রাজ্য

১২ বছরেও সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ । মুর্শিদাবাদের সুতি ব্লকের সমস্যাক্লিষ্ট মানুষের ক্ষোভ ।


শাশ্বতী ঘোষাল, চিন্তন নিউজ ,৯ই মার্চ:– মুর্শিদাবাদের সুতি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে পাগলা নদী। বর্ষায় সে নদী জলে ভরে যায়। এলাকার মানুষেরা পড়ে ঘোর সমস্যায়। এ সমস্ত বিবেচনা করেই জঙ্গীপুরের তৎকালীন সাংসদ প্রণব মুখোপাধ্যায় ২০০৮ সালে সুতি ব্লকের নাজিরপুর থেকে পারাইপুরের মধ্যে ৪টি সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন। শিলান্যাস ও হয়ে যায়। ঐ এলাকার পাকা রাস্তা ও সেতুর জন্য তিনি ৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত মাত্র একটি সেতুর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। আরো তিনটি সেতুর কাজ শুরু হলেও শেষ হয় নি। কুসুমগাছি থেকে কেবি রোড পাড়াইপুর ও বংশবাটি এলাকার তিনটি সেতু শুরু হলেও একমাত্র বংশবাটি এলাকার সেতুটি ই সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকীগুলি অসমাপ্ত।

সুতি ব্লকের মানুষদের তাই সমস্যাকে সঙ্গী করেই জীবন যাপন করতে হয়। বর্ষাকালে এ সমস্যা আরো দ্বিগুণ হয়ে যায়। কারণ এ সময় সুতি ব্লকের হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েত বিস্তীর্ণ এলাকা অন্যান্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কার্যত প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছাতে বিলম্বের কারণে রোগীর মৃত্যু ও ঘটে।

স্থানীয় মানুষের দাবী দ্রুত ঐ বাকি তিনটি সেতু নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করা হোক। স্থানীয় হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান নিবেদিতা ঘোষ জানিয়েছেন আপাতত মাটি ফেলে একটি অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করে যাতায়াতের সমস্যার কিছুটা সমাধান করা হয়েছে। হাড়োয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি গোলাম নবি আজাদ জানিয়েছেন যে জঙ্গিপুরের কংগ্রেস সাংসদ খলিলুর রহমানকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত সেতু তৈরির কাজ শেষ করা হবে।

যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতা সুজিত দাস শ্রম দফতরের মন্ত্রী জাকির হোসেনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে জানিয়েছেন কাটমানি ও ঠিকাদারির প্রকোপে সেতু তৈরির কাজ বন্ধ হয়ে আছে। রাজা আসে রাজা যায়, ক্ষমতার হাতবদল হয় ।দীর্ঘ বারো বছরেও সুতি ব্লকের সমস্যার সমাধান আর হয় না। সেতুর কাজ অসমাপ্ত হয়েই পড়ে থাকে। আজও এলাকার মানুষেরা আশায় আছে সত্বর সেতুর কাজ শেষ হবে। সমাধান হবে তাদের অবাধ যাতায়াতের সমস্যা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।