শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

শিশুদের দীর্ঘক্ষণ টিভি দেখা চোখের পক্ষে সর্বনাশের মূল কারণ।


সূপর্ণা রায়:চিন্তন নিউজ:১৫ই মার্চ:—বাচ্চাদের দীর্ঘক্ষণ টি ভি দেখা চোখের সর্বনাশের মূল কারণ। বাচ্চা খেতে চাইছে না, কোন কিছু নিয়ে তুমুল বায়না ধরেছে, মন খারাপ, সবসময় এই সমস্যার সহজ সমাধান টিভি চ্যানেলের পছন্দের অনুষ্ঠান চালিয়ে দেওয়া।অশান্ত বাচ্চাদের বাগে আনার এটাই সহজ উপায়।। তবে এটা জেনে রাখা দরকার, দীর্ঘক্ষণ টিভি দেখলে আখেরে চোখের ক্ষতি আপনার আদরের সন্তানটির।।

কোন কিছু দেখার নেপথ্যে রয়েছে মস্তিষ্কের এক বিশাল ভূমিকা।।আর ছোটবেলায় মস্তিষ্ক দেখার অভ্যাস তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।এই সময় বাচ্চা কি দেখছে , কিভাবে দেখছে তার উপর চোখের পাওয়ার নির্ভর করে।।। মস্তিষ্ক কেবল চোখের সামনে কিছু দেখার বার্তা পেতে থাকে।।বেশ কিছুদিন এমন চললে বেড়ে যেতে পারে চোখের আয়তন। তখন বাচ্চাদের দূরের জিনিস দেখতে অসুবিধা হয়।।এই অসুখকে মায়োপিয়া বা মাইনাস পাওয়ার আসা বলে।। প্রতিদিন এই সমস্যা বেড়ে চলেছে বাচ্চাদের ।। তার চেয়েও বড় কথা গ্রামের থেকে শহরের বাচ্চাদের এই রোগের প্রকোপ বেশি।।

বাচ্চা দের চোখের কর্নিয়া শুকিয়ে যায় দীর্ঘক্ষণ চোখের পাতা না ফেললে।।এই সমস্যা কে বলে ড্রাই আইজ।।এই রোগের লক্ষণ হ’ল চোখ কড়কড় করা,চোখে ব্যথা,চোখে জল ভরে আসার মতো সমস্যা দেখা দেয়।। আগে সবাই জানত বড়দের এই ড্রাই আইজ এর সমস্যা হয় কিন্তু বাস্তবে বাচ্চাদের টিভির প্রতি আসক্তি বেড়ে যাওয়ায় ফলে বেশি মাত্রায় বাচ্চাদের এই রোগ হচ্ছে।।তাই বাচ্চাদের ক্ষেত্রে টিভি দেখার বিষয়ে রাশ টানতে হবে।। ৩০ মিনিটের বেশি কিছুতেই টিভি দেখতে দেওয়া চলবে না।।

তবে প্রশ্ন উঠছে এই যে বাচ্চারা টিভি দেখছে এটা কি শুধু বাচ্চাদের দোষ? বাবামা কি বাড়ির গুরুজনরা কি কোন ভাবেই দায়ী নয়??? শুধু টিভি কে দোষী করে কি হবে??? এখন ঘরে ঘরে মোবাইল,ট্যাব।।সবকটি যন্ত্র ব্যবহার বাচ্চা দের হাতের মুঠোয়।।গেম খেলা ,নেট সার্ফিং চলছে ঘন্টার পর ঘন্টা।।। বাচ্চাদের চোখের সুরক্ষায় ওই ৩০ মিনিট টাইম বেঁধে দিতে হবে।। কিন্তু আজকের দিনের বাচ্চারা বাবা মায়ের বেঁধে দেওয়া টাইম মেনে কেন চলবে?? অভিভাবক রাই তো কাজের প্রয়োজনে ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটার , মোবাইলে ব্যস্ত।। অভিভাবকদের একটুখানি বুঝতে হবে।। বাচ্চা তো ঘুমাবে সেইসময় প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ফেলতে হবে।। আজকাল বাচ্চাদের বাড়ির বাইরে যাওয়ার সুযোগ সুবিধা পায় না। চোখে পড়ে না সূর্যের আলো।। ফলে বাচ্চাদের চোখের মাইনাস পাওয়ার বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।। সকালে সম্ভব হলে বাচ্চাকে রোদের মধ্যে খেলতে দেওয়া প্রয়োজন।। এতে মানসিক ও শারীরিক লাভ মিলবে।। বাচ্চাকে বাড়ির জানালা দিয়ে দূরে গাছের ডালে আটকে থাকা রঙিন ঘুড়ি দেখান। দূরে তাকালে বাচ্চাদের চোখ খুব ভালো থাকে।। ভিটামিন ও মিনারেলে ভরপুর সিজিনের ফল খাওয়ান বাচ্চাদের।।আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতি ৬ মাস অন্তর বাচ্চাদের চোখের সুরক্ষায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।।__


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।