দেশ

সেচ্ছা অবসরের মোড়কে কর্মীছাঁটাইয়ের অভিনব পরিকল্পনা বিপিসিএল- এর


স্বাতী শীল: চিন্তন নিউজ: ২৯শে জুলাই:- একদিকে মহামারীর প্রকোপ, অনির্দিষ্টকাল ধরে অপরিকল্পিতভাবে চলে আসা লক ডাউন এ জেরবার দেশের সাধারণ মানুষ ।অন্যদিকে দেশের প্রায় সবকটি লাভজনক সরকারি সংস্থাগুলির বেসরকারিকরণের মাধ্যমে কিছু বিশেষ ব্যবসায়ী সংস্থার প্রতি নিজেদের আনুগত্য প্রমাণে মগ্ন নির্লজ্জ কেন্দ্র সরকার। এই অনিশ্চিত অবস্থায় দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে নিজের চাকরি বাঁচিয়ে চলার প্রয়াস করে চলেছে দেশের সাধারণ জনগণ ।বেসরকারীকরণ এর ফলে আগামী দিনে তাদের জীবিকা আদৌ থাকবে কিনা এই প্রশ্ন এখন প্রত্যেকের মনে। এই অবস্থায় কর্মী ছাঁটাই ক্ষেত্রে এক অভিনব পদ্ধতির সাহায্য নিল ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড সংক্ষেপে বিপিসিএল কর্তৃপক্ষ ।চালু হলো স্বেচ্ছামূলক অবসর গ্রহণের অভিনব পরিকল্পনা ।

বিপিসিএল একটি অতি পরিচিত লাভজনক সংস্থা ।বর্তমানে যার বাজার দর প্রায় ৯৭,২৪৭ কোটি টাকা। সরকার তার ৫২.৯৮ শতাংশ শেয়ারের পুরোটাই বিক্রি করতে চাইছে, যার মূল্য প্রায় ৫১,৫০০ কোটি টাকারও বেশি। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে সরকারি সংস্থা সমূহের বেসরকারিকরণের মাধ্যমে সর্বমোট ২.১ লক্ষ কোটি টাকা মুনাফা করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে কেন্দ্র সরকারের। সেই অনুযায়ী নীতি আয়োগ এর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের সম্পত্তি বিক্রির যাবতীয় পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলেছে দেশের অর্থমন্ত্রক। সেই লক্ষ্যকে পূর্ণতা দিতে ইতিমধ্যেই দেশের তৃতীয় বৃহত্তম তেল পরিশোধন ও দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেলের সংস্থা বিপিসিএল ভারত পেট্রোলিয়াম কে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কেন্দ্র।

এই অবস্থায় বেসরকারিকরণের পূর্বেই বিপিসিএল তার কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে একটি ইন্টার্নাল নোটিশ জারি করে। যাতে বলা হয়েছে যে, বিভিন্ন ব্যক্তিগত কারণে যারা আর এই কর্পোরেশনের হয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক নন বা অক্ষম তাদের জন্য স্বেচ্ছামূলক অবসর গ্রহণের পরিকল্পনা চালু করা হলো। তাদেরকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে এই নোটিশের মাধ্যমে। ২৩ শে জুলাই থেকে আগামী ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত এই প্রকল্প জারি থাকবে ।সংস্থার এক সিনিয়র অফিসার এই ঘটনার স্বপক্ষে অভূতপূর্ব যুক্তি স্থাপন করে জানিয়েছেন যে, অনেকেই প্রাইভেট ম্যানেজমেন্ট এর অধীনে কাজ করতে চান না। তাই তাদের জন্যই সংস্থার এই এক্সিট অপশন। পঁয়তাল্লিশ বছরের উর্ধে যেকোনো ব্যক্তি এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন।

বর্তমানে বিপিসিএল-এ প্রায় কুড়ি হাজার কর্মচারী রয়েছেন। ওই অফিসার মনে করেন যে অন্তত পাঁচ থেকে দশ শতাংশ কর্মী এই ভি আর এস পদ্ধতিকে বেছে নেবেন। বিশেষত যারা মনে করেন যে এই সংস্থাটি বেসরকারিকরণের ফলে তাদের ভূমিকা, অবস্থান বা পোস্টিং এর ক্ষেত্রে একটি বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে, তারা এই অপশনকে অবশ্যই কাজে লাগাবেন।সেক্ষেত্রে এই প্রকল্প গ্রহণকারী কর্মচারীরা তাদের চাকুরিকাল পর্যন্ত প্রতি বছর দু মাসের বেতনের সমতুল্য ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে এই সংস্থা দাবি করেছে।

এখন এই ভিআরএস প্রকল্প সংস্থার মালিকের, কেন্দ্রের নাকি কর্মীদের কাদের জন্য ঠিক কতটা লাভজনক হয়ে উঠবে সেটা দেখা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।