বিদেশ

মহামারিতে মৃত্যুঞ্জয়ী সমাজতান্ত্রিক ভিয়েতনাম


স্বাতী শীল:চিন্তন নিউজ:১৪ই এপ্রিল:-আক্রান্ত ২৬৫। মৃত্যুহীন ভিয়েতনাম।করোনা প্রতিরোধে গোটা দুনিয়ার কাছে মডেল। সমাজতান্ত্রিক মডেল। ” দেশকে যদি ভালোবাসো, থাকো ঘরে”, পোস্টার পড়েছে হোচি মিন সিটি জুড়ে।সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে ভিয়েতনামী জাতীয়তাবাদের মিশেল, ভিয়েতনামের নিজস্ব প্রোপাগান্ডা পোস্টার। ছবি এঁকেছেন শিল্পীরা, কথা জুড়ে দিয়েছেন ছবিতে। মেনেছে গোটা দেশ।মহামারিতে আক্রান্ত দুনিয়া। সেখানে এই দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ২৬৫ জন, সিংহভাগই এখন সুস্থ।

চীনের প্রতিবেশী দেশ এই ভিয়েতনাম। সেই চীন,করোনার থাবা যেখানে সবার প্রথম পড়ে মুহূর্তের মধ্যে ছারখার করেদিয়েছিল দেশটিকে। তার পাশেই অবস্থিত ভিয়েতনাম,দু’দেশের মধ্যে চৌদ্দশ কিলোমিটার পর্যন্ত সীমানা রয়েছে। এই অবস্থায় ভিয়েতনাম কিভাবে নিজেকে করোনার আঁচ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছে আসল বিষয় হলো এটাই।

২৩-০১-২০২০ প্রথম করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া যায় এই দেশে।রোগীর সংখ্যা যখন ৬,তখনই ভিয়েতনাম কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করে করোনার বিরুদ্ধে। সেনার সাহায্য নিয়ে দেশে শুরু হয়ে যায় লক ডাউন।না কোনো বিশেষ প্রযুক্তি নয়, কোন অতিনাটকীয় পদক্ষেপ নয়, শুধুমাত্র মানুষের নজরদারির ওপর ভিত্তি করে চলে এই লক ডাউন।মানুষ যাতে আইসোলেশন থেকে বেড়তে না পারে,সেই ব্যাপারে নিশ্চিত করে দেশের সরকার। বহিরাগতদের বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা হয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ও সঠিক রণকৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে কড়া হাতে সংক্রমণ রুখতে সক্ষম হয়েছে ভিয়েতনাম।সেই কারণেই অধিকাংশ আক্রান্ত সম্পূর্ণরূপে সুস্থ এবং মৃত্যুর সংখ্যা শূণ্য,সত্য গোপন না করেই। খুব তাড়াতাড়ি আর দেশে একজনও করোনা আক্রান্ত থাকবেন না বলে বিশ্বাস ভিয়েতনাম প্রশাসনের।

দেশে কেরালা, দুনিয়ায় ভিয়েতনামের এই সাফল্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বহুল প্রচলিত স্লোগান,”বিকল্প বামপন্থা-ই” কথাটি আরো একবার প্রমাণ করে দিল। মহামারিতে দিশাহারা পুঁজিবাদ আর বিপরীতে সৃজনশীল নির্মাণের সমাজতন্ত্র।মহামারিতেও ফিরে আসছেন মার্কস, অপরাজিত দর্শন নিয়ে। হাভানা থেকে হোচিমিন সিটিতে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।