দেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আয়ুর্বেদিক ওষুধে আস্থা!


কাকলি চ্যাটার্জি: চিন্তন নিউজ:১৮ই জুলাই:- করোনা মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের ভরসা বাড়ছে আয়ুর্বেদিক ওষুধে। মারাত্মক ছোঁয়াচে এই ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরী। নিয়েলসনের দাবী ব্রাহ্মীশাক, গুজবেরি ও আরও কয়েকটি উপকারী উপকরণের মিশ্রণে তৈরী চ্যবনপ্রাশের বিক্রি গতবছরের তুলনায় ২৮৩% বেড়েছে।

ভারতীয়দের চিরাচরিত জড়ি-বুটি দিয়ে তৈরী আয়ুর্বেদিক ওষুধে আস্থা ফেরানোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। সর্দি-কাশি রুখতে চ্যবনপ্রাশ খাওয়ার প্রথা প্রাচীনকাল থেকেই আছে, বর্তমানে সেই প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চ্যবনপ্রাশ ও মধুর চাহিদা বাড়ছে। আবার বর্তমান স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দিকেও তৎপরতা লক্ষ্যণীয়। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং বাড়ির বাইরে স্যানিটাইজারের ব্যবহারও বাড়ছে। নিয়েলসনের অনুমান গত জুন মাসে দেখা যাচ্ছে কেবলমাত্র চ্যবনপ্রাশের বিক্রিই ২৮৩%বেড়েছে এমন নয়, ব্র্যান্ডেড মধুর বিক্রীও বেড়েছে ৩৯%। লিকুইড সোপের বিক্রি বেড়েছে ১১২%। করোনা ভাইরাস ভোক্তাদের ব্যবহারের দ্রব্যাদির পরিবর্তন ঘটিয়েছে, আচরণের গুণগত মানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কিছু মানুষ পুরাতন ঐতিহ্যবাহী পণ্যের খোঁজ করছেন আবার কেউ ইউটিউব সার্চ করে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সুরক্ষাকবচের অনুসন্ধানে ব্যস্ত। যতদিন পর্যন্ত না প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কৃত হয় ততদিন এই প্রবণতা বজায় থাকবে আশা করা যায়।

ডাবর ইন্ডিয়া জানিয়েছে গত মার্চ থেকে তার চ্যবনপ্রাশের চাহিদা বাড়ে। ডাবর ইন্ডিয়া লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহিত মালহোত্রা বলেছেন স্বাস্থ্যসেবার জন্য আয়ুর্বেদিক পণ্য রোগের আক্রমণ প্রতিহত করতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে এবং রোগের সঙ্গে লড়াই করার জন্য ভোক্তাদের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। গ্ৰাহকদের পছন্দ, চাহিদা সময়বিশেষে পরিবর্তনশীল।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ আয়ুষের ডিরেক্টর প্রফেসর সঞ্জীব শর্মা জানান কোভিড১৯ চিকিৎসা ক্ষেত্রে আয়ুষ৬৪ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে এইমস এর চিকিৎসকরা। যোধপুর এইমস এর সঙ্গে এক চুক্তি সাক্ষর হয়েছে আয়ুষ মন্ত্রকের। চারটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ তারা ব্যবহারে উৎসাহ দেখিয়েছে করোনার ট্রিটমেন্টের জন্য। এর মধ্যে অন্যতম আয়ুষ৬৪। অন্য ওষুধগুলো হল অশ্বগন্ধা, মধুযষ্ঠি ও গুড়ুচিধন বটি। কনটেনমেন্ট জোনে সুস্থ মানুষের ওপর এদের প্রভাব বুঝতে পরীক্ষা চালানো হবে।

এন আই এ কোভিড টেস্ট করার জন্য ল্যাবরেটরি তৈরী করেছে যেখানে প্রতিদিন সর্বাধিক ৩০০০ টেস্ট করা সম্ভব। কিন্তু এইমস এর অনুমতি ব্যতিরেকে তা কখনোই সম্ভব নয়।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।