দেশ

স্যালুট’ দিয়ে বিদায় ভারতীয় রেলের ::—-


রত্না দাস: চিন্তন নিউজ: ৬ই আগস্ট:- স্বেচ্ছাবসরের নতুন প্রকল্পের নাম ‘স্যালুট’। আসলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় রেল কর্মী সংকোচনের পথে আরো এক ধাপ এগোল।ভারতীয় রেলের অভ্যন্তর রীতিমতো উত্তপ্ত । পদ বিলুপ্তি ও কর্মী সংকোচন এই দুটি বিষয়কে ঘিরে। রেলের বর্তমান কর্মীসংখ্যা ১৩লাখ। সেটাকে কমিয়ে ৮লাখে আনার দিকে এগোচ্ছে ভারতীয় রেলবোর্ড। তারই নবতম সংযোজন এই ‘স্যালুট’ প্রকল্প।

রেলের সেফটি বা সুরক্ষা বিভাগের সঙ্গে ‍ লোকো পাইলট, গ্যাংম্যান, ট্রাকম্যান, শান্টার—- এমন চল্লিশটি পদ আছে।এই পদে থাকা প্রায় দেড় লক্ষ কর্মী কাজ হারাতে পারে এই স্বেচ্ছাবসর ‘স্যালুট’প্রকল্পের মাধ্যমে। এটা রেল সূত্রেরই খবর। রেলবোর্ড ২০০৪ সালে রেলের সুরক্ষা বিভাগের কর্মীদের স্বেচ্ছাবসরের জন্য একটি পরিকল্পনা করেছিল। ওই প্রকল্পের নাম লার্জেস্ (লিবারালাইজড অ্যাক্টিভ রিটারমেন্ট স্কিম ফর গ্যারান্টেড এম্প্লয়মেন্ট ফর সেফটি স্টাফ)। ওই প্রকল্প অনুযায়ী স্বেচ্ছা অবসরে যেতে আগ্রহী রেলকর্মী তার চাকরিটি তার এক সন্তানকে হস্তান্তর করতে পারতেন। স্বেচ্ছা অবসরের প্রকল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই শর্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালে(ক্যাট) একাধিক মামলা হয।এই শর্তকে অনৈতিক এবং যোগ্য ব্যক্তির চাকরিতে অন্তর্ভুক্তির পথে বাধা হিসেবে আখ্যা দিয়ে লার্জেস্ কে বাতিল করে ক্যাট।
ভারতীয় রেলবোর্ড স্বেচ্ছাবসরের জন্য আনা ‘স্যালুট’ প্রকল্পে সন্তানকে চাকরি হস্তান্তরের মত সংবেদনশীল বিলটি রাখা হয়নি।যেটা লার্জেসে ছিল।
রেলবোর্ডের মতে, রেলের যে কর্মীদের জন্য এই ব্যবস্থা প্রকল্প চালু হতে যাচ্ছে তাদের কাজের প্রকৃতি কঠিন। পঞ্চান্ন বছর বয়সে অনেকেরই স্বাস্থ্য ভেঙে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। সেই জন্যই এই স্যালুট প্রকল্পের পরিকল্পনা।পঞ্চান্ন বছর বা তার বেশী বয়সী এবং ত্রিশ বছরের চাকরি জীবন যাপন করেছেন সেফটি বিভাগে এমন কর্মীরা এই প্রকল্পে সামিল হয়ে অবসরে যেতে পারেন বলে এই নতুন প্রকল্পে বলা হয়েছে।
রেলকর্মীরা চাকরিরত অবস্থায় রেলে যাতায়াতের জন্য বছরে তিনবার পাস পান নিখরচায়। অবসরের পর তারা বছরে দুবার পাস পেয়ে থাকেন। এই প্রকল্পে যারা স্বেচ্ছাবসর নেবেন তারা খাতায়-কলমে চাকরির শেষ দিন পর্যন্ত বছরে তিনটি পাসই পাবেন। প্রকৃত অবসরের দিন পেরোলে বছরে তারা দুটি পাস পাবেন। যে মূল বেতনে তারা স্বেচ্ছাবসর নিচ্ছেন তার উপর দুটি ইনক্রিমেন্ট যোগ করে তাদের পেনশন ধার্য হবে।
কিন্তু রেলের শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বৃজেশ উপাধ্যায় এর মতে,’যেভাবে কেন্দ্র একটার পর একটা মন্ত্রককে দুর্বল করে দিতে চলেছে সেটা ভয়ঙ্কর।সব শ্রমিক সংগঠন ও জনকল্যাণকারী সংগঠনগুলোকে একসাথে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হতে হবে।’
ইস্টার্ন রেল মেনস মহিলা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অমিত ঘোষ বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটা প্রস্তাব হিসাবে আসবে কিন্তু অবিলম্বে প্রকল্প অনুযায়ী বর্ষীয়ান কর্মীদের অবসর নিতে বাধ্য করা হবে বলে আমাদের আশঙ্কা।’


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।