রাজ্য

ফুটছে পুকুরের জল: কারণ খুঁজছে বিজ্ঞানীরা


চৈতালী নন্দী, চিন্তন নিউজ, ৭ অক্টোবর: হরিপালের পশ্চিম গোপীনাথপুর পঞ্চায়েতের ভারামল্লপুরের একটি সাধারণ গ্রাম‍্য পুকুর। দিন ২০/২৫ ধরে ওই পুকুরের জল টগবগ করে ফুটতে দেখা যায়। গ্রামের মানুষের মধ‍্যে তৈরী হয় প্রবল আলোড়ন। খবর পেয়ে আশেপাশের গ্রামের মানুষজন ভীড় করতে থাকেন। পুকুরের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষজন ধ্বস নামার আশঙ্কা করছেন। এরই মধ‍্যে কিছু সুযোগসন্ধানী এই ঘটনার অলৌকিক ব‍্যখ‍্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে জল ফুটলেও জলের উষ্ণতা, বর্ণ, গন্ধের কোনো তারতম‍্য ঘটেনি, অথবা আগুন জ্বালিয়েও কোনো গ‍্যাসের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। মানুষকে বোঝানো হয় এটা কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। এর বিজ্ঞানসম্মত ব‍্যাখ‍্যা খুব শীঘ্রই পাওয়া যাবে। তাদের তরফ থেকে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড ওয়াটারের পূর্বাঞ্চলের অধিকর্তাকে এটির বিজ্ঞানসম্মত ব‍্যাখ‍্যা অনুসন্ধানের জন‍্যে অনুরোধ জানানো হয়।

সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড ওয়াটারের পূর্বাঞ্চলের ভূপদার্থবিদ অজয় সিনহা ঘটনাস্থলে আসেন, সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের তরুণ মন্ডল ও সন্দীপ সিংহ। তারা অতি সংবেদনশীল একটি যন্ত্রের মাধ‍্যমে (ট্রানজিয়েন্ট ইলেকট্রোম‍্যাগনেটিক মেথড) পরীক্ষা করে তথ‍্য সংগ্রহ করেন। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ চাপে জল বা গ‍্যাস দ্রুত উপরিভাগে উঠে এলে এই ধরণের আলোড়ন ঘটতে পারে। ‘আর্টেজিও কূপে’র ক্ষেত্রে যেভাবে ইউ আকৃতির জলস্তর থেকে ছিদ্রপথে উপরে উঠে আসে সেই সম্ভাবনা ও খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে জলস্তর বেড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে, যা এক্ষেত্রে ঘটেনি।

মাটির নিচে গ‍্যাসের উপস্থিতিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সেক্ষেত্রেও গ‍্যাসের সুবিশাল ভান্ডার হলে তবেই তা সম্ভব। অনেক সময় জলের নীচে পাতা পচে মিথেন গ‍্যাস তৈরী হয়, তা থেকেও বুদবুদ উঠে আলোড়ন তৈরী হতে পারে। গ্রামের মানুষজনকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। সবদিক খতিয়ে দেখে খুব শীঘ্রই এর বিজ্ঞানসম্মত ব‍্যাখা তাঁরা দিতে সক্ষম হবেন।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।