কলমের খোঁচা

শিশু দিবস ও আমার ভাবনা।


মিতা দত্ত: নিজস্ব প্রতিবেদন: চিন্তন নিউজ: ১৪ই নভেম্বর:– প্রত্যেক মায়ের চাওয়া, আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে। সন্তানকে কে দুধেভাতে রাখবে ? রাষ্ট্র, সমাজ না পরিবার – এই প্রশ্ন মায়েদের মনে উদয় হয় না। অনেকের ভাবনা পরিবারের দায়িত্ব সন্তানকে ভালো রাখা। কিন্তু সত্যিই কী পরিবারের বিষয়। শ্রেণী বৈষম্য সমাজে কোনো পরিবার সন্তানের সমস্ত দায়িত্ব নিতে পারবে কী?

আমরা যদি প্রথম থেকেই ধরি, একটি শিশু যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন থেকেই তার শৈশব শুরু । সেক্ষেত্রে সব শিশুর সমান বিকাশ হয় না। মায়ের আর্থ- সামাজিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে তার বিকাশ কিভাবে হবে। এভাবেই সমান যত্ন পাওয়ার দাবীদার ভ্রুণেরা অসমান ভাবে বেড়ে ওঠে। আবার কন্যাভ্রুণ হলে অনেক সময় তাকে পৃথিবীর আলো থেকে বঞ্চিত করা হয়।

পৃথিবীতে আসার পর শুরু হয় আরো বৈষম্য। কেউ পায় অত্যধিক যত্ন,যেটা স্বাভাবিক , কেউ বা অত্যধিক অনাদর। এভাবেই বেড়ে ওঠে জাতির ভবিষ্যতেরা । বৈষম্য চলতে থাকে।একটু বড়ো হয়ে কাউকে চুমু দিয়ে স্কুলে পাঠানো হয় কাউকে যেতে হয় মাঠে , চায়ের দোকানেও আরো কাজে, না কোনো চুমু তাদের জোটে না। কাজ করতে অক্ষম শিশুদের জোটে গালিগালাজ। সাথে অল্প কিছু মজুরী কারণ শৈশবেই তারা মজুর ।

এখনতো স্কুলে নানা ভাগ। সরকারী স্কুলের নাম খিচুড়ি স্কুল। খিচুড়ি স্কুলে চাকুরীরত শিক্ষক, শিক্ষিকারা তাদের বাচ্চাকে খিচুড়ি স্কুলার ভর্তি করে না। তাদের জন্য অট্টালিকা। তাই সমাজে বৈষম্য। শিশুদের মধ্যে গড়ে ওঠে নানাবিধ ব্যবধান। তাদের মানসিক গঠন ব্যাহত হয়। তারা না চেনে নিজেকে, না চেনে সমাজ যার ফল কী মারাত্মক তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

মনে পড়ছে সুকান্তের কবিতা — এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি,
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

এই দিনে আমাদের এই অঙ্গীকারনামা করতে হবে – শ্রেণী বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে লড়াই করতে হবে। তবেই শিশুদের সমান বিকাশ সম্ভব।নইলে শিশুদের অসহায় অবস্থা দেখে দুঃখপ্রকাশ করা কুম্ভীরাশ্রু করার নামান্তর।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।