রী জেমি ড্রাগন, জানান ১৯৮০এর বছরগুলিতে লস এঞ্জেলসে ধোঁয়া দূষণ এক ভীষণ রূপ নিয়েছিল, যেমন আজকে আমরা দিল্লী-কলকাতায় দেখতে পাচ্ছি। সেখানে এখন সরকার ও নাগরিক-সমাজের মিলিত প্রয়াসে লস এঞ্জেলস দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্বে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দিল্লি-কলকাতায় আমরা এই প্রয়াস ধারার মাঝপথে আছি।
শব্দ দূষণ আর এক প্রবল শত্রু। বিশেষজ্ঞদের মতে এর ফলে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আমরা, বিশেষতঃ শিশু-কিশোর- বৃদ্ধরা, অত্যাচারিত ও অসুস্থ। এটা এখন মূলত এক সামাজিক অসুখ, যার থেকে আরোগ্য লাভ নির্ভর করে সমাজের মানুষের উপর। শাস্তি বিধান করে এ অসুখ পুরোপুরি নিরাময় করা যায় কিনা সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
সুদিন আসুক। আমাদের দেশ যেন অদূর ভবিষ্যতে এই দূষণ অসুরের হাত থেকে নিস্কৃতি পেয়ে এক নির্মল অবস্থান লাভ করে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।