বিদেশ

মালির নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে


কি়ংশুক ভট্টাচার্য:চিন্তন নিউজ:১৯শে আগস্ট:- পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহী সেনারা। আটক করেছে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে

বামাকো থেকে পনেরো কিলোমিটার দূরের কাটি সামরিক ঘাটির দখল নেওয়ার পর বিদ্রোহী সৈনিকরা রাজধানীতে চলে আসে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী কেইতার পদত্যাগের দাবিতে জমায়েত ঐ বিদ্রোহী বাহিনীকে স্বাগত জানায়।
মালির কাটি সামরিক ঘাটির ডেপুটি কমান্ডার কর্নেল মারিক ডিয়াউ এবং জেনারেল সাদিও কামারা এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে বিবিসি সূত্রে জানা গিয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরের পর তারা রাষ্ট্রপতির বাসভবনে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে থাকা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করে নেয়।
রাষ্ট্রপতির ছেলে, মালির জাতীয় সংসদের অধ‍্যক্ষ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকে সহ যাঁরা ঐ সময় ঐ ভবনে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের সবাইকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।যদিও এখনো পর্যন্ত এই বিদ্রোহে দেশের কতো সৈনিক অংশ নিয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।

দু’হাজার বারো সালেও এই কাটি সামরিক ঘাটিতে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছিল, তখন জিহাদিদের ঠেকাতে সিনিয়র কমান্ডারদের ব্যর্থতা আর উত্তর মালিতে তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব‍্যর্থতা এবং বেতন কাঠামো নিয়ে সৈন‍্যবাহিনী দীর্ঘদিন যাবৎ বিক্ষুব্ধ।

টেলিভিশন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বোউবাকার কেইতা বর্তমান সরকার ও সংসদের বিলুপ্তি ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণায় তিনি বলেছেন,”আমাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য কোনরকম রক্তপাত হোক, সেটা আমি চাই না,”

এর আগে তাঁকে ও দেশের প্রধানমন্ত্রী বোউবোউ সিসেকে আটক করে রাজধানী বামাকোর একটি সামরিক ক্যাম্পে নিয়ে যায় বিদ্রোহী সৈনিকরা। বিদ্রোহীরা ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ ও ফ্রান্সের হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছেন। সরকারি দূরদর্শন মাধ‍্যমে রাষ্ট্রপতি তাঁর জাতির উদ্দেশ্যে শেষ সম্প্রচারে বলেছেন,
”যদি আজ আমাদের সেনাবাহিনীর একটি নির্দিষ্ট অংশ নিজেদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই ব‍্যাবস্থার সমাপ্তি টানতে চায়, তাহলে আমার সামনে কি সত্যিই আর কোন বিকল্প আছে?”

মালির সৈন্যদের মধ্যে বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষ এবং জিহাদিদের সঙ্গে অব্যাহত লড়াই নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। সেই সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্টের ওপরেও অনেকে সন্তুষ্ট নন।

দুইহাজার আঠারো সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো বিজয়ী হন কেইতা, কিন্তু দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় তার ওপর দেশেজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বেশ কয়েকবার বড় ধরণের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রক্ষণশীল মুসলমান ইমাম মাহমুদ ডিকো নেতৃত্বাধীন নতুন একটি জোট দেশে সংস্কারের দাবি তুলেছে। তাকে রাষ্ট্রপতি কেইতা যৌথ সরকার গঠন করা সহ নানা প্রস্তাব দিলেও তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই ধরনের অবস্থার মধ‍্যে দেশে আবার এই অভ‍্যূত্থান নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি করলো।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।