জেলা

বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্ত’ র প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা


সুপর্ণা রায়: চিন্তন নিউজ:১৮ই নভেম্বর:- বটুকেশ্বর দত্ত একজন পরিচিত বৃটিশ বিরোধী একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগৎ সিং এর দেশের কাজের সাথী। তাঁর জন্ম ১৯১০ সালের ১৮ ই নভেম্বর বর্ধমান জেলায়। এবং মৃত্যু হয় দিল্লিতে মাত্র ৫৪ বছর বয়সে ১৯৬৫ সালে। বর্ধমানে জন্ম হলেও বটুকেশ্বর বেড়ে উঠেছিলেন উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। কানপুরে কলেজে পড়ার সময় তিনি ভগৎ সিং এর সাথে পরিচিত হন আর স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন।।আর ও যে সকল বিপ্লবী সদস্য ছিলেন তাঁদের কাছে তিনি বি.কে নামে পরিচিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় সংসদ ভবনে ভগৎ সিং এর সাথে বটুকেশ্বর দত্ত যাতে কারুর কোন ক্ষতি না হয় সেটার দিকে লক্ষ রেখে দুটি বোমা ফাটান। ভগৎ সিং বলতেন “” বধিরকে শোনাতে উচ্চকণ্ঠ এর প্রয়োজন”” —– বটুকেশ্বর দত্ত এটা মানতেন ও বিশ্বাস করতেন। ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত এটা ইস্তাহার রূপে চারিদিকে বিলি করেন এবং এর উপর স্লোগান দিতে দিতে শান্ত ভাবে কারাবরণ করেন। সেই সময় জেলবন্দিদের সাথে অত্যন্ত খারাপ এবং নোংরা ব্যবহার করা হতো।। এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন ভগৎ সিং সহ বটুকেশ্বর দত্ত এবং আরও অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। তাঁরা বৃটিশ সরকারের ব্যবহারের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন। এই অনশনেই স্বাধীনতা সংগ্রামী যতীন দাসের মৃত্যু হয়।

১৯৩৮ সালে বটুকেশ্বর দত্ত মুক্তি পেলেও বাংলা , বিহার উত্তরপ্রদেশে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়। তিনি হিন্দুস্তান সমাজ প্রজাতান্ত্রিক সংস্থার একজন সমর্থক ও কর্মী ছিলেন আর এই অপরাধের জন্য বৃটিশ সরকার আবার গ্রেপ্তার ও অন্তরীণ করে রাখে প্রায় তিন বছর। এই সর্বস্ব ত্যাগীর শেষ জীবন খুবই কষ্টের মধ্যে কাটে। জেলে থাকাকালীনই তাঁর মারণরোগ যক্ষায় আক্রান্ত হন এবং এই রোগের কারণে তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।।অত্যন্ত দারিদ্র্যতার মধ্যে তার জীবনের শেষ কয়েক বছর কেটেছে। ইতিমধ্যে দেশ স্বাধীন হয়েছে। কোন রকম সাহায্য , সম্মান বা সাহায্য তিনি স্বাধীন ভারতের থেকেও পাননি।উপায়ান্তর না দেখে তিনি পরিবহন এর ব্যাবসা শুরু করেন এবং বিবাহ করে বিহারে বসবাস শুরু করেন। ১৯৬৫ সালে সবার চোখের আড়ালে দিল্লির একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।