দেশ বিদেশ

৩৭০ ধারা বিলোপ করে আন্তজার্তিক চাপের মুখে ভারত


মল্লিকা গাঙ্গুলী, চিন্তন নিউজ, ৯ আগষ্ট: হঠাৎ করে মোদি সরকার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করার ফলে ঘরে বাইরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। চিরকালই কাশ্মীর সমস্যার মূলে আছে পাকিস্তান। স্বাভাবিক ভাবেই কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের এত বড় সিদ্ধান্ত পাকিস্তান মেনে নেবে না এটা জানাই ছিল।

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এতদিন নানা ভাবে যে মৌখিক হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন এবার তার বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে সমঝোতা এক্সপ্রেস এবং আকাশ সীমা বন্ধ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তারা দিল্লির বদলা নিতেই এমনটা করেছে। ইসলামাবাদ কাশ্মীর ইস্যুর জন্যই ভারতের সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক এবং বানিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে। এমনকি ভারতীয় হাই কমিশনারকেও ভারতে ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও একধাপ এগিয়ে ইমরান সরকার আগামী ১৫ই আগস্ট পাকিস্তানে কালা দিবস পালনের ডাক দিয়েছে। পাকিস্তান এও হুমকি দিয়েছে যে তারা কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার বিষয়টি আন্তজার্তিক মঞ্চে তুলে ধরবে। শুধু পাকিস্তান নয় চীনও কাশ্মীর ইস্যুতে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। চীন পাকিস্তানকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতেও মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ।

যদিও ভারত চীনকে পাত্তা না দিয়েই পাকিস্তানকে তাদের অবস্থান জানিয়ে বলেছে, কাশ্মীর ইস্যু ভারতের সম্পূর্ণ আভ্যন্তরীণ বিষয়, অন্য কোনো দেশেরই এ নিয়ে কথা বলার কিছু নেই। ইসলামাবাদ বা চীনকে কড়া বার্তা দিলেও ৩৭০ ধারা বিলোপ বিষয়টি আন্তজার্তিক মঞ্চে বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ায় ভারত যথেষ্ট চাপে পড়েছে।

একদিকে পাকিস্তান বানিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, অপরদিকে জাতিসংঘেও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতকে কড়া বার্তা দিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে বিশেষ মর্যাদা হ্রাস, সীমান্তে সেনা বাড়ানো, কাশ্মীরের রাজনীতিবিদ তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের গৃহবন্দি ইত্যাদি আচরণের কড়া সমালোচনা করে বলেন এই আচরণ মানবাধিকারকে বিঘ্নিত করছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরে ভারত সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা জনগনকে গণতান্ত্রিক বিতর্কের সুযোগ দিচ্ছে না, যা গনতন্র ও মানবাধিকার বিরোধী। আবার ৩৭০ ধারা বিলোপ বিষয়টির জন্য মোদি সরকার দেশের জনগণের কাছেও নানা প্রশ্নের সম্মুখীন। কারন, কাশ্মীর ইস্যুর কারনে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ কালীন পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারতের অর্থনীতির সমূহ ক্ষতি। দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে সহমত নয়। ফলে পাকিস্তান যদি সত্যিই যুদ্ধ ঘোষণা করে তবে যুদ্ধ মোকাবিলায় মোদি সরকার কতটা জন সমর্থন পাবে সেটা ও প্রশ্নের মুখে। আবার জাতিসংঘের মত প্রতিষ্ঠান যদি কাশ্মীর ইস্যুতে চীনের মদতে পাকিস্তানকে সমর্থন করে তবে তা ভারতের ক্ষেত্রে যথেষ্ট চিন্তার বিষয়।

মোদি সরকার যথেষ্ট চিন্তা ভাবনা না করে এবং সংসদের সমস্ত বিরোধী দলের মতামত না নিয়ে অগণতান্ত্রিক ভাবে কাশ্মীরের মত এমন জটিল গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ৩৭০ ধারা বিলোপ করলেন, অথচ অন্যান্য বিশেষ মর্যাদার রাজ্য গুলি বাদ দিয়ে যে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা আভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গে আন্তজার্তিক মহলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মোদি সরকারের এই পদক্ষেপ ভারতবাসীর ক্ষেত্রে এক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কিভাবে এই দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে সেটাই দেখার!


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।