দেশ রাজ্য

১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে বড়সড় পরিবর্তন


মল্লিকা গাঙ্গুলী, চিন্তন নিউজ, ২৪ জুলাই: হঠাৎ করেই রাজ্যের একশ দিনের কাজ প্রকল্পে বড়সড় বদলের নির্দেশিকা জারি হলো। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর ১০০ দিনের কাজের নিয়ম পরিবর্তন করে জানিয়ে দিয়েছে, ব্যক্তিগত পুকুর সংস্কার, মাটি কাটা, মাটি ফেলা, সেচখালের বাঁধ উঁচু করা, নদীর বালি তোলা, মাটি ফেলে রাস্তা উঁচু করা বা রাস্তায় মোরাম ফেলার মত যেসব কাজে যথাযথ সংস্কার চোখে পড়ে না, সেই সব কাজ বাতিল ক’রে এখন থেকে স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি হয় এমন কাজে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পঞ্চায়েত দপ্তর স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি হয় এমন কাজের তালিকাও দিয়ে দিয়েছে। এই তালিকায় আছে ঢালাই রাস্তা তৈরি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরি, বাংলা আবাস যোজনায় নির্মিত গৃহে শৌচাগার নির্মান, নদীবাঁধ ঢালাই ইত্যাদি কাজ। এই তালিকায় বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে ব্যক্তিগত বনসৃজনে। কোন ব্যক্তি যদি চারাগাছ লাগান তবে সেই চারাগাছ রক্ষনাবেক্ষনের জন্য নিযুক্ত ব্যক্তি ও ১০০দিনের প্রকল্প থেকে মজুরি পাবেন।

২০০৫ সালে এই ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পটি চালু হয় একটি মানবিক উদ্দেশ্য নিয়ে। তৎকালীন সরকার চেয়েছিল গ্রামের যেসব ক্ষেতমজুর প্রতিদিন কাজ পায় না তারা অন্তত বছরে একশ দিন কাজ করে রোজগার করতে পারবে। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরে মধ্যে দেখা গেল মজুরের মজুরির নামে চলছে অবাধ লুঠ আর তা মূলত মাটি কাটার কাজেই বেশি।

পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্তাব্যক্তিদের বিবৃতি অনুযায়ী, একশ দিনের কাজের দুর্নীতি রুখে কেন্দ্র সরকার এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা আনতে চাইছে। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যৌথ ভাবেই এই প্রকল্পে স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় শ্রমনিবিড় কাজগুলি বাদ দেওয়ার মূল কারন হলো, পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত গুলি মাটি কাটার কাজেই বেশি অর্থ বরাদ্দ করত। কুমির ছানার গল্পের মত একই কাজ বারবার দেখিয়ে পকেট পূর্তির চক্রান্ত চলছিল। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষেও যে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে তাতেও আগের মতোই মাটি কাটার কাজ অন্তর্ভূক্ত করা হলেও নতুন নির্দেশিকায় তা আর হবে না, আবার নতুন করে কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে।

এই নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েতের সঙ্গে যুক্ত কর্তা ব্যক্তিরা ভীষণ ক্ষুব্ধ! কারন হিসাবে তারা অবশ্য দেখাতে চান, এতে বেশির ভাগ জবকার্ডধারী নতুন কাজে দক্ষতা না থাকায় কাজ পাবে না। এবং শ্রমদিবস সৃষ্টির লক্ষ্য মাত্রা পূরণ করাও সম্ভব হবে না। গ্রামোন্নয়ন দপ্তর এই প্রাথমিক অসুবিধার কথা মেনে নিয়েও তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন দপ্তর বিশেষ ভাবে বর্ধমান এবং হুগলি জেলার কাজ পর্যবেক্ষণ করে বিস্তর ফাঁক লক্ষ্য করে। দেখা যায় কাজ না করেই পঞ্চায়েত মজুরির টাকা তুলে নিয়েছে অথচ দরিদ্র শ্রমিকরা বঞ্চিত হয়েছে।

কেন্দ্র সরকারের একশ দিনের কাজের স্বচ্ছতা আনার এই প্রচেষ্টা কতটা আন্তরিক এবং আদৌ সফল হবে কিনা তা সময় বলবে। তবে বর্তমান রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েতগুলির দুর্নীতিতে রাশ টানার এই নতুন নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শাসক শ্রেণীর উপর বাড়তি চাপ বলে ধরা যেতেই পারে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।