রাজ্য

জঞ্জালে ঢাকা পড়ছে হুগলি চুঁচুড়া- শহর । প্রশাসন নির্বিকার।


শ্বাতী শীল : চিন্তন নিউজ: ২৬শে অক্টোবর :–গঙ্গা নদী তীরবর্তী অতিপ্রাচীন ও ঐতিহ্য মন্ডিত শহর চুঁচুড়া।একদা ডাচ অধ্যুষিত এই শহর নিয়ে চুঁচুড়া বাসীর গর্বের শেষ নেই। শহরের প্রাণকেন্দ্র ঘড়ির মোড় বিভিন্ন বিশিষ্ট ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে সে ই ১৯১৪ সাল থেকে।

বর্তমানে সেই শহরবাসী নজিরবিহীন এক পরিবেশ প্রত্যক্ষ করছে গোটা এলাকা জুড়ে। চুঁচুড়া শহরের একটি অতি ব্যস্ত স্থান হল বাসট্যান্ড এলাকা। যেখানে নানাপ্রকার দোকানের পাশাপাশি রেস্তোঁরা,আবাসন ও ব্যাংকের অবস্থান। শহরে জল সরবরাহের জন্য নতুনভাবে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি জলাধারের মধ্যে একটি এই স্থানে অবস্থিত। এই জলাধারেরই ঠিক নিচে বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে স্তূপীকৃত হয়ে রয়েছে নোংরা আবর্জনা।

সারা শহরেই যত্রতত্র এইভাবে ছড়িয়ে রয়েছে আবর্জনা।পৌরসভা থেকে প্রতিদিন সকালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জঞ্জাল সংগ্রহ করার নিয়ম চালু করা থাকলেও এই জঞ্জাল যথাস্থানে এবং যথা সময়ে যথাযথ পদ্ধতিতে জমা করার কোনো ইতিবাচক উদ্যোগই চোখে পড়ে না।শহরে বিশেষ করে বিভিন্ন স্কুলের সামনে পড়ে থাকতে দেখা যায় এই সব আবর্জনা হামেশাই। দুর্গন্ধে যেখান দিয়ে হাঁটাচলা টাই দুষ্কর হয়ে ওঠে। একসময়ে সেখানে স্কুলের বাচ্চাগুলিকে এই অবস্থায় ক্লাস করতে হয়।

বাসস্ট্যান্ডে গড়ে ওঠা পানীয় জলাধারের ঠিক নিচেই আবর্জনার স্তূপ থাকাটা ঠিক কতটা স্বাস্থ্যসম্মত সে বিষয়ে কিছু বলাই বাহুল্য। বিগত কিছুদিনের অবিরাম বৃষ্টিতে এই জায়গাটি একটি ছোট খাটো নরকে রূপান্তরিত হয়েছে। মশা মাছি ও অন্যান্য পরজীবীদের অবাধ বিচরণে কপালে চিন্তার রেখা দেখা দিয়েছে এলাকার মানুষের।

কিছু মাস পূর্বে বিজেপি থেকে একটি কর্মসূচি নেওয়া হয়। শহরে আবর্জনা, পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে এই দাবিতে টায়ার পোড়ানো হয়। যদিও রাবারের জ্বলন্ত টায়ার থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া যে ঠিক কতটা পরিবেশবান্ধব হতে পারে সে বিষয়ে কোনো ধারণাই নেই আন্দোলনকারীদের।

পরবর্তী কালে বাম দলগুলোর পক্ষ থেকেও আন্দোলন কর্মসূচি নেয়া হয়। তাদের পক্ষ থেকে পৌরসভা তে এই বিষয়ে একটি ডেপুটেশনও দেওয়া হয়।তবে পুরসভা এই বিষয়ে কোনরূপ সন্তোষজনক উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে। পুরসভা থেকে কখনো বলা হয়েছে যে গাড়ির অভাবেই পাহাড়প্রমাণ আবর্জনা সরানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে,আবার কখনো বলা হচ্ছে, উপযুক্ত কর্মীর অভাবে কাজ নাকি যথাযথ সময়ে শেষ করা হয়ে উঠছেনা।

ঐতিহ্যবাহীি চুঁচুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকা বর্তমানে নির্মল বাংলা মিশন এর বিজ্ঞাপনে ঢেকে গেলেও শাকের তলা থেকে মাছের মতোই মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে বাস্তব সত্য। তাই সৌন্দর্যায়নের ঝকঝকে আলোও আজ পৌরসভার অপদার্থতাকে ঢাকতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ বলেই মত শহরবাসীর।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।