রাজ্য

গ্রামের আলপথই রাস্তা রামপুরহাটের গোপালনগরে


রণদ্বীপ মিত্র, চিন্তন নিউজ, ১৬ জুলাই: স্কুল থেকে জুতো পেয়েছে সবাই। তবে পায়ে নয়, সেই জুতোর ঠাঁই হয়েছে বাড়ির কোঠায়। কারন জুতো পরে বাড়ি থেকে বেরোনো যে দায়! রাস্তা বলে তো কিছু নেই। এক হাঁটু কাঁদায় ভরা আলপথই যে কচিকাঁচাদের স্কুলে যাওয়ার একমাত্র পথ। সেই পথ মাড়িয়ে কাঁদায় লেপটা লেপটি করে জুতো পায়ে স্কুলে যাওয়া যায় না।

বীরভূমের রামপুরহাট-১ নম্বর ব্লকের খরুন গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালনগর গ্রাম। গরিব দিন আনা দিন খাওয়া আদিবাসীদেরই মূলত: বাস এই গ্রামে। স্কুল বলতে দেড় কিলোমিটার আল পথ পেরিয়ে ফরিদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় আর তিন কিলোমিটার দূরে চাকপাড়া বামদেব বিদ্যাপীঠ। বছরের অধিকাংশ সময় জমিতে চাষ হওয়ার ফলে আলপথে থাকে কাদা। সেই জলকাঁদা মাড়িয়েই স্কুলে যেতে হয় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সন্দীপ কিস্কু, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী পূর্ণিমা মুর্মুকে। তাদের কথায়, “জুতো পেয়েছি। কিন্তু পড়তে পারি না। খালি পায়ে স্কুলে যেতে হয়। কাদায় জুতো পড়ে চলা যায় না।’’

জল কাদার কারনে খালি পায়েই স্কুলের দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয় কচিকাঁচাদের। কখন কখন পা পিছলে পড়ে পোশাক নষ্ট করে বাড়ি ফিরতে হয়। এ এখন স্বাভাবিক ঘটনা গ্রামে। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা সুন্দরী কিস্কু বলেন, “গ্রামের রাস্তাঘাট নেই। গ্রামের বাইরে যেতে হলে আলপথই ভরসা। পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। কেউ এদিকে চেয়েও দেখে না। কেউ অসুস্থ হলে খাটিয়াতে চাপিয়ে এক কিলোমিটার পথ কাঁধে করে নিয়ে যেতে হয়।’’

গ্রামের এই দশায় ক্ষোভ সকলের মনে। বাসমনি কিস্কু, লক্ষীরাম টুডু , ফ্যান কিস্কু ক্ষোভের সাথে বলেন,‘‘ঘরে সাইকেল থাকলেো চালাতে পারি না। কাঁদা মেখে কাটছে জীবন। কবে নিস্তার পাব এই যন্ত্রনা থেকে জানি না।’’ এব্যাপারে খরুন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নমিতা দাস বলেন, “কেউ জায়গা দিতে চাইছে না। তাই রাস্তা করা যাচ্ছে না। তবে এ নিয়ে ফের আলোচনার মাধ্যমে রাস্তা করার চেষ্টা করব।’’


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।