রাজ্য

লোকাল ট্রেন চালুর দাবিতে বীরভূম জেলার প্রতিটি স্টেশনে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচি:-


রাহুল চ্যাটার্জি: চিন্তন নিউজ:১৯শে নভেম্বর:-এস‌এফ‌আই– ডিওয়াইএফ‌আই সহ বামপন্থী ছাত্র যুব সংগঠন সমূহ এর উদ্যোগে, বীরভূম জেলায় লোকাল ট্রেন চালুর দাবী নিয়ে আজ ১৯শে নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, জেলার প্রতিটি স্টেশনে বিক্ষোভ ও স্টেশন ম্যানেজারকে ডেপুটেশনের কর্মসূচি পালন করার ডাক দেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য বীরভূম জেলা থেকে এই মুহূর্তে দূরবর্তী মালদা-বর্ধমান বা কলকাতা যাওয়ার কোনো লোকাল ট্রেন দেওয়া হয় নি, যারপরনায় সাধারণ মানুষের সাথে সাথে রেলের হকার, বা যাদের জীবন জীবিকা রেলের গতিময়তার উপর নির্ভরশীল তারা চরম ক্ষতিগ্রস্থ। এর সঙ্গে নয়া ফরমান এসেছে রেলের হকারদের স্টেশনেই ঢোকা বন্ধ। এই সমস্ত কিছুর প্রতিবাদে আজ বোলপুর, আমোদপুর, সাঁইথিয়া, মল্লারপুর, গদাধরপুর, রামপুরহাট, নলহাটি, লোহাপুর, মুরারই, সিউড়ি, দুবরাজপুর প্রভৃতি স্টেশন গুলিতে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলে জানান জেলার ডিওয়াইএফ‌আই জেলা সম্পাদক মনোতোষ মজুমদার।

জেলার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র তথা গুরুত্বপূর্ন স্টেশন হিসেবে পরিচিত রামপুরহাটে এরই সাথে দেখা যায় অটো তথা ট্রেকার গাড়ি চালিয়ে যারা দিন গুজরান করতেন তাঁদের অবস্থাও শোচনীয়। প্যাসেঞ্জার না থাকার কারণে তাঁরা কিভাবে নিজেদের রুটিরুজি জোগাড় করবেন সেই চিন্তায় অনেকে পেশা বদলে অন্য কাজে নিযুক্ত হয়েছেন। তাঁদেরও আশা ছিল লোকাল ট্রেন চালু হলে কিছু যাত্রী বাড়বে, তাঁদেরও চিন্তা থাকবে না। কিন্তু ঘোষণার পর যখন দেখা যায় বীরভূম মুখী কোনো ট্রেন নেই, তাঁরাও বিমর্ষ হয়ে পড়েন। এদিনের কর্মসূচিতে ডাকবাংলা মোড় থেকে স্টেশন অব্দি মিছিল সংঘটিত হয়। উপস্থিত ডিওয়াইএফ‌আই জেলা সভাপতি অমিতাভ সিং জানান যে “লোকাল ট্রেন চালু না হলে কোটিপতিদের কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু যাঁরা দিন আনে দিন খাই এবং গুজরান করেন তাঁদের সমস্যায় বেশি। অন্যদিকে স্টেশন গুলিকে বেসরকারিকরনের পথে হাঁটছে তুঘলকি সরকার। এমন দিন আসবে যেদিন আম্বানি-আদানিদের ছেলেরা বলবে এটা আমাদের বাবার ট্রেন বা এটা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি”।

আজকের দাবিগুলো– ১) মেল এক্সপ্রেস সহ সমস্ত লোকাল ট্রেন অবিলম্বে চালাতে হবে।
২) অবিলম্বে রেল হকারদের লাইসেন্স দিতে হবে।
৩) ট্রেন যাত্রীদের স্বার্থে রেল স্টেশনে ঔষধের দোকান খুলতে হবে।
৪) রেল বেসরকারিকরন করা চলবে না।
৫) কোভিড মহামারীর সময় ঘোষিত কেন্দ্রীয় সরকারের ১০,০০০/- ও রাজ্য সরকারের ২,০০০/- টাকা অনুদান সমস্ত রেল হকারদের অবিলম্বে দিতে হবে।
৬) গনদেবতা ও কবিগুরু এক্সপ্রেস লোহাপুর স্টেশন স্টপেজ দিতে হবে।।
এই দাবিতে
এস‌এফ‌আই – ডিওয়াইএফ‌আই লোহাপুর লোকাল কমিটির পক্ষ থেকে আজ লোহাপুর রেল স্টেশনে বিক্ষোভ কর্মসূচী করা হলো। পরিশেষে স্টেশন মাস্টারকে ডেপুটেশন দেওয়া হলো।।
আজকের এই বিক্ষোভ সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতের ছাত্র ফেডারেশন বীরভূম জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড রিজু সরকার, লোহাপুর লোকাল কমিটির সভাপতি কমরেড এমদাদুল হক (রোহন) , উপস্থিত ছিলেন ডিওয়াইএফ‌আই লোকাল কমিটির সম্পাদক কমরেড আব্দুস সামিম সভাপতি কমরেড শুভেন্দু রায় এছাড়া অন্যান্য লোকাল নেতৃত্ববৃন্দ।

এদিন সকালে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন ও ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন , বোলপুর লোকাল কমিটির ডাকেও আজ বোলপুর রেল স্টেশনের বাইরে জমায়েত হয়ে অবিলম্বে রেল চলাচলের দাবি জানানো হয় ও স্টেশন ম্যানেজারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করে দাবি জানানো হয় হকারদের বৈধতা দিতে হবে এই নিয়ে। উপস্থিত ছিলেন সেখানে ডিওয়াইএফ‌আই বীরভূম জেলা কমিটির সম্পাদক কমরেড মনতোষ মজুমদার , এস‌এফ‌আই জেলা সম্পাদক কমরেড ওয়াসিফ ইকবাল।

২৬ তারিখের ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়ে সিউড়িতেও মিছিল সংঘটিত হয়। মিছিলে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মতো।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।