জেলা

নকশালবাড়ির কমিউনিটি কিচেনে জর্জদের ভূমিকা


মিঠুন ভট্টাচার্য:চিন্তন নিউজ:২৭শে এপ্রিল:- নকশাল বাড়ির কমিউনিটি কিচেনের আজ ১৩ দিনে পড়লো। শুরু হয়েছিলো ৪৫০ জন অভুক্ত মানুষকে খাওয়ার ব্যবস্থা দিয়ে আর আজ এই ১৩দিনে সংখ্যাটা প্রায় ৩০০০ ছাড়িয়ে গেছে । এবার প্রশ্ন হলো ৭% ভোট পাওয়া, ছোটলোকের দলটা কিভাবে এটা সম্ভব করতে পারছে..?

তবে একটু বিস্তারিত বলা যাক…… তৃনমূল, বিজেপির নেতাদের মানুষ বুঝে গেছে,মানুষের এই দুর্দিনেও রেশনের চাল চুরি করতেই হবে, ত্রাণের নামে সরকারি সহায়তা পার্টির নামে বন্টন করতে হয়, যা সাধারণ মানুষের টাকায় কেনা। সাধারণ ভদ্রলোকরা এই দুটো পার্টিকে চাঁদা দেয় না, হ্যাঁ চাঁদা দেয় কারা..? যাদের কালোবাজারি টাকা আছে, যাদের লোক ঠকানো ব্যবসা আছে, তারাই চাঁদা দেয় আর সেই চাঁদা নেতাদের পকেটে যায়..। সাধারণ মানুষ বুঝে গেছেন এই দুর্দিনেও ওরা বরাবরের মতই চাল চোর।

ছোটলোকের ৭% ভোট পাওয়া দলটাকে, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ আজও ভালোবাসে.. ভরসা পায়.. সমীহ করে.. তাই এই কমিউনিটি কিচেন চলছে। এই দলের ছোটলোক নেতারা লকডাউনে খোঁজ নিয়েছে হতদরিদ্র মানুষ গুলোর লকডাউনের ফলে কি ভাবে চলছে। ছোটলোক ক্যাডাররা খেয়াল করেছিলো লালজি জোত, টেরু মুরমুর ছোট ছোট বাচ্চা গুলোর মুখে একমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার জন্য, বাড়ির থালাবাসন বিক্রি করে, চাল কিনে নিয়ে গেছে। ছোটলোক গুলো খেয়াল করেছিলো… আরতী সরকারের বাড়িতে মালতী রায় এককেজি চাল ধার চাইতে এসেছে, আরতী সরকার বলছে “তোদের পাঁচ জনের সংসারে ১ কেজি চালে কয় বেলা খাবি..?” তাই উনি ৫ কেজি চাল দিয়েছিলেন! ছোট লোকগুলো বুঝেছে যাদের প্রতিদিন নদীতে পাথর না ভাঙ্গলে সংসার চলে না, আমাদের সভ্য সমাজের বড়ো বড়ো অট্টালিকা বানানোর ঢালাই শ্রমিকগুলোর প্রতিদিন কাজ না হলে বাড়ির উনুনু জ্বলেনা। চা শ্রমিকদের সব নাই বাজারে আরো নাই এর হাহাকার..

তাই ছোটলোক গুলো মানুষের কাছে দুহাত জোড় করে মানুষকে রান্না করা খাওয়া তুলে দেবার আবেদনের ভিত্তিতে বেরিয়ে পড়লো । তারপরের যখন মানুষ দেখলো, এরাই মানুষের আসল কাজটি করছে। তখন প্রচুর মানুষ এই ছোটলোকের দলটার পাশে এসে দাড়ালো। কীভাবে দাড়ালো তার দু’একটা উদাহরণ দেই…

১) এলাকার পাড়ার ছেলে জর্জবুশ রায়, বয়স ২১, ওর বাবা এই ছোটলোকের দলটা করতো। জর্জবুশ ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস এইট অব্দি ফাষ্ট বয় ছিলো। ওর বাবা দীর্ঘদিন দুরারোগ্য ব্যাধির কারনে মারা যায়, জর্জবুশের পড়া আর এগোয় নি, সেই সময়ই সংসার টানতে রাজমিস্ত্রির যোগানদারের কাজ শুরু করে। এখন জর্জবুশ ভ্যান চালায়। ওদের পরিবারে আর্থিক সংগতি থাকলে ওর বাবার বিনা চিকিৎসায় মারা যেতো না, আর জর্জবুশ হয়তো মোটা মাইনের চাকরি করত। ও বাড়িতে বসেই খেয়াল করেছিলো, বহু মানুষ কমিউনিটি কিচেনের থেকে খাবার সংগ্রহ করে, বহু মানুষ কমিউনিটি কিচেনের খাবার খেয়ে বেচে আছে। এই না খেতে পাওয়া মানুষগুলোর জন্য জর্জবুশের মন কাঁদে, সামান্য হলেও করার ইচ্ছে! এই ভাবনা থেকেই জর্জবুশ ২৫ কেজির ১বস্তা চাল কমিউনিটি কিচেনে দিয়ে যায়।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।