জেলা

হুগলি বার্তাঃ-


চিন্তন নিউজঃচৈতালি নন্দীঃ- হুগলী জেলায় বেআইনি ভাবে কারখানা বন্ধ করা নিত্য দিনের ঘটনা । ১০ জুন ২০২২ দুপুর পৌনে বারোটার সময়ে চন্দননগরের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ অলক রায় চৌধুরী, ডাঃ ভাস্কর দাস সহ বিভিন্ন সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাব্রতী ও অধ্যাপকরা শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সাথে যৌথভাবে শ্রমদপ্তরে ডেপুটেশন দিলেন । শ্রমদপ্তরের কাছে তাঁরা গোন্দলপাড়া জুটমিল ও জেলার অন্যান্য বন্ধ কারখানা অবিলম্বে চালু করার দাবি সহ ৮ দফা দাবি পেশ করলেন । একইসাথে বেআইনি ভাবে বন্ধ কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তাঁরা জানিয়েছেন । তাঁদের দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও গ্র্যাচুইটি প্রদান না করার জন্য সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো অত্যন্ত জরুরি বিষয়গুলিও । তাঁরা বলেছেন, গ্র্যাচুইটি ইন্সপেক্টর নিয়োগ করে মালিকদের গ্র্যাচুইটি প্রদান নিশ্চিত করতে হবে অন্যাথায় মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ না করতে পারার কারণে অনেকসময়ই বহু শ্রমিক প্রাপ্য গ্র্যাচুইটি থেকে বঞ্চিত হন । তাঁদের অন্যান্য দাবির মধ্যে স্থান পেয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিবন্ধীকরণ এবং তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করার বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ, প্রত্যেকটি জুটমিলে কমপক্ষে ৯০ শতাংশ শ্রমিকের স্থায়ীকরণ এবং বিশেষ করে ইঁটখোলায় কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকপরিবারের শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ব্যাপারে মালিকদের নির্দেশ দানের কথাও । দাবিসনদে উল্লেখিত হয়েছে শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতিটি কারখানায় শ্রমিকদের নিয়ে যে কমিটি থাকার কথা তা নিশ্চিত করা এবং ১৯৪৮ এর কারখানা আইনে বর্ণিত কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধাগুলিকেও কার্যকর করা সহ একইসাথে কারখানার পাশে শ্রমিকদের বাসস্থানগুলির শোচনীয় অবস্থার উন্নতি সাধনের কথাও । বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত র‌্যাগ পিকার বা আবর্জনা কুড়ানিদের শ্রমিক হিসেবে মর্যাদা প্রদান করার দাবিও তাঁরা উঠিয়েছেন ।

এই প্রথম এক অভিনব প্রতিবাদের বার্তা ঘোষিত হল যেখানে বলা হল যে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার শ্রমিক ও কর্মচারীদের উপর যেভাবে অত্যাচার নামিয়ে এনেছেন ও আনছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে সমস্ত শ্রেণীর মানুষের যৌথ প্রতিবাদের পথ গ্রহণ করা ছাড়া আর অন্য কোন উপায় নেই । বর্তমান সময়ে উচ্চবিত্ত চাকুরিজীবি থেকে শুরু করে একেবারে দিনমজুর পর্যন্ত সকলেই আক্রান্ত । অতীতে গোন্দলপাড়া জুটমিল বন্ধের সময় এবং অতিমারির সময়ে চন্দননগরের নাগরিক সমাজ সক্রিয়ভাবে প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন এবং সেই শহরেই আজকের এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এমন এক নতুন আন্দোলনের চরিত্রের সূচনা হল যা আজকের সামাজিক প্রেক্ষিতে একান্ত প্রয়োজন । এই অভিনব আন্দোলন যেন বলতে চাইলো – “পথেপ এবার নামো সাথী, পথেই হবে পথ-চেনা” ।

সুপর্না রায়ঃ-সি পি আই এম হুগলী এরিয়া কমিটির অন্তর্গত ৪ নং শাখার প্রবীণ পার্টি সদস্য , উদ্বাস্তু ও বিড়ি শ্রমিক নেতা প্রয়াত কমরেড পরেশ দাসের মৃত্যুতে এলাকার মানুষ শোকাহত , মর্মাহত ।

সোমনাথ ঘোষঃ-শিয়াখালায় গ্রামে গ্রামে জনসংযোগ ও গণ সংগ্রহ কর্মসূচিতে আলাপচারিতায় মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গরীব মানুষ মুখ খুলছে। শুধুমাত্র লুট করে তৃণমূল ১০০ দিনের কাজ তুলে দিল এবং বকেয়া টাকা কিভাবে মিলবে, আদৌ মিলবে কি না তার ঠিক নেই। গরমে সব চলছে, শুধুমাত্র স্কুল বন্ধ। আসলে গরীব ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে চাইছে তৃণমূল, তাও আলোচনায় উঠে আসছে। তৃণমূল ও বিজেপি একই তাও মানুষ টের পাচ্ছে।লাল ঝান্ডাকেই আবার ফিরিয়ে আনতে হবে একথা মানুষ তার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে শুরু করেছে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।