রাজ্য

সংস্কারের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে মহম্মদ মহসীনের স্মৃতি


সুপর্ণা রায়, চিন্তন নিউজ, ৩ আগষ্ট: চুঁচুঁড়া চকবাজার সহ পুরো হুগলি জেলার অলিতে গলিতে দানবীর হাজী মহম্মদ মহসীনের নাম। কিন্তু পৌরসভার অবহেলায় মহম্মদ মহসীনের স্মৃতি বিজরিত স্থানগুলোর ভগ্নপ্রায় দশা। সরকারি তরফে তাঁর স্মৃতি সৌধ ইমামবাড়া ও তাঁর সমাধিস্থল সংষ্কারের অভাব সবার চোখে পড়েছে। দানবীর নামে পরিচিত মহম্মদ মহসীন তাঁর যে বিপুল সম্পত্তি ছিল, তা হুগলি জেলার উন্নয়নের কাজে ব্যয় করেছিলেন।

গঙ্গার পাড় ধরে হুগলি ইমামবাড়া যা অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মোটা মোটা খিলান দেওয়া লম্বা বারান্দা। ধর্ম সম্পর্কিত আলোচনার জন্য আছে বিশাল ঘর। সেই ঘরের দেওয়ালে লেখা আছে পবিত্র কোরাণের উপদেশ। ঘরের ছাদে ঝুলছে বেলজিয়াম কাঁচের এক বিশাল ঝাড় লন্ঠন।ইমামবাড়ার প্রবেশ দ্বারের উচ্চতা ১৫০ ফিট। চুড়ার মধ্যে আছে একটি ঘড়ি যা তৎকালীন সময়ে ১১ হাজার ৭২১ টাকা খরচ করে মীর কেয়ামৎ আলি বিলেত থেকে আনিয়েছিলেন। বিশালাকৃতি এই ঘড়িটি ইমামবাড়ার বাইরে এবং ভেতর দুজায়গা থেকেই দেখা যায়। ঘড়িটির তিন পাশে লাগানো আছে বিশালাকৃতি তিনটি ঘন্টা। প্রতি পনের মিনিট অন্তর ঘন্টাগুলি শব্দ করে সময় জানান দেয়।

গঙ্গার তীরবর্তী ইমামবাড়া ও তাঁর স্মৃতি সৌধ সরকারি অবহেলায় আজ নষ্ট হতে বসেছে। হেরিটেজ কমিশন কিছু বছর আগে এর কিছুটা সংষ্কার করেছিল কিন্তু আজ প্রায় ভগ্নদশা বহু ইতিহাসের সাক্ষী এই ইমামবাড়ার। ইমামবাড়ার উত্তর দিকের অংশ প্রায় ভেঙে পড়েছ। গম্বুজ গুলোতেও ফাটল ধরেছে । যেকোন মুহুর্তে এগুলো ভেঙে পড়বে। পৌরসভা জানিয়েছে ইমামবাড়া কতৃপক্ষের সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে এর সংষ্কার সাধন করা হয়ে উঠছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ হোসেন জানিয়েছেন যে দানবীর মহম্মদ মহসীনের সমাধিস্থলের অবস্থা খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। অনেক তর্ক বিতর্কের পর পৌরসভা কিছু টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল, কিছুটা কাজ হয়েওছিল। তারপর কোন এক অজানা কারনে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। অবহেলায় পড়ে আছে দানবীরের ইমামবাড়া ও স্মৃতিসৌধ।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।