দেশ

যাত্রী পরিষেবা নয়, মুনাফায় নজর ভারতীয় রেলের


চৈতালী নন্দী:চিন্তন নিউজ:২৯শে এপ্রিল:- শুধুমাত্র লকডাউন ওঠার অপেক্ষা, ভারতীয় রেল তৈরি হচ্ছে এক বিপুল রদবদলের জন‍্যে। অধিক মুনাফার আশায় তুলে দেওয়া হতে পারে স্বল্প দূরত্বের ট্রেন। তার পরিবর্তে বেশী গুরুত্ব আরোপ করা হতে পারে পণ‍্যবাহী ট্রেনের উপর। শুধু তাই নয় যাত্রীবাহী ট্রেনের বরাদ্দ সময় কাটছাঁট করে সেই সময় ভবিষ্যতে দেওয়া হতে পারে পণ‍্যবাহী ট্রেনগুলিকে।

বর্তমানে লকডাউনের কারনে বন্ধ যাত্রীবাহী ট্রেন, শুধুমাত্র চলছে পণ‍্যবাহী মালগাড়ি। লকডাউন উঠলে ফের আগের মতো যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। রেলের তরফে একটি সমীক্ষায় কয়েকটি প্রশ্ন উঠে এসেছে।

বলা হচ্ছে স্বল্প দূরত্বে এখন মানুষ বাস অথবা ছোট যানবাহনে বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আবার অন্য দিকে বেশি দূরত্বে চায় বিমান পরিষেবা। শুধুমাত্র মাঝারি দূরত্বের জন‍্যেই গুরুত্ব পাচ্ছে রেল পরিষেবা। ফলে লকডাউন উঠলে কোপ পড়তে পারে স্বল্পদৈর্ঘের ট্রেন যাত্রার উপর। বাড়ানো হতে পারে ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের মতো ট্রেন গুলির সংখ্যা।

এখন রেলের আর্থিক অবস্থা দূর্বল। সরকারি ভূল নীতির ফলে ‘ভেন্টিলেশনে’ চলে গেছে ভারতীয় রেল। আয় ব‍্যায়ের অপারেটিং রেশিও অনুযায়ী কোনো সংস্থার আর্থিক স্বাস্থ্য নির্ধারিত হয়। সংস্থার অপারেটিং রেশিও কম হলে সংস্থাটির আর্থিক অবস্থা ভালো বলে ধরা হয় ২০১৭/১৮ সালে রেলওয়ের অপারেটিং রেশিও ছিল ৯৩.৩%,অর্থাৎ ১০০ টাকা আয় করতে খরচ হয় ৯৩.৩০ পয়সা।

মূলত পণ‍্য পরিবহনই রেলের লাভজনক প্রকল্প। যাত্রী পরিষেবা চলে ভর্তুকি দিয়ে। এবছর আর্থিক মন্দার কারনে হ্রাস পেয়েছে পণ‍্য পরিবহন, যার কুপ্রভাব পড়েছে অপারেটিং রেশিও র উপর। এই পরিস্থিতিতে মুনাফা বাড়াতে যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যা কমিয়ে বাড়ানো হতে পারে পণ‍্যবাহী ট্রেনের সংখ্যা।

আশা করা হচ্ছে যার বিপুল লাভ ঘরে তুলবে ভারতীয় রেল, যা স্বাস্থ্য ফেরাবে সরকারি কোষাগারের। ভারত একটি জনকল‍্যাণকামী দেশ। ভারতীয় রেল বরাবরই একটি জনমুখী প্রতিষ্ঠান। সেখানে আজ শুধুমাত্র মুনাফার দিকে দৃষ্টি রেখে ব‍্যবসায়িক স্বার্থে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা মানুষের স্বার্থ বিঘ্নিত করবে না তো!


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।