কলমের খোঁচা

রাজনীতি করবেন না


শান্তনু বোস,শীলচর:- চিন্তন নিউজ:১৬ই নভেম্বর:- সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে রাজনীতি করবেন না। হ্যাঁ, যারা এই কথাটা বলছেন তাদের সাথে আমি সহমত। ২০১১ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে যে রাজনৈতিক কালচার শুরু হয়েছে, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো শক্ত মেরুদণ্ডের শেকড় আঁকড়ে থাকা মহিরুহকে সেই রাজনীতি থেকে দূরে রাখাটাই দরকার। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় যে রাজনৈতিক কালচারে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শুধু মাত্র আস্থা রেখে গেছেন তা নয়, পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও সেই কালচার সঞ্চারিত করে গেছেন। তাই তাঁর একমাত্র কন্যা বলতে পারেন, বাবা শুধু তার বাবাই ছিলেন না, ছিলেন সহযোদ্ধা কমরেড। এখানেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সারা জীবনের সাফল্য। এখানেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কালচারের সাফল্য। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে আপনারা আপনাদের রাজনীতি করবেন না। কারণ আপনাদের রাজনৈতিক কালচারেই তাঁর শেষ জীবনের মঞ্চাভিনয় কিং লিয়র মঞ্চ পায় না। চলচ্চিত্র উৎসবের স্ক্রিনিং কমিটি থেকে শুধু বাদ পড়েন না, বরং চলচিত্র উৎসবের আমন্ত্রণ পত্রটাও তাঁর কাছে পৌঁছে দেয় না আপনাদের নিজস্ব রাজনৈতিক কালচার। স্বাভাবিকভাবেই আপনাদের অধিকার নেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে রাজনীতি করার। কিন্তু সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় যে রাজনীতিটা করতেন সেই রাজনীতির আলোর উজ্বলতায় আপনাদের চোখ ঝলসায়। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আদর্শ এবং ব্যক্তিত্বের আলোয় নিজেদের আলোকিত করার লোভ আপনারা সামলাতে পারেন না। সেই জন্যেই তাঁর মরদেহের শোক মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে বিজয় মিছিলের কায়দায় জনগণের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে আলোর ভিক্ষা করতে হয়। এটাই আপনাদের রাজনৈতিক কালচার। হ্যাঁ আপনারাই তো বলবেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে রাজনীতি করবেন না। কারণ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনীতির আলোর ছটায় আপনাদের ঝলসে যাওয়ার ভয় থাকে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।