বিদেশ

গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটের কবলে প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা।।             


চৈতালি নন্দী: চিন্তন নিউজ: ৬ই এপ্রিল:– চরম আর্থিক ও সামাজিক সঙ্কটের মধ‍্যে রয়েছে একসময়ের  স্বচ্ছল দেশ শ্রীলঙ্কা।  পরিস্থিতি এমনই যে সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট জি রাজাপক্ষে দেশের বিরোধীদের শাসকদলের সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। বলেন ঐক্যবদ্ধ শাসনই পারবে দেশেকে সঙ্কটমুক্ত করতে। কিন্তু সংসদে বিরোধী জোট সেই আবেদন খারিজ করে দেয় ও প্রেসিডেন্টের অপসারণ দাবি করে। এই পরিস্থিতিতে  শাসকদল সংখ‍্যাগরিষ্ঠতা হারায় এবং একাধিক সাংসদ ইস্তফা দেন।
                                            
আর্থিক সঙ্কট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করেছে শ্রীলঙ্কায়। । সরকারি নীতির প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে গণবিক্ষোভ। প্রতিবাদ দমনে বন্ধ সোস‍্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেট এবং বিরোধী দলের কার্যকলাপ। দেশজুড়ে চালু হয়েছে কার্ফু। ভয়ঙ্কর মূল‍্যবৃদ্ধির আগুনে পুড়ছে দেশ, যা  স্বাধীনতা উত্তরকালে সবচেয়ে তীব্র। নিঃশেষিত জ্বালানি ভান্ডার। খাদ‍্যদ্রব‍্য, ওষুধপত্র ,অমিল শিশুখাদ্য। স্বাস্থ্য পরিষেবা তলানিতে। পরিস্থিতি এমনই যে দিনে ১৩ ঘন্টা বন্ধ রাখতে হচ্ছে বিদ‍্যুৎ পরিষেবা, কাগজের অভাবে বন্ধ থাকছে পরীক্ষা ।

সঙ্কটের সূত্রপাত অতিমারীর সময় থেকে। গত জানুয়ারিতে মূল‍্যবৃদ্ধি ২৫% ছুঁয়ে রেকর্ড গড়েছিল। ২০২১ এর শেষে বিদেশি ঋনের পরিমাণ ছিল মোট আভ‍্যন্তরীণ উৎপাদনের ১১৯%। বিদেশি মূদ্রার সঞ্চয় কমে যায় ৭৫%। চলতি বছরের মধ‍্যে আন্তর্জাতিক ঋণ ও সুদ মিলিয়ে ৬৯০ কোটি ডলার ব‍্যায় করতে হবে শ্রীলঙ্কা কে, যা আপাতত শ্রীলঙ্কার কোষাগারে নেই। একদিকে আমাদানী নির্ভরতা ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা, অপরদিকে ভ্রান্ত সরকারী নীতি ও সীমাহীন দূর্নীতি এক গভীর সংকটের আবর্তের মধ‍্যে ফেলে দিয়েছে দেশটিকে। চেপে বসেছে বৈদেশিক ঋনের ফাঁস, যা থেকে মুক্তির পথ খুঁজে চলেছে শ্রীলঙ্কা।
    
বিরোধী শূন‍্য সরকার গড়ার প্রবণতা আর নিরঙ্কুশ  সংখ‍্যাগরিষ্ঠতা যে স্বৈরাচারী ক্ষমতার জন্ম দেয়, শ্রীলঙ্কা তা সমগ্র পৃথিবী কে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এরই ফলে একদা দেশের চোখের মণি রাজাপক্ষে আজ হয়ে উঠেছেন খলনায়ক।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।