দেশ

শিশু অভিনেতা তালহা আরশাদ রেশি জানেই না তাঁর পুরস্কার প্রাপ্তির খবর


মৌসুমী চক্রবর্তী, চিন্তন নিউজ, ১২ আগষ্ট: সেরা শিশু অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার এখন তার ঝুলিতে। কিন্তু সে খবরটুকুও হয়তো সময় মতো পৌঁছয়নি ছোট্ট তালহা আরশাদ রেশির কাছে। সেরা শিশু অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছে কাশ্মীরের বাসিন্দা ‘হামিদ’ সিনেমার জন্য যৌথভাবে, আট বছরের তালহা। পুরস্কার ঘোষণার পর থেকে অনেক চেষ্টা করেও তালহা বা তার বাবার ফোনে লাইন পাওয়া যায় নি বলে পরিচালক এজাজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন । এজাজ় জানিয়েছেন ‘‘এত বড় খবর ওদের কাছে পৌঁছে দিতে না পারায় মর্মাহত।’’

বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হলেও, হেল্পলাইনে পরিবারের লোকের সঙ্গে কথা বলার কিছুটা সুযোগ হলেও কাশ্মীর এখনও স্বাভাবিক নয়। মোবাইল, ইন্টারনেট চালু হয়নি। নেই প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার সুযোগ। কাশ্মীরি লোকসঙ্গীত শিল্পী আলি সইফুদ্দিন জানিয়েছেন, তাঁর ৭৮ বছরের ঠাকুরমা হাঁপানির অসুখে আক্রান্ত। ওষুধের প্রয়োজন নিয়মিত। ওষুধের জন্য ভোর চারটেতে শ্রীনগর বিমানবন্দর পৌঁছন আলি। সেখান থেকে বিমানে নয়াদিল্লি। দিল্লি এসে ওষুধ কেনার পরপরই ইংল্যান্ডে থাকা বাবা-মাকে ফোন করেন আলি। পাঁচ দিন পর শিল্পীর গলা শুনে তাঁর মা কেঁদে ফেলেন। শ্রীনগরে ফেরার টিকিটের ব্যবস্থা করেন আলি পরের দিনই। অনেক বড় আর একটা দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন তিনি। ক্যানসারে আক্রান্ত এক প্রতিবেশী চিকিৎসার জন্য দিল্লি এসেছেন ক’দিন আগে।খুব দ্রুত অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করতে হবে তাঁর। শ্রীনগরে পরিবারকে সেই খবর পৌঁছনোর দায়িত্ব এখন আলিরই।

প্রশ্ন কিন্তু থাকছেই কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে।
ছ’সাত দিন পর নিজের মায়ের সঙ্গে কথা বলেন বলে আজ টুইট করলেন জম্মু ও কাশ্মীর পিপল্‌স মুভমেন্টের অন্যতম নেত্রী শেহলা রশিদ। তিনি জানান, গত ৪ঠা অগস্ট আলোচনা সভায় যোগ দিতে বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন। তার পর থেকে মায়ের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয় নি।বেশ কয়েকটি দিন পর তাঁর মা ডিসি অফিসে গিয়ে হেল্পলাইনের মাধ্যমে তাঁকে ফোন করেন। শেহলা জানান, “মাকে অনেক কষ্ট করে ডিসি অফিসে আসতে হয়েছিল এবং তিনি কাঁদছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, আমায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এক মিনিট কথা বলা গেছে। কারণ, কথা বলার জন্য সেখানে লম্বা লাইন।’’

দিল্লির ছাত্র এহতিশাম ফজিলি মায়ের কান্না দেখেন একটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ভিডিও লিঙ্কে। টুইটারে তা শেয়ার করেছিলেন বাবা উমর নামে এক ব্যক্তি। দেখা যায়, এক কাশ্মীরি মহিলা কাঁদছেন। বলছেন, ‘‘আমরা, কাশ্মীরিরা কী অপরাধ করেছি?’’ ভিডিয়োর নীচে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে ট্যাগ করে ফজিলি লেখেন, ‘‘উনি তো আমার মা!’’ আজ ভোরে আর একটি পোস্ট করে তিনি জানান, কাশ্মীরে যাচ্ছেন। ‘নো কমিউনিকেশন জ়োনে’ ঢুকে পড়ছেন তিনি। আপাতত সেটিই তাঁর শেষ পোস্ট।

কিছু দিন আগে সি.পি.আই.এম. সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ও ডি. রাজা কাশ্মীরে তাদের দলের বিধায়ক এবং নেতৃত্বের সাথে দেখা করতে যান। এই বিষয়ে ইয়েচুরি আগে থেকেই কাশ্মীরের রাজ্যপালকে জানিয়েছিল। তারপরেও তাদেরকে শ্রীনগর এয়ারপোর্টের বাইরে বেরোতেই দেওয়া হয়নি। সেখান থেকেই তাদের ফেরত আসতে বাধ্য করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন তৈরী হচ্ছে কাশ্মীরিদের পরিস্থিতি নিয়ে, কাশ্মীরের সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।