রাজ্য

ভারতবর্ষে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুতের দাম পশ্চিম বাংলায়, ভুতুড়ে বিল নিয়ে বঙ্গবাসী জেরবার


পাপিয়া দাস মজুমদার: চিন্তন নিউজ:১৯শে জুলাই:–ভুতুড়ে বিল আসছে আর তাই নিয়ে মানুষ জেরবার। যেখানে ১২০০(বারো’ শ’) টাকা বিল আসতো, সেখানে এখন ১২০০০(বারো হাজার টাকা বিল আসছে। ডিপার্টমেন্ট এর খুশী মতো বিল আসছে। সি ই এস সি কোলকাতার উপর, এস ই বি তে ও তাই বেশি নজরে আসছে।

এই বিষয়ে সিপিআই(এম) নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ভারতবর্ষে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুতের দাম পশ্চিম বাংলায়। এস ই বি -র চাইতে সি ই এস সি -র দাম আরও বেশি।

সি ই এস সি -র মালিক পক্ষ সরকারের ঘনিষ্ঠ হতে পারে, তারজন্য শাসক দল চুপ করে থাকতে পারে না। এরজন্য সি ই এস সি কে এ অধিকার দেওয়া যাবে না যে, ভুতুড়ে বিল বানিয়ে সাধারণ মানুষকে লুট করার।এমনিতেই এখন মানুষ অনেক বিপদের মধ্যে আছেন। একদিকে যেমন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, ঔষধের খরচ বাড়ছে তার সঙ্গে ভুতুড়ে বিল দিয়ে সাধারণ মানুষকে লুট করা হচ্ছে। তা মোটেই মানা যাবে না।

ইতিমধ্যে সরকারকে একাধিকবার এ ব্যপারে চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও কিন্তু সরকার নিরুত্তর।
২০০(দু’শো) ইউনিট অব্দি বিদ্যুতের দাম সারা বছরের জন্য দিল্লি, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলো যদি ছাড় দিতে পারে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে কেন ছাড় দিতে পারবেনা? অন্তত লকডাউন পিরিয়ডে পশ্চিম বাংলায় বিদ্যুৎ বিলে ছাড় দিতেই হবে। অথচ সরকার চুপ করে আছে, কিন্তু কেন এই চুপ?

সুজন বাবু এই ভুতুড়ে বিলের তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করেছেন, – এক নাম্বার হলো – ২০০(দুশো) ইউনিট অব্দি বিদ্যুতের দাম ছাড় দিতে হবে। দু নাম্বার – এইসব ভুতুড়ে বিল ছিড়ে ফেলতে হবে। আর তিন নম্বর – এইসব ভুতুড়ে বিল আসছে সেগুলো ইনস্টলমেন্টের মাধ্যমে দেবার কথা বলেছে দপ্তর, তার বিরোধিতা করে তিনি বলেছেন যে, সেই সব ভুতুড়ে বিল কোনো ইনস্টলমেন্টের মাধ্যমেই পেমেন্ট করা হবে না। আর এই যে লুট বানিজ্য চলছে তার বিরুদ্ধে সরকার কে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নিজের খেয়াল খুশী মতো সি ই এস সি ও এস ই বি চলতে পারে না। এ হেনো বিল বন্ধ করতে হবে। এই বিল দিতে না পারলে লাইন কেটে দেওয়া হবে যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা কিছুতেই মানা হবে না।

রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন বিশেষ করে ছাত্র যুবকেরা। বছরের পর বছর বিক্ষোভ করে চলেছে। সি ই এস সি -র অফিসে, এস ই বি -র অফিসে লাগাতার ডেপুটেশন বিক্ষোভ করে যাচ্ছে।

যদি সরকার তার দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করতে না পারে,বছরের পর বছর সি ই এস সি ও এস ই বি এই বিলের পরিমাণ বাড়াতে থাকে, তাহলে কোনো সন্দেহ নেই, সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ আছড়ে পড়বেই।

সি ই এস সি দপ্তরে কিংবা এস ই বি দপ্তরে হোক অথবা সরকারই হোক, তারা যেন এই বিক্ষোভকারীদের সামনা হ‌ওয়ার জন্য তৈরী থাকে। এটা সাধারণ মানুষ কখনো ছেড়ে দেবে না। ভুতুড়ে বিল করে লুট বানিজ্য চালিয়ে যাওয়া চলবে না। সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে জনগণ কে লুট করা – এটা কখনও মেনে নেওয়া যায় না, মেনে নেবো ও না।।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।