বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব


শাশ্বতী ঘোষাল, চিন্তন নিউজ, ১ জুন: মঙ্গল গ্রহের রুক্ষ লাল মাটিতে পাওয়া গেল “সালফিউরি হাইড্রোজেনিবিয়াম ইয়েলোস্টোনেন্স” নামে এক ধরণের ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান। যা পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের মধ্যে “কমন ফ্যাক্টর”। এই কাবাকা বা সর্পিল পাথরের সারি যা দেখলে মনে হবে থরে থরে সাজানো পাস্তা। এই ব্যাকটেরিয়ার হদিস পাওয়া গেছে মঙ্গল গ্রহের লাল মাটিতে। আর এ থেকেই বৈজ্ঞানিকরা নিশ্চিত হয়েছেন মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব আছে।
ব্যাকটেরিয়ার নামটি অবশ্য সংক্ষিপ্ত করণ করে “সালফিউরি” দেওয়া হয়েছে।
এই সালফিউরির কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা জানিয়েছেন আমেরিকার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্রুস ফক —-
বৈশিষ্ট্য গুলি হলো
১.প্রচণ্ড গরমেও এই ব্যাকটেরিয়া নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে। তাই বেশির ভাগ সময় এর সন্ধান পাওয়া যায় ফুটন্ত ভৌমজলের মধ্যে।
২.সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির কোনো প্রভাব এই ব্যাকটেরিয়ার ওপর পড়ে না।
৩.পরিবেশে অক্সিজেনের পরিমাণ স্বল্প হলেও এই ব্যাকটেরিয়া বেড়ে উঠতে পারে। কারণ এটি পুষ্টি সঞ্চয় করে সালফার এবং কার্বন-ডাই অক্সাইড থেকে।
এই সমস্ত কিছুর অনুকূল পরিস্থিতির কারণেই সালফিউরি নামে এই ব্যাকটেরিয়া পৃথিবী ও মঙ্গল এই দুই গ্রহেই নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
অধ্যাপক ব্রুসের মতানুসারে পৃথিবীতে এই ব্যাকটেরিয়ার আগমন ঘটে পঁয়ত্রিশ বিলিয়ন বছর আগে যখন পৃথিবীতে অক্সিজেনের সঞ্চার ঘটে। একটি বিশেষ ধরণের পাথরের সৃষ্টি সহায়ক এই ব্যাকটেরিয়া সংঘবদ্ধ ভাবে স্তরে স্তরে ঠিক যেন প্লেট ভর্তি পাস্তার মত রূপে অবস্থান করে।
আবার অন্য দিকে নাসার খবর অনুসারে মঙ্গলে অভিযান চালিয়ে কিওরিওসিটি রোভারের হাতে এই প্রথম এল সর্বাধিক পরিমাণ কাদামাটি। তিনি লাল গ্রহের ক্লে-বিয়ারিং ইউনিট এলাকায় অ্যাবারলেডি এবং কিলমারি নামের দুই প্রজাতির শিলাজমিতে সম্প্রতি খনন কার্য চালিয়েছেন। ১২ ই মে লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে নাসার তরফে জানানো হয়েছে।
গ্রহের উত্তর দিকে হেমাটাইটের হদিশ মিলেছে বলেও জানানো হয়েছে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।