জেলা

বিকাশের অজুহাতে রেলের অমানবিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মানুষের গণ প্রতিরোধের কনভেনশন।


কিংশুক ভট্টাচার্য,বাঁকুড়া:-চিন্তন নিউজ: ২৮জুন:- দুই হাজার আট সালে প্রাক্তন সাংসদ বাসুদেব আচারিয়া যখন স্ট‍্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম‍্যান তখন মুকটমণিপুর কোলকাতা রেল যোগযোগের জন‍্য রেল লাইন পাতার বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়। তখন দীর্ঘদিনের রেল লাইন পার্শ্ববর্তী বস্তি সরানোর ভাবনার শুরু। এবং তখন রেলের পক্ষ থেকে লাইনের ধারে বসবাসকারীদের পুনর্বাসনের দিয়ে রেল কাজ শুরু করার কথা আলোচিত হয়। পরবর্তী কালে বিষয়টা যে কোনও কারনেই বাস্তবায়িত হয় নি।

দুই হাজার তেরো /চোদ্দ সাল থেকে হঠাৎ রেল দপ্তর রেল লাইন বরাবর একটি সংযোগকারি রাস্তা করার জন‍্য লাইন পার্শ্ববর্তী বসতি উচ্ছেদের জন‍্য নোটিশ দেওয়া শুরু করে। এই প্রশ্নে সতেরো এবং আঠারো নম্বরের কাউন্সিলর রা এলাকার কিছু মানুষকে সাথে নিয়ে আদ্রা ডিআরএমের সাথে দেখা করে পুর্বাসন ব‍্যাতিরেকে ঊচ্ছেদের ক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়ে আসেন। রেলের তরফেও কোনও নির্দিষ্ট উদ‍্যোগ লক্ষ‍্য করা না গেলেও বিভিন্ন সময় আরপিএফ অথবা রেলের কর্মচারী পাঠিয়ে বস্তি বাসীকে উঠে অনত্র চলে যাবার চাপ দেয়।

পরবর্তীতে একটা হিয়ারিং এর ডাক দেয় আদ্রায়। তাতে এলাকাবাসী দুই কাউন্সিলর সহ উপস্থিত হলে কোন শর্ত ছাড়া রেলের জমি স্বেচ্ছায় সরে যাবার মর্মে একটি ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষরের জন‍্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। হিয়ারিং এ অংশগ্রহনকারিদের মধ‍্যে এক/দুজন বাদে বাকীরা ঐ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরে অসম্মত হয় ও চলে আসেন।

এখন হঠাৎ লকডাউন চলাকালীন গত আঠারো মে জানা যায় রেল রাস্তা করার জন‍্য আনাঢ়া নিবাসী কোনো দীপক মেহেতাকে ঠিকাদার নিয়োগ করেছে। এবং উক্ত ব‍্যক্তি লোকজনসহ কাজ শুরুর উদ‍্যোগ নেন।

এই অবস্থায় এলাকার কিছু যুবকর্মী বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ ও পোষ্টার ইত‍্যাদি করে। একইসাথে আঠেরো নম্বরের কাউন্সিলর ও এলাকার মানুষের সাথে সভা করেন। নির্দিষ্ট দিনে ঠিকাদার কাজ শুরুর উদ‍্যোগ নিলে দলমত নির্বিশেষে সব মানুষ যৌথভাবে প্রতিরোধে নেমে পরেন। সেখানে সতেরো ও আঠারো নম্বরের কাউন্সিলর দ্বয়, শ্রমিক নেতা প্রতীপ মুখার্জি ও কিঙ্কর পোষাক, প্রভাত কুসুম রায়, ভাস্কর সিনহা, লক্ষ্মী সরকার ইত‍্যাদি রা জনগণের সমবেত বিক্ষোভে অংশগ্রহন করেন। উপস্থিত জনমতের চাপে রেল অফিসার পাঠিয়ে পাঁচ জন প্রতিনিধি র সাথে তিন নম্বর গেটে আলোচনায় বসে। সমস্ত এলাকাবাসীর সামনে রেলের অফিসার দের সাথে প্রতিনিধি দল আলোচনায় বসেন। এবং স্পষ্ট ভাষায় বলে দেওয়া হয় যে লকডাউন চলা কালীন কোন কথা হবে না। এবং রেল তার জমি ফেরত পাবে অবশ‍্যই কিন্তু যুক্তি ও বাস্তব সম্মতভাবে দীর্ঘ তিরিশ বছরের বেশী সময় ধরে বসবাসকারী গরীব মানুষকে পুনর্বাসনে র বিকল্প ব‍্যাবস্থা করেই রেলকে তার জমির দখল নিতে হবে। এই প্রশ্ন লকডাউন পরবর্তী সময়ে আলোচনা হবে এবং ততদিন কোন কাজ করা যাবে না। এবং রেলের পক্ষে উপস্থিত অফিসাররা তাতে সহমত হন।

ঐদিন সাংসদের রাজনৈতিক দলের কিছু কর্মী প্রথম অবস্থায় বিভ্রান্তি ছড়ানর চেষ্টা করলে এলাকাবাসী র সম্মিলিত প্রতিবাদে পালিয়ে যেতে বাধ‍্য হলেও পরবর্তী সময়ে সাংসদ নিজে এলাকায় এসে আবার বিভ্রান্তি কর ও মিথ‍্যে প্রচারের চেষ্টা করেন। তিনি সমস্ত সমস‍্যা পূর্বতন রাজ‍্য সরকারের ব‍্যার্থতার ফলে ও বাম সরকারের সময়কার ত্রুটি বলে উল্লেখ করে, বর্তমান রাজ সরকারকে সমাধানের দায়িত্ব নেবার কথা বলেন এবং রেল বা কেন্দ্রের কোন দায়িত্ব নেই বলার চেষ্টা করার ফলে এলাকার মানুষ তীব্র বিক্ষোভ দেখান। যার ফলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ‍্য হন যে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ হবে না।

কিন্তু সব প্রতিশ্রুতি ভুলে রেল আবার নতুন করে পনেরো দিনের সীমা নির্দিষ্ট করে নোটিশ পাঠিয়েছে। যে সময়সীমা আগামী শুক্রবার শেষ হবে।

গত আঠারো মে তারিখের বিক্ষোভের সময় গণস্বাক্ষরিত দাবীসনদ, ডিআরএম, বাঁকুড়া পৌরসভারপ্রধান, বিধায়ক, জেলা শাসক, মূখ‍্যমন্ত্রী, সাংসদ ও প্রাক্তন সাংসদ শ্রী বাসুদেব আচারিয়ার কাছে কাউন্সিলরদের সুপারিশ সহ পাঠান হয়।

বর্তমানে অসমর্থিত খবরে প্রকাশ রেল তার প্রকল্প রূপায়নের জন‍্য রাজসরকারের সাহায‍্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে যা ইতিমধ্যে ই বাঁকুড়ার জেলা শাসকের কাছে পৌছে দেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।

উল্লিখিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার বসবাসকারি দুই বাম যুবকর্মী সন্দীপ বিশ্বাস ও রমিত ভট্টাচারিয়া যাঁরা গত আঠারো মের ঘটনার সময়েও মূল উদ‍্যোক্তা ছিলেন , এলাকার বসবাস কারি মানুষদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে তাঁদের উপদেশ মোতাবেক রবিবার বিকাল তিনটে তিরিশ মিনিট নাগাদ একটি নাগরিক কনভেনশনের করে পরবর্তী কর্মসূচী ঠিক করার উদ‍্যোগ গ্রহন করে। এই কনভেনশনে তাঁরা সব রাজনৈতিক দলের ও জন প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেন।

তাঁদের আবেদনের প্রতি সহমর্মিতা ও সমর্থনের সদিচ্ছার প্রকাশ হিসেবে সমস্ত রাজনৈতিক দল পৌর প্রশাসক মন্ডলী ও বিধায়ক তাঁদের প্রতিনিধি পাঠান।

যদিও সাংসদ বা তাঁর কোন প্রতিনিধি বা ভারতীয় জনতা পার্টির কোন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না বা কোন বার্তাও পাঠান নি। উপরন্তু ঐ দলের দু একজন কর্মী সভার শেষের দিকে মদ‍্যপ অবস্থায় সভার কাজে বিঘ্ন ঘটানর চেষ্টা করে।

কনভেনশন সভা পরিচালনা করেন প্রাক্তন কাউন্সিলর ও কংগ্রেস নেতৃত্ব শ্রী লক্ষ্মী কান্ত বিশ্বাস। মূল প্রস্তাব উত্থাপন করেন এলাকার যুব কর্মী এবং কনভেশনের ব‍্যাবস্থাপকদের অন‍্যতম সন্দীপ বিশ্বাস। তিনি প্রস্তাব ঊত্থাপন করতে গিয়ে সম্পূর্ন অবস্থার বিবরন সহ উপস্থিত বিশিষ্ট মানুজন ও সম্ভাব‍্য ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের কাছে এই আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপদেশ প্রার্থনা করেন। প্রস্তাবের সমর্থনে এসইউসি দলের পক্ষে শ্রীমতি লক্ষ্মী সরকার সিআইটিইউ জেলা নেতৃত্ব প্রতীপ মুখার্জি, সিপিআই জেলা নেতৃত্ব ভাস্কর সিন্হা, পার্শ্ববর্তী ঊনিশ নম্বর ওয়ার্ডের পক্ষে সেখ মানোয়ার, সিপিআইএম এর রাজ‍্য কমিটির সদস‍্য অভয় মুখার্জি, জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষে অভিষেক বিশ্বাস, তৃণমূলের পক্ষে সুদীপ চক্রবর্তী সিপিআইএম জেলা কমিটির সদস‍্য প্রভাত কুসুম রায়, সতেরো নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রদীপ দাস ও আঠারো নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অনন‍্যা রায় চক্রবর্তী ও সম্ভাব‍্য ক্ষতিগ্রস্ত দের মধ‍্য থেকে স্বর্ণ রায় বক্তব‍্য উপস্থাপন করেন।

বক্তারা প্রত‍্যেকেই তাঁদের রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এই নাগরিক আন্দোলনকে সর্বোতভাবে সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁরা একটি নাগরিক কমিটি তৈরী করে আগামী দিনে আন্দোলন পরিচালনা করার উপদেশ দিয়েছেন।তাঁরা আগামী শুক্রবারের আগেই জেলা শাসকের সাথে যোগাযোগ করে এই সভার বক্তব‍্য সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করার উপরে গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁদের প্রস্তাব মতো একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এবং কমিটির সদস‍্যদের নাম পরবর্তী তে জানানো হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।