কলমের খোঁচা

করোনা আবহে অতিক্রান্ত হ’ল আন্তর্জাতিক মাতৃদিবস


কাকলি চ্যাটার্জি:চিন্তন নিউজ:১১ই মে :– , মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার। আমাদের জীবনের প্রিয় আধার , ভরসার প্রথম ও শেষ জায়গা মা। জীবনের শিক্ষাগুরু যাঁর প্রভাবে প্রভাবিত হয় শিশুমন, আমৃত্যু ছায়া ফেলে তাঁর সুখস্পর্শ। কেবলমাত্র বিশেষ একটা দিন নয় তাঁদের জন্য উৎসর্গ করা উচিৎ জীবনের প্রতিটি দিন। কোনো আনন্দের মূহুর্তে প্রথমেই মনে পড়ে মা এর খুশী মুখ আবার তেমনি চরম দুঃখের সময় শেষ আশা জোগান মা, একমাত্র তাঁর সঙ্গেই ভাগাভাগি করে নেওয়া যায় যে কোনো সমস্যা, সঠিক সমাধান তাঁর দেখানো পথেই মেলে। এক কথায় জীবনের শ্রেষ্ঠ বন্ধু মা, যাঁর কোনো বিকল্প হয় না।

বিশেষ ভাবে মনে রেখে স্মরণ করার জন্যই বিভিন্ন ধরনের দিবসের অনুষ্ঠান। শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কোনো আড়ম্বর নয়, আন্তরিকতা প্রাধান্য পাওয়া উচিত। লোকদেখানো, চোখধাঁধানো জৌলুস নয়, নীরবে যদি কারোর প্রয়োজনে পাশে দাঁড়িয়ে হাসি ফোটানো যায় তার থেকে বড় আনন্দের আর কিছুই হয়না।

একটু অন্যরকম এক মাতৃদিবস পালন করলেন কামারহাটির সি পি আই (এম) কর্মী শুভ্র সেনগুপ্ত।লকডাউনের মধ্যেই প্রয়াত হন তাঁর মা। সদ্য মাতৃহারা শুভ্র মায়ের স্মৃতি কে সম্মান জানিয়ে ওড়িশার ভদ্রকের ২৯ জন শ্রমিক কে বাড়ি ফেরানোর দায়িত্ব তুলে নেন। এই ২৯ জন কর্মীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা এতদিন করেছেন এলাকার বামপন্থী দল ও ছাত্র যুব সংগঠন। এবার বিধায়ক মানস মুখার্জির সহায়তায় নবান্নের অনুমোদনক্রমে রবিবার সকালে ভলভো বাসে তুলে দেওয়া হয় ঐ কামারহাটির টেক্সম্যাক্সো নগরে আটকে পড়া ২৯ জন শ্রমিক কে। সঙ্গে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় খাবার, জল এবং স্যানিটাইজার। এর আগেও শুভ্র সেনগুপ্ত মায়ের ‘শ্রাদ্ধ’র কাজের অর্থ তুলে দিয়েছেন প্রবর্তক জুটমিলের ৫০ টি শ্রমিক পরিবারকে।

অভিনন্দন, সেলাম শুভ্র সেনগুপ্তকে। যেভাবে বিভিন্ন দিবসের বাণিজ্যিকীকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে সেখানে এই ধরণের প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আগামী দিনে এই ধরনের উদ্যোগে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ এগিয়ে এসে সত্যিকারের অর্থবহ করে তুলুন আন্তর্জাতিক ভাবে পালনীয় দিনগুলোকে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।