রাজ্য

সরকারি হাসপাতালে সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু মিছিল।



রত্না দাস: চিন্তন নিউজ:২৫/০৬/২০২৪:- ‘স্পেশাল নিউ বর্ণ কেয়ার ইউনিট’ সংক্ষেপে এস এন সি ইউ, ২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে অসুস্থ নবজাতকের চিকিৎসার জন্য তৈরী হয় বিভিন্ন স্বনামধন্য সরকারী হাসপাতালে কিন্তু সম্প্রতি সকলের সামনে এসেছে সদ্যোজাতের মৃত্যুর উদ্বেগ জনক পরিসংখ্যান, যেখানে দেখা যাচ্ছে বি সি রায় হাসপাতালেই শিশুমৃত্যু সর্বাধিক। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে এস এন সি ইউ – এ মৃত্যু প্রায় ২৩’৬২ শতাংশ। সংখ্যার হিসেবে ১৩ হাজার। স্বাস্থ্য দফতরের সূত্র অনুযায়ী রাজ্যের মোট ২২ টি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে এস এন সি ইউ গুলিতে রাজ্যের মধ্যে সব থেকে বেশি সদ্যজাতর মৃত্যু হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এস এস কে এম,কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ।

সম্প্রতি ইউনিসেফের রিপোর্ট যেটা সামনে এসেছে তা আরো মারাত্মক এবং তার ফলে যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে স্বাস্থ্যকর্তারা কারণ এস এন সি ইউ এর উন্নয়ন ও পরিচালনায় প্রদত্ত সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত অন্তত ২১ টি হাসপাতালের এই ইউনিটের জন্য বরাদ্দ অর্থের কানাকড়িও খরচা হয়নি।সেই তালিকায় রয়েছে বি সি রায় শিশু হাসপাতাল, এস এস কে এম সহ কলকাতার একাধিক প্রথম সারির মেডিক্যাল কলেজ।

প্রশ্ন হলো- যে হাসপাতাল গুলোতে সদ্যোজাত মৃত্যুর হার বেশি সেখানে পরিকাঠামো উন্নয়নের টাকা খরচ হলো না কেন?
পশ্চিমবঙ্গে এস এন সি ইউ গুলির দায়িত্বে থাকা আধিকারিক পম্পা চক্রবর্তীর এ বিষয়ে বক্তব্য “আমার কিছু বলার এক্তিয়ার নেই। যা বলার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলবেন।” রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা কৌস্তভ নায়েক বলেন তিনি বিষয়টি জানেন, খোঁজ খবর নেবেন।

তাদের দাবি বি সি রায় সহ ২২ টি হাসপাতালে মূলত দূরদূরান্ত থেকে অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় শিশুগুলোকে ভর্তি করা হয়। জেলা হাসপাতাল , মহকুমা ও স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এস এন সি ইউ মিলিয়ে মোট ৬৯ টি এস এন সি ইউ চালু আছে,তার পরেও কেন অসুস্থ শিশুদের কলকাতায় নিয়ে আসতে হয়? স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের কাছে থেকে এর কোন উত্তর মেলেনি।
তবে এস এন সি ইউ পরিষেবার সাথে যুক্ত চিকিৎসকদের একাংশের অভিযোগ এক সময়ে যে নজরদারি ছিলো এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই। ‘ফেসিলিটি বেইসড নিউ বর্ন কেয়ার সেল’ উঠে গিয়েছে। এস এন সি ইউ পিছু একজন মেন্টর এর ব্যবস্থাও উঠে গিয়েছে। বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ডাক্তার এবং নার্স দেওয়া হয়না, মানা হয়না কোন বাধ্যতামূলক নিয়ম।
স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্টে উল্লেখ আছে,আসন্ন প্রসবাদের পরীক্ষা করে সন্তানের শ্বাসকষ্টের আশঙ্কা থাকলে বিশেষ এক ইনঞ্জেকশন দিতে হয়। সেই নজরদারি এবং পরবর্তী চিকিৎসায় ক্ষেত্রেও ফাঁক আছে। গর্ভস্থ শিশুর অসুস্থতায় নজরদারি ও ঠিকঠাক হচ্ছে না। বিপুল সংখ্যায় শিশু মৃত্যুর কারণের মধ্যে এই শ্বাসকষ্ট জনিত কারণই মুখ্য। পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাব। যেটুকু আছে তাদের হাজিরা কম।

সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থাটা শুধু মাত্র নীল-সাদা রং-এর উপর দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমান রাজ্য সরকারের খাম খেয়ালি মেজাজের থেকে রেহাই পাচ্ছেনা সদ্যোজাত শিশুরাও।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।