দেশ বিদেশ

প্রত্যাশা অনেক কিন্তু প্রাপ্তিতে বড় ফারাক_


সূপর্ণা রায়:চিন্তন নিউজ:৬ই জানুয়ারি:–জাতিসংঘের আয়োজনে প্রতিবছরই জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে৷ কিন্তু সব কপই সমান গুরুত্ব পায় না৷ তবে কপ২৫ নামে পরিচিত এবারের সম্মেলন ছিল গুরুত্বপূর্ণ,

প্রত্যাশা অনেক কিন্তু প্রাপ্তিতে বড় ফারাক_______মাস কয়েক আগে দাবানলে ছাড়খার হয়ে গেছে আমাজনের জঙ্গলআফ্রিকার হাজার হাজার একর বন।।ভারত জাপানের লু’য়ের প্রভাবে প্রায় দু’শো জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।। বিভিন্ন উপকূল বর্তী এলাকায় একের পর সাইক্লোন আঘাত হেনেছে।।২০১৯ সালে সাইক্লোনের জেরে আফ্রিকা, জাপান ও চীনে প্রায় ১২০০ লোকের মৃত্যু ঘটেছে।।অকাল বৃষ্টি, বন্যা,ফনী ও বুলবুলের মতো ঝড়ের তান্ডব তো সারা বছর জুড়ে লেগে আছে।। বিশ্বের প্রত্যেকটি অঞ্চল ভীষণ ভাবে বিপর্যস্ত আর তাই অনেকেই আশা করেছিলেন বিশ্বনেতারা এবার ভালো কিছু উদ্যোগ নেবেন মানুষের জন্য।।।

মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সংক্রান্ত সন্মেলনে দেখা গেল বিশ্বনেতাদের টনক নড়ে নি।।উন্নত দেশের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে প্রচন্ড অনিহা জলবায়ু অধিকার কর্মীরা বিভিন্ন ফোরামে জোরদার দাবি তুলেছেন , বিশ্বনেতারা যেন বিশ্ব কে রক্ষার ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে না দাঁড়ান।। কিন্তু ফলাফল শূন্য।। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যা ২০১৫ সালে হয়েছিল সেটাও এবার ব্যর্থ হল।।””কাজ করার সময় এখন”” স্লোগান দিয়ে জলবায়ু সম্মেলন শেষ হবার কথা ছিল যেদিন এখন ও নির্ধারিত সময়ের চল্লিশ ঘন্টা পার হয়ে যাবার পরও চলছে দরকষাকষি।। আগামী বছর ঠিক এই জায়গা তেই শুরু হবে আর চলবে দরকষাকষি।।

১৯৯২ সালে ব্রাজিলে শুরু হয়েছিল জলবায়ু সম্মেলনের বিশাল যজ্ঞ।। গঠন হয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘের জলবায়ু বিষয়ক কনভেনশন।।১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর এই সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।। কিন্তু দেশগুলো কোন কার্যকর সিদ্ধান্ত তে পৌঁছাতে পারেনি।। বিশ্বরক্ষায় যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিন্তু দিনের শেষে সব ফাঁকা।।২০০৯ সালে কোপেনহেগেন এ রাষ্ট্রসঙ্ঘের জলবায়ু শীর্ষ সন্মেলন এর পর এমন ব্যার্থ সন্মেলন আর কোনদিন হয়নি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।। এখন আবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিষেবা নামে এক নতুন বিষয় যা জলবায়ু বিষয়ে জলবায়ু বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে বিপদে থাকা দেশগুলোকে পরিষেবা দেবে।। আগামী দশ বছরে দক্ষিণ বঙ্গে যা বৃষ্টি বা খরা হবে তা আগের তথ্য বিচার করে সাম্ভ্যাব্য অবস্থা খোঁজার চেষ্টা করা হবে।। এজন্য দেশের আবহাওয়া দপ্তরকে উন্নত করতে হবে।।অর্থ আসবে বিদেশ থেকে আর সেই অর্থ ঋণ হিসেবে পাওয়া যেতে পারে।। বিশেষজ্ঞরা আসবেন বিদেশ থেকে।। কিছু দেশি বিশেষজ্ঞ রাও থাকবেন ।।দেশিবিদেশি বিশেষজ্ঞ মিলিয়ে সিংহভাগ অর্থই চলে যাবে বিশেষজ্ঞ দের পকেটে।। আর মেদিনীপুর ও বর্ধমান জেলার কৃষকরা অকাল বন্যায় ডুবে থাকা ধানক্ষেতে এর সামনে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকবে।। তখন কৃষকদের বলা হবে বিমা করতে হবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য।।বিমার পক্ষে বেসরকারি উকিল ওকালতি শুরু করবেন।।তারপর কৃষকদের সেই ছবি বড় বড় করে জলবায়ু সম্মেলন এ দেখানো হবে।। কৃষক দের হাল কি হয়েছে বোঝানো হবে।।এটাও বলা হবে বিমার প্রয়োজনীয়তা।। বিমার লাভ ক্ষতির আবার সমীক্ষা হবে __

আবার নতুন করে তহবিল জোগাড় করা হবে।। এসব কাজের জন্য বিশেষজ্ঞ রা নানাভাবে পুরস্কৃত হবেন।।। এরপর নতুন কোনো বিষয় বস্তু সামনে আসবে ।।। এইভাবে চলতে থাকবে জলবায়ু কূটনীতি।। আসলে জলবায়ু কূটনীতি আর সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের মধ্যে একটা অদ্ভুত মিল আছে।। জলবায়ু পরিবর্তন ও সন্ত্রাস এর বিপক্ষে সকলেই।। কিন্তু সমস্যা মেটে না।। আজ কাবুলে বিস্ফোরণ তো কাল বঙ্গোপসাগরে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়।। লন্ডনে সন্ত্রাসবাদী হামলা তো অস্ট্রেলিয়া জ্বলছে দাবানলে। এখন অপেক্ষা ২০২০ সালে গ্লাসগোর পরবর্তী জলবায়ু সন্মেলন এর।।আর ভয়ঙ্কর দূর্যোগ এর পরিস্থিতি তে নিজেদের তৈরি করা।।।।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।