জেলা

২৬শে নভেম্বর, হুশিয়ারি ধ্বনিত হোক লক্ষ কন্ঠে


শান্তনু বোস: নিজস্ব প্রতিবেদন:চিন্তন নিউজ:২০শে নভেম্বর:- কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন গুলির ডাকে আগামী ২৬শে নভেম্বর সারা দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘটের রাস্তায় না যেতে হলেই ভালো হত। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক নীতি এই ধর্মঘটের রাস্তায় যেতে ট্রেড ইউনিয়ন গুলোকে এক প্রকার বাধ্য করলো। কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক নীতির জন্যেই দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যে সংকটের দিকে যাচ্ছে তার ইঙ্গিত অনেক আগেই পাওয়া গেছিলো। কোভিড১৯ পরিস্থিতি এই অর্থনীতির বেহাল অবস্থাকে আরও তরান্বিত করলো। কেন্দ্রীয় সরকারের এক একটা সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষকে ভয়ঙ্কর সংকটের সম্মুখীন করে দিয়েছে। করোনা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে অপরিকল্পিত ভাবে লকডাউন ঘোষণা করাটা সরকারের অদূরদর্শীতা ছাড়া আর কিছুই নয়। দেশের সার্বিক উৎপাদন তলানিতে এসে ঠেকেছে। স্বাভাবিকভাবেই কাজ হারিয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার অস্ত্র সরকারের হাতে ছিল না তা নয়। মাথাপিছু দশ কেজি করে খাদ্যশস্য সেই সব পরিবার গুলোর হাতে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারতো যে পরিবার গুলো আয়করের আওতার বাইরে আছে। শুধুমাত্র খাদ্যশস্য পৌঁছালেই হবে না। আনুষাঙ্গিক খরচ খরচার জন্যে অর্থের দরকার। আয়করের আওতায়র বাইরে থাকা পরিবার গুলোকে নগদ ৭৫০০ টাকা করে দেওয়া যেতে পারতো। এতে করে বাজারে টাকার জোগানটাও ঠিকঠাক থেকে অর্থনৈতিক অবস্থাকে ভেঙে পড়তে দিত না। গ্রামাঞ্চলে একশো দিনের কাজের প্রকল্পের জন্যে যে ষাট হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা আছে সেই একশো দিনের কাজের প্রকল্পকে বাড়িয়ে দু’শো দিনের কাজ করলে একশো কুড়ি হাজার কোটি টাকা খরচ হত এবং মানুষের হাতে টাকার জোগান থাকতো। কর্পোরেট কোম্পানিগুলোকে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার কোটি টাকা এই অর্থবর্ষে ডাইরেক্ট কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগামী দু’বছরের জন্যে এই কর ছাড় স্থগিত রেখে সাধারণ মানুষের জন্যে সেই টাকা খরচ করা যেতে পারতো। সেই সাধারণ মানুষ, যাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী “মন কি বাত” করে থাকেন। কিন্তু সেটা হওয়ার নয়। এই চৌকিদার আসলে কর্পোরেট পুঁজির পোষা চৌকিদার। আম্বানি পরিবারের বড়ভাইকে পৃথিবীর চতুর্থ ধনী ব্যক্তি তৈরী করাতেই ওনার আগ্রহ। সারাটা বছর জুড়ে সমস্ত মিডিয়ায় এই চৌকিদারের ভাবমূর্তি গঠনের জন্য যারা খরচ করে চলছে, খুব স্বাভাবিক ভাবেই এই চৌকিদার তাদের জন্যেই কাজ করবে। সাধারণ মানুষের জন্যে শুধুই ভাষণ।

এই সাধারণ ধর্মঘট কেবলমাত্র বিরোধীদের একটা কর্মসূচি নয়। এই ধর্মঘট সারা দেশ জুড়ে সেই সব শ্রমিকদের বিদ্রোহের চিৎকার, যাদের অধিকারকে ধূলিসাৎ করে জোরজবরদস্তি নতুন শ্রমকোড পাস করানো হয়েছে। এই ধর্মঘট সারা দেশ জুড়ে সেই সব কৃষকের বিদ্রোহের চিৎকার, যাদের উৎপাদিত ফসল ফোরেদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য করার কৃষি আইন পাস করানো হয়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব শিল্প গুলোকে ঢালাও ভাবে বেসরকারিকরণ করে সাধারণ মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মশাল জ্বালানোর জন্যেই এই সাধারণ ধর্মঘট। প্রত্যেকটি মানুষকে রাস্তায় নেমে এই ধর্মঘটের স্ফুলিঙ্গকে আগামী দিনের আন্দোলনের বহ্নিশিখায় পরিনত করতে হবে আগামী প্রজন্মের জন্যে একটা সুন্দর ভবিষ্যত গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে। আগামী ২৬শে নভেম্বর রাস্তায় রাস্তায় গর্জে উঠুক শত শত উদয়ন পন্ডিত। লক্ষ কন্ঠে ধ্বনিত হোক উদয়ন পন্ডিতের হুঙ্কার।
“অনাচার করো যদি
রাজা তবে ছাড়ো গদি
যারা তার ধামাধারি
তাদেরও বিপদ ভারি।”


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।