বিদেশ রাজ্য

কাটমানি ৯০লক্ষ!এর জন্য বাধ্য হয়ে চলে গেলেন অনাবাসী বাঙালি।


রত্না দাস :চিন্তন নিউজ:২২ শে আগস্ট:–কাটমানি ৯০লক্ষ।বাধ্য হয়ে চলে গেলেন অনাবাসী :—–
পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন নিয়ে আমরা নানান ভারী ভারী কথা শুনি।শিল্পায়নের জন্য হাজার হাজর কোটি টাকা ইনভেস্ট করা হচ্ছে।এই শিল্পায়নের ঢাক বাজানোর জন্য প্রতিবছর নিউটাউনে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন অর্গানাইজ করা হয়।এই সম্মেলনে বিদেশ থেকে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে তিনহাজার অতিথি আসেন এই ঢাক বাজানো শোনার জন্য।তারা হলেন ব্যাবসায়ী শিল্পপতি ও প্রবাসীরা সেখানে ভাষণ দেন মমতা ব্যানার্জি ও অমিত মিত্র।
পশ্চিমবঙ্গের বারোটা বাজে যখন সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়ানো হয়।এই টাটাকে তাড়ানোর ফলে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দশহাজার যুবক যুবতী তাদের কর্মসংস্থান হারায়।পশ্চিমবঙ্গে একটি অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠত।সেখানে মাহিন্দ্র,মারুতি,হোন্ডার মতো বিভিন্ন অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি আসতো।কিন্তু টাটাকে তাড়ানোর পর কোনো ভারী শিল্প গত আট বছরে আসেনি। কারণ পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে সার্বিক অবিশ্বাস।এই অবিশ্বাস গড়ে তোলার মূল কারিগর মমতা ব্যানার্জি নিজেই।
এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে মমতা ব্যানার্জি বিভিন্ন দেশে গিয়ে প্রবাসী বাঙালিদের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য নানান ভারী ভারী কথা বলেন।
সেই প্রবাসী বাঙালির একটি করুন অভিজ্ঞতার কথা —
রণজিৎ মুখার্জী,কলিকাতার বাসিন্দা । তিনি গত ৩০বছর যাবৎ লন্ডনে বসবাস করছেন।চাটার্ড একাউন্টার হওয়ায় তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরেছেন ও আমেরিকায় চাকরি করেন তিনবছর ও প্রচুর অর্থ উপার্জন।উনি ১৪ সালে কলকাতায় এসে কলকাতার জন্য কিছু করার কথা ভাবেন।এই ভেবে তিনি এখানে একটি পেইন ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে চান।বিভিন্ন বয়েসের মানুষ শরীরের নানা অংশ যেমন কোমর হাটু ঘাড় আর গাঁটের ব্যথায় ভোগেন।তার জন্য হাজার হাজার লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয় গরিবরা তো এর চিকিৎসাই করাতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গ সহ উত্তর পূর্ব ভারতের লোকেরা এর চিকিৎসা পান না।এটা গড়লে মানুষ নামমাত্র টাকায় চিকিৎসা পাবেন।
এই পেইন ম্যানেজমেন্ট কোনো সাইন্স ইনভেনশন নয় এটা একটা থিওরি, একটা কনসেেপ্ট ।।।এটা ডাক্তার রা জানেন কিন্তু তাদের এই ম্যানেজমেন্টের জায়গাটা তৈরী করে দেওয়া হয়নি।
এই কনসেপ্টটের কথা ভেবে তিনি কলকাতায় একটি পেইন ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে চান।তার এই ভাবনার কথা উনি কলকাতার এক শিল্পপতি বন্ধুকে জানান ও একটি জমির খোঁজ করতে বলেন।তারা ঠিক করে দুজনে জয়েন্ট শেয়ারে এই কাজটি করবেন।শিল্পপতি বন্ধু জমির খোঁজ শুরু করেন ও রুবির কাছেই পঞ্চসায়রে একটি ২০ কাঠা জমির খোঁজ পান।যার মূল্য ৩কোটি টাকা।তারা ঠিক করেন এই জমি কিনে ধাপে ধাপে কাজ এগোবেন আর সরকারি সব স্তরে চিঠি দেবেন।
এই ভাবনা চিন্তা যখন চলছে তখন তাদের কাছে উপস্থিত হয় বিধায়ক, পার্টির লোকজন,মাতব্বর মোড়ল ও ব্রোকাররা।তাদের দাবি এই জমি কিনে কাজ করতে গেলে তাদের দিতে হবে ৯০লাখ টাকা।কিন্তু তারা সেই টাকা দিতে কিছুতেই রাজি নয়।প্রয়োজনে তারা সেই প্রজেক্ট ছেড়ে চলে যাবেন।যখন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না তখন তাদের পরিচয় হয় অম্লান বসুর সাথে।যিনি মমতা ব্যানার্জীর খুব কাছের বৃত্তের লোক।দেখি কি করতে পারি বলে চলে যান।কিছুদিন বাদে তিনি জানান তারা দুটি শর্তে এই কাজটি করতে পারবে।১-সরকারের সাথে জয়েন্ট পার্টনারশিপে কাজ করতে হবে ২–পার্টি ফান্ডে বেশ কিছু টাকা দিতে হবে।তখন রণজিৎ বাবু জানান তিনি জয়েন্ট পার্টনারশিপে কাজ কোরতে রাজি কিন্তু পার্টি ফান্ডে কোন টাকা দিতে কিছুতেই রাজি নন।তখন অম্লান বাবু ভেবে দেখতে বলে চলে যান।পরে তাদের কাছে আর ফিরে আসেন নি।রণজিৎ বাবুও তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।এর কিছুদিন বাদে তিনি লন্ডনে নিজের কাজের জায়গায় ফিরে যান।
এই যে এখন কাটমানি নিয়ে এতো কথা হচ্ছে।এটা ঘটনাটা কিন্তু ২০১৪ সালের ব্যাপার।রণজিৎ বাবু লন্ডনে ফিরে যাবার আগে বার বার চিঠি দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জীর দফতরে।কিন্তু কোনো জবাব পাননি তিনি।অম্লান বসুর মতো লোকেরা যারা মমতার খুব কাছের লোক।তারাও পার্টি ফান্ডের জন্য টাকা চায় আর সেটা মমতা ব্যানার্জীর সায় আছে বলেই সম্ভব।আর এই কাটমানিতেই এই পার্টিটা চলে ।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।