কলমের খোঁচা

ভারতবর্ষে শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস– ১৯০৫ থেকে ১৯৪৭পর্যন্ত । দ্বিতীয় পর্ব


দেবু রায়, চিন্তন নিউজ, ২৮শে জুলাই ১৯২২ সালে গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলে শ্রমিক আন্দোলন কিছু দিনের জন্য দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু বিক্ষিপ্তভাবে কিছু জায়গায় লড়াই চলতে থাকে। এরই মধ্যে ১৯২৩ সালে সিঙ্গরাভেলু স্যাটায়ারের নেতৃত্বে শ্রমিকরা প্রথম মে দিবস পালন করে মাদ্রাসের সমুদ্র তটে।

এরপর ১৯২৮ সালে ভারতে শ্রমিক আন্দোলন আবার শক্তিশালী হতে শুরু করে, এবং ঐ বছরে সারা ভারতে মোট ২০৩টা ধর্মঘট হয়, যার নেতৃত্বে ছিলো মূলত বামপন্থীরা। ঐ বছর বিভিন্ন ধর্মঘটে প্রায় পাঁচ লক্ষ শ্রমিক অংশ গ্রহন করেন। ঠিক এই সময়ে কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত গিরানি কাম গড় ইউনিয়নের নেতৃত্বে বোম্বের বস্ত্রশিল্পে ব্যাপক শ্রমিক ধর্মঘট হয়। চাপে পরে তৎকালীন সরকার শ্রমিকদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে “রয়াল কমিশন” নিয়োগ করতে বাধ্য হয়।

১৯২০ সালে সুভাষ চন্দ্র বসু, নেহরু, প্রমুখের উদ্যোগে কংগ্রেসের ভিতরে বামপন্থী ভাবধারার প্রসার বিস্তার হতে শুরু করে। শ্রমিক সহ সব শ্রেণীর মানুষ বামপন্থী ধ্যান ধারনার প্ৰতি আকৃষ্ট হতে শুরু করে। যার ফলে ১৯২৮ সালে গড়ে ওঠে “সারা ভারত পিজেন্টস পার্টি।” এই দলের উদ্যোগে ভারতবর্ষে শ্রমিক আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। এই দলের নেতৃত্বে ১৯২৮ সালে বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিক ধর্মঘট শুরু হয়। আতঙ্কিত হয়ে যায় সরকার শ্রমিকদের একতা দেখে। সরকার ভয় পেতে শুরু করে, যার দরুন সরকার নেতাদের গ্রেফতার করা শুরু করে। যা ইতিহাসে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা নামে বিখ্যাত, যার ফলে কিছু দিনের জন্য শ্রমিক আন্দোলন দুর্বল হয়ে যায়।

১৯৩০ সালে গান্ধীজির নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলনের সময়, শ্রমিক আন্দোলন নতুন মাত্র পায়। ঠিক এই সময়ে মুম্বাইতে (পুৰতন বোম্বে) প্রায় কুড়ি পঁচিশ হাজার শ্রমিক আন্দোলন শুরু করে তাঁদের দাবি দাওয়া নিয়ে, যেটা মূলত পরিচালিত হয়েছিলো কমিউনিস্ট পার্টির দ্বারা। ১৯৩৪ সালে কোলাপুর, নাগপুর এবং বোম্বাই এর শ্রমিক ধর্মঘটে ব্যাপক সাফল্য দেখে সরকার ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে যায়। এর ফল স্বরূপ ব্রিটিশ সরকার কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করে একপ্রকার বাধ্য হয়ে।

তখন নিষিদ্ধ না করলে সেই সময়ে একটা ব্যাপক সংখ্যক মানুষের মধ্যে বামপন্থী দর্শনের উপর আকর্ষণ বেড়েই চলছিলো। সুতরাং কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করো, নেতাদের জেলে ভরো। কিন্তু এতদসত্ত্বেও শ্রমিক আন্দোলনে কমিউনিস্টদের প্রভাব কমেনি। এই সময় কংগ্রেস, সমাজতান্ত্রিক দল এবং কমিউনিস্ট পার্টি যৌথ ভাবে শ্রমিক আন্দোলন পরিচালনা করে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।