রাজনৈতিক

গনতান্ত্রিক দেশ ভারতবর্ষ – ভারতীয় মিডিয়া ও উগ্ৰ জাতীয়তাবাদ।


তরুণ মালী: চিন্তন নিউজ:১২ই মে :- যে দেশে স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার নেই। কিন্তু গনতান্ত্রিক। যে দেশে নিজস্ব ধর্ম পালনের স্বাধীনতা’কে প্রতিদিন হরণ করা হয়। কিন্তু গনতান্ত্রিক। যে দেশে এক জাতি অন্য জাতির প্রতি ঘৃণার চোখে তাকিয়ে থাকতে ব্যস্ত। কিন্তু গনতান্ত্রিক। যে দেশে গরু ছাগলের মতো জনপ্রতিনিধি কেনা হয়। কিন্তু গনতান্ত্রিক। যে দেশে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে মান্যতা না সরকার নির্বাচিত হয়। কিন্তু গনতান্ত্রিক। যে দেশে নাগরিকদের ভোটার কার্ড,প্যান কার্ড, আঁধার কার্ড থাকা সত্ত্বেও সেই দেশের নাগরিক কি না প্রমাণ দেখাতে হয়। কিন্তু গনতান্ত্রিক। যে দেশে দূর্নীতিগ্রস্ত নেতা মন্ত্রীরা আমলাদের প্রভাবিত করে। কিন্তু গনতান্ত্রিক।

বর্তমানে গনতন্ত্র’কে প্রতিদিন টুঁটি চেপে হত্যা করছে রাষ্ট্র। অতি দক্ষিণপন্থী দ্বারা পরিচালিত রাষ্ট্র। পুঁজিবাদীদের দ্বারা পরিচালিত রাষ্ট্র। সহযোগিতায় ও সমর্থনে গনতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। মিডিয়া। পেইড মিডিয়া। টাকা দিয়ে কেনা মিডিয়া। বিকৃত মিডিয়া। সত্যকে ভয় পাওয়া মিডিয়া। বিদ্বেষ ছড়ানো মিডিয়া। চাটুকারিতার অধীনে থাকা মিডিয়া। এককথায় নকল মিডিয়া। ব্যতিক্রম আছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এই সব মিডিয়া এড়িয়ে যায়। দেখে না।

এখন‌ও অনেক সাধারণ মানুষ সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফিরে এসে মিডিয়ায় চোখ রেখে সকালে রাজনীতি করেন। ঘটনাক্রমে মিডিয়া করাতে বাধ্য করে। মানুষের মতামতকে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করে। মতামত তৈরি করে। মতামত তৈরি করে হাটে বাজারে চা দোকানে ইত্যাদি জায়গায় বিক্রি করে।

এখন সারা পৃথিবী করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত। অন্য দেশের মতো আমাদের দেশেও লক-ডাউন চলছে। এক অস্থির সময়। কিন্তু লক-ডাউন আমরা মেনে চলছি। ঘরবন্দী। কাজ নেই। হাতে টাকা নেই। ঘরে ভাত নাই। কিন্তু আমরা লক-ডাউন পালন করছি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনে থালা বাজাচ্ছি। প্রদীপ জ্বালিয়ে করোনাকে বরণ করছি। অসুবিধে নেই। উগ্ৰ জাতীয়তাবাদকে পাথেয় করে চলতে হবে। কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যাবে না। তাহলেই দেশদ্রোহী। গ্ৰেফতার। জেল।

আজ ভারতের জাতীয়তাবাদ উগ্ৰ হয়েছে। তার কারণ বর্তমানে অতি দক্ষিণপন্থী দল দ্বারা পরিচালিত একটি সরকার। বিজেপি সরকার। জনবিরোধী সরকার। শ্রমজীবী মানুষ বিরোধী সরকার। ছাত্র মারা সরকার। বেকারের ভাত কেড়ে নেওয়া সরকার। রাষ্ট্রের সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়া সরকার। আমরা তার শরীক না হ’লে লোকে দেশদ্রোহী বলছে। এটাই স্বাভাবিক।

ভারতবর্ষের ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীরা উপযুক্ত চিকিৎসা সামগ্রী না পাওয়ায় মারা গেলে যাক। কিন্তু তাদের উপর পুস্প বৃষ্টি দিয়ে আরো মৃত্যুর পথে আগিয়ে দেওয়ার নাম উগ্ৰ জাতীয়তাবাদ।

হাজারো পরিযায়ী শ্রমিক এই লক-ডাউন চলাকালীন বিভিন্ন রাজ্যে আটকে আছে। থাকার জায়গা নেই। খাবার নেই। অভুক্ত। বাড়ি ফিরতে পারছে না। সরকারের ব্যর্থতায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু বরণ করছে।

কিন্তু ভারতীয় মিডিয়া এবং সরকারের হেলদোল নেই। আমরা এখনও নিজামুদ্দিন ও পালঘর নিয়ে পড়ে আছেন। এর নাম উগ্ৰ জাতীয়তাবাদ।

ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ অভুক্ত। অভুক্ত মানুষের চিত্র ভাইরাল হচ্ছে না। হবেও না। কারন সরকার দেশবাসীকে অন্ধ করে রেখেছে।

কিন্তু সরকার গান গাইছে। অভুক্ত মানুষের পেট ভরছে কি? এই ছবি সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল। কারন একমাত্র উগ্ৰ জাতীয়তাবাদ।

বামপন্থী দলগুলো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করছে প্রতিনিয়ত। রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করছে। অভুক্ত মানুষের কথা বলছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা বলছে। সাধারণ মানুষের কথা বলছে।

বামপন্থী’রা প্রতিদিন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে চলেছে। এই মুহূর্তে বিকল্প কেরালা সরকার। দেখে শিখতে হয়। মানুষ গুলোকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে কেরালা মডেল অবলম্বন করা উচিৎ ভারতের সব রাজ্যসহ কেন্দ্র সরকারের। ভারতবর্ষে যেন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত না হয়।

কিন্তু এখনও ভারতীয় মিডিয়া ও সরকারের কোনো হেলদোল নেই। ভারতীয় জনতা এখনও পাকিস্তান ও চিনের পিছনে পড়ে আছে। এর নাম উগ্ৰ জাতীয়তাবাদ। ভারতীয় মিডিয়া এখনও নিশ্চুপ! কিন্তু কখন ঘুম ভাঙ্গবে?
বামপন্থী’রা আসল দেশপ্রেমিক। জাতীয়তাবাদী।
সাধারণ মানুষ কবে বুঝবে? একদিন বুঝতে হবে। কারন। অভুক্তি মানুষকে পক্ষ নিতে শেখায়। আগামী দিনে খুব ভয়ঙ্কর হ’তে চলেছে। সচেতনতা, এবং সঠিক সিদ্ধান্ত এখন মানুষকে পারে বাঁচার দিশা দেখাতে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।