রাজ্য

করোনা ও আমফান বাইরে নিয়ে এল প্রশাসনের কঙ্কালরূপ


কাকলি চ্যাটার্জি: চিন্তন নিউজ:৩০শে মে:-পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ, অশোভন মন্তব্য চলছে সেই লকডাউনের শুরু থেকেই। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অঞ্চল থেকে মিললো আটজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি। পরিযায়ীদের বাড়ি ফেরা আটকাতে বলেছিলেন “জেনেশুনে আমি ওদের আসতে দিতে পারি না।” বিদেশ ফেরত এরোপ্লেনে করে আমলা বা কর্পোরেট বন্ধুদের হাত ধরে করোনা এল রাজ্যে আর সেই দোষ চাপানোর মরীয়া চেষ্টা প্রান্তিক মানুষের ঘাড়ে। শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনকে ‘করোনা এক্সপ্রেস’ বলে ব্যঙ্গ করতেও ছাড়লেন না যখন কিনা তাঁর দলেরই বিধায়ক করোনা আক্রান্ত।

গত চব্বিশ ঘন্টায় রাজ্যে মৃতের সংখ্যা সাত এবং করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৩০২ জনের, এরা কিন্তু কেউই পরিযায়ী নন। রাজ্যে ফেরা শ্রমিকদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কার্যত ছেলেখেলা করছেন। তাঁদের থাকা, খাওয়া, লালারসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব, কেন্দ্র-রাজ্য একে অপরকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত। এরকমই একদল মুম্বাই থেকে ফেরা শ্রমিকদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালের বাথরুমে রাখার অভিযোগ তুলেছেন ভাঙ্গরের গোরাগাছা গ্ৰামের ভুক্তভোগী শ্রমিক ভাইয়েরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। কোয়েরেন্টাইনে রাখার মত বিদ্যালয় থাকলেও তা ব্যবহার করা হয়নি। বাথরুমের নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। করোনা না হলেও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মিলছে না প্রয়োজনীয় খাবার এবং পানীয় জল। বাড়ির লোকজন এসে দূরে রেখে যাচ্ছেন খাবারদাবার। এলাকায় তো প্রশাসন বলতে কিছুই নেই। স্থানীয় মানুষজন ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, অভিযোগের আঙুল তুলেছেন সরাসরি প্রশাসনিক প্রধান ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর অনুচরদের ওপর। এ ব্যাপারে কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক প্রধান প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন অভ্যাসমতোই।

করোনা আক্রান্ত পুলিশদের চিকিৎসায় গাফিলতি, কর্মরত পুলিশ কর্মীদের উপযুক্ত নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ বাড়ছে পুলিশ মহলেও। কার্যত কোভিড১৯ এবং আমফান নিয়ে প্রশাসনের নগ্নতার ছবি, কঙ্কালসার চেহারা এখন সবার চোখের সামনে। চমকে ধমকে কিছুদিন কিছু মানুষ কে বোকা বানানো গেলেও সেটা যে চিরস্থায়ী নয় সেটা আজ মাননীয়া হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।