কলমের খোঁচা

কমরেড মাও সে তুং


স্বাতী চক্রবর্তী: চিন্তন নিউজ:২৭শে ডিসেম্বর:– কমরেড মাও এর সম্পর্কে কিছু লিখতে গেলে ওনার ঐতিহাসিক লং মার্চের কথা বলতেই হয়। সন ১৯৩৪, চীনের সাধারণ মানুষের উপর দুই শত্রুর আক্রমণ। এক দিকে হিটলারের দোসর জাপানী সাম্রাজ্যবাদী আর অন্য দিকে ঘরের শত্রু চিয়াং কাই শেক। সাধারণ মানুষদের এবং সমস্ত নিপীড়িত ও অত্যাচারিত জনগণকে লড়াই আনার জন্য এক লং মার্চ এর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীকালে চীন তথা দুনিয়ার মুক্তি যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে গণ্য হয়।

১৯৩৪এ কমরেড মাও এর নেতৃত্বে লং মার্চ শুরু হয়েছিল চিয়াংশি প্রদেশ থেকে এবং শেষ হয়েছিল পীত নদীর তীরে শেনসি প্রদেশে। দীর্ঘ ছয় হাজার মাইলের রাস্তা পার করার সময়ে এগারো টা প্রদেশ অতিক্রম করেছিল।
কমরেড মাও এর নেতৃত্বে এই ঐতিহাসিক লং মার্চ দুনিয়ার কমিউনিস্ট আন্দোলনের এক শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, কষ্ট সহিষ্ণুতার পরিচয় রয়ে গিয়েছে।

এই দীর্ঘ পথে প্রায় কমরেড মাও এর নেতৃত্বে লালফৌজকে ১৮ টি পর্বত মালা ও ২৪টি নদী পার হতে হয়েছিল যা সামরিক যুদ্ধের ইতিহাসে আজও দৃষ্টান্তমূলক হয়ে রয়েছে। অনেকের বিশ্বাস মহাত্মা গান্ধীজী ও ওই লংমার্চ থেকেই ওনার ডান্ডী অভিযানের প্রেরণা পান। দীর্ঘ রাস্তায় নানা রকমের প্রাকৃতিক দুর্যোগের এবং জাপানী সৈন্য ও চিয়াং বাহিনীর সৈন্যদের আক্রমণের প্রতিরোধ করে শেষ লক্ষে পৌঁছেছিলেন । এই লং মার্চের জয়কে কমিউনিস্ট আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক জয় এর নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়।

আজ ভারতবর্ষে কৃষকদের লং মার্চও ওই লড়াই থেকেই প্রেরণা পায়। এই লং মার্চ থেকেই আজও দেশে দেশে জনগণের আন্দোলন উৎসাহ ও লড়াই করার প্রেরণা পেয়ে থাকে। এই লং মার্চ চলাকালীন এক শিশু এসে কমরেড মাওকে জিজ্ঞেস করেছিল, আমি কি করে আপনাদের সাথে আসতে পারি। কমরেড মাও ওর কথার উত্তরে বলেছিলেন যে তুমি যে আমাদের সাথে আসতে চেয়েছো এটাও লং মার্চের একটা অপরিহার্য অংশ। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যায়, লড়াই এর সাথে থাকার ইচ্ছাও যুদ্ধে জেতার রাস্তা এগিয়ে নিয়ে যায়।

তাই আজও চীন, ভিয়েতনাম, কিউবা, এরা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে লড়াই করার ইচ্ছা থাকলে জয় নিশ্চিত।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।