দেশ

বিশ্বাস না কি বিজ্ঞান


কাকলি চ্যাটার্জি: চিন্তন নিউজ: ৪ঠা মে :– ঈশ্বর আছেন কি নেই এই বিতর্ক চলে আসছে আবহমানকাল ধরে। ঈশ্বরের অস্তিত্ব নির্ভর করে মানুষের বিশ্বাসের ওপর। এই বিশ্বাস সৃষ্টির সঙ্গেও চাওয়া পাওয়ার একটা সম্পর্ক থেকেই যায়। আবার এই বিশ্বাস পরোক্ষে নির্ভরশীল হয়ে উঠতে প্ররোচিত করে, ক্ষুণ্ণ হয় আত্মমর্যাদা। অভাববোধ থেকেই অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তির প্রতি দুর্বলতা জন্ম নেয়। ঐ যে কথায় আছে না বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর!

অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুমালা পর্বতে অবস্থিত ভারতের সবচেয়ে ধনী মন্দির তিরুপতি। প্রত্যেক দিন গড়ে দর্শনার্থী সংখ্যা ৭৫০০০, বছরের শেষে সেটা দাঁড়ায় চার কোটিতে। গত বছরে মন্দির কমিটির কোষাগারে জমা পড়েছে ১২০০ কোটি টাকা। শুধুমাত্র কয়েন জমা পড়েছিল ২৫ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা। ব্যাংকে গচ্ছিত সোনার পরিমাণ ৭২৩৫ কেজি, ট্রেজারির জিম্মায় আছে ১৯৩৭ কেজি সোনা।

এই বিপুল সম্পত্তির মালিক তিরুপতি মন্দিরেও আর্থিক মন্দার ছোঁয়া। দর্শনার্থীদের আগমন বন্ধ, আয় কমেছে। চুক্তিভিত্তিক ১৩০০ সাফাইকর্মীদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হল ৩০ শে এপ্রিল। প্রথামাফিক পুনরায় রিন্যুয়ালের আবেদন জানালেও তা গ্ৰহণ করেনি মন্দির কর্তৃপক্ষ। বর্তমান বছ‌রেও মন্দির কমিটির বাজেটের পরিমাণ ৩৩০৯ কোটি টাকা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মৌখিকভাবে বারবার অনুরোধ জানিয়েছে লকডাউনের সময়ে কোনো কর্মীকে ছাঁটাই না করার, কিন্তু বাস্তব সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। সর্বত্র শুরু হয়েছে ছাঁটাই, বেতন সংকোচন।

কোভিড১৯ মোকাবিলায় বন্ধ করতে হয়েছে মন্দির, মসজিদ , গীর্জার দরজা। মহাশক্তির অধিকারী কোনো ঈশ্বর, আল্লাহ বা প্রভু বাঁচাতে পারেননি তাঁর উপাসকদের। আয়কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য কোটি কোটি টাকা ও অলংকার ব্যবসায়ীরা দান করেন মন্দিরগুলোতে। কিন্তু যখন সবচেয়ে বেশী অসহায় হয়ে মানুষ নির্ভর করতে চান ঈশ্বরের ওপর তখন শুধুই বঞ্চনা, শোষণ আর নিপীড়নের শিকার হতে হয়। কলিযুগের বিষ্ণুর অবতার বলে খ্যাত ভেঙ্কটেশ্বর যিনি মানুষকে দুঃখ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন বলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস তিনি নিজের কর্মচারীদেরও আর্থিকভাবে বাঁচাতে পারলেন না এই কঠিন সময়ে, তাহলে অন্যদের কথা না হয় বাদই দিলাম!


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।