রাজ্য

প্রশ্নের মুখে মেজাজ হারালেন অবরুদ্ধ মুখ্যমন্ত্রী


সুপর্ণা রায়, চিন্তন নিউজ, ১৩ জানুয়ারি: ১২ই জানুয়ারি কলকাতা শহর এক বেনজির বিক্ষোভ সমাবেশ দেখলো। বিক্ষোভ সমাবেশ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সড়কপথ ছেড়ে চপারে চাপতে হয়েছে। বিক্ষোভের জেরে পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে একটানা বেশ কয়েক ঘণ্টা অবরূদ্ধ হয়ে থাকতে হলো শহরের পড়ুয়াদের হাতে।

প্রধানমন্ত্রী আসার পর থেকে “গো ব্যাক” ধ্বনিতে মুখরিত করেছিল যে ছাত্ররা তারাই রাত আটটার সময় মিছিল করে তৃনমুলের ধর্না মণ্ডপের সামনে। ব্যারিকেড ভেঙেছে, পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে আটকাতে। তাদের প্রশ্ন “মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যদি সত্যি সত্যিই এন আর সি বিরোধী হন, তাহলে মোদী র সাথে বৈঠক কেন?” ছাত্রদের দ্বারা ঘেরাও মুখ্যমন্ত্রীকে এদিন শুনতে হয়েছে “ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে, দিদি তুমি কাদের দলে”, “তৃণমূলের ঝান্ডা ছাড়ো, বিজেপির ঝান্ডা ধরো।” সরাসরি এদিন অভিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে ঘেরাও হয়ে থাকতে গত কয়েক দশকে দেখেছেন কিনা কেউ মনে করতে পারলেন না। “মোদীর এজেন্ট মমতা, জেনে গেছে জনতা” পড়ুয়াদের এই স্লোগানে যখন কলকাতা মুখরিত তখন মুখ্যমন্ত্রীর সব হুঁশিয়ারি, হুমকি, ধমক চমক সব বেমালুম চাপা পড়ে যাচ্ছে পড়ুয়াদের চিৎকারে। পিঠে ব্যাগ আর হাতে সংবিধান রক্ষার প্ল্যাকার্ড। দিশেহারা তৃণমূল কর্মীরা ও তাঁবেদার পুলিশরা।

কলকাতার রাস্তায় এক নজিরবিহীন ঘটনা। অগত্যা যখন মুখ্যমন্ত্রীকেই মাইক ধরে বলতে শোনা গেল “ক্যা ক্যা ছি ছি” পড়ুয়ারা তখন পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেছে “মোদীর এজেন্ট দিদি ছি ছি।” এই শুনে খোদ মুখ্যমন্ত্রীও থমকে গেছেন। রাণী রাসমণি রোডে খোদ মুখ্যমন্ত্রী যে এন.আর.সি বিক্ষোভের মুখে আটকা পড়বেন, এ কথা পুলিশ বা প্রশাসন কেউ আঁচ করতে পারে নি।

এরপর পড়ুয়াদের শান্ত করতে মুখ্যমন্ত্রীকেই হাল ধরতে হয়। তিনি বোঝাতে চেষ্টা করেন কেন তাকে মিলেনিয়াম পার্কে থাকতে হলো, কেন তাকে সাংবিধানিক প্রোটোকল মানতে হলো ইত্যাদি। কিন্তু আজকালকার পড়ুয়া ওরা, একেবারে নাছোড়বান্দা। তাদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী কে বলতে হবে “গো ব্যাক মোদী”, মুখ্যমন্ত্রীকে বলে “আপনি নিজে বলুন এন.পি.আর হবেনা।” ব্যস যথারীতি মেজাজ গরম করে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী। রীতিমত খেপে গিয়ে বললেন, “হু আর ইউ? তোমাকে বলব কেন? ওসব ছাত্র আন্দোলন অনেক দেখেছি।”

একজন পড়ুয়া প্রশ্ন করে, “কামারহাটি পৌরসভা এন পি আর এর নোটিশ কেন দিয়েছে?” ভীষণ ভাবে চটে গিয়ে মমতা ব্যানার্জি বলেন, “আমি তোমাকে কিচ্ছু বলবো না।” তারপর স্বভাবসিদ্ধ আচরনে মাইক হাতে নিয়ে বলতে শুরু করলেন, “আমাদের ছেলেদের খবর দাও, ব্লকে ব্লকে খবর পাঠাও। তারা যেন এক্ষুনি এখানে চলে আসে।” ব্যস এমন নজিরবিহীন আদেশ শুনে দিদির ভাইয়েরা লাঠিসোটা নিয়ে ধর্নামঞ্চের দিকে আসতে শুরু করে। কিন্তু ওখানকার পড়ুয়াদের জমায়েত দেখে আর এগোতে সাহস পায় নি।

শেষ কবে দেখেছে মানুষ প্রিয় কলকাতা শহরের এমন দৃশ্য? কলকাতা শহর তার চেনা ছবিকে হারিয়ে প্রতিরোধের নতুন ইশতেহার লিখছে তখন। শহরের যৌবনের হাতে টানা আট ঘন্টা অবরুদ্ধ হয়ে থাকলো ধর্মতলা। দলমত নির্বিশেষে রাস্তায় বসে আছে মানুষ। শীতের শহরে প্রতিবাদের বসন্ত। সাদা ব্যানারে লেখা, “জীবন এখন রাস্তায়।”


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।