জেলা

বাঁকুড়া ও পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়া জেলার আন্দোলনের চালচিত্র।


চিন্তন নিউজ:-৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০:-পুরুলিয়া জেলার খবর সংগ্রাহক নীল্টু ঘোষ এর রিপোর্ট:- গতকাল বামপন্থী শ্রমিক, কৃষক ও ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের ডাকে পুরুলিয়া শহরে কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভায় বক্তব‍্য রাখেন ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সর্বভারতীয় সম্পাদক সিপিআইএম) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্র। তিনি তাঁর বক্তব‍্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত জনবিরোধী নীতির জনজীবনের কুপ্রভাব সহজবোধ‍্য ভাবে ব‍্যাখ‍্যা করেন।

বাঁকুড়া-সংবাদ সংগ্রাহক কিংশুক ভট্টাচার্য, জানিয়েছেন,
গঙ্গাজলঘাটির নিত্যানন্দপুরে পাট্টাদারদের সম্মতি না নিয়ে গেইল কোম্পানি রাজ‍্য সরকারের পুলিশ ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব‍্যাবহার করে জোর করে জমি দখল নিয়েছে। একই সাথে নিজেদের কাজের প্রয়োজনে ঐ জমির উপর বনসৃজন প্রকল্পে পাট্টাদারদের রোপন করা দুহাজার গাছ কেটে নেয় ঐ কোম্পানির আধিকারিকেরা।পাট্টাদারদের পক্ষ থেকে বার বার ব্লক ও জেলা জমি অধিগ্রহণ দপ্তরে আবেদন করা সত্বেও এখনো পর্যন্ত অধিগৃহিত একশত ষাট শতক জমির এবং জমির উপরের দুহাজার গাছের ক্ষতি পুরন পায়নি তিন পাট্টাদার। উপায়ান্তর না দেখে ঐ পাট্টাদারেরা যোগাযোগ করেন বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তীর সাথে। বিধায়ক শ্রী সুজিত চক্রবর্তী ঐ গ্রামে উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলেন ও আগামী দিনে সমস‍্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ‍্যোগ নেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন “যে সরকার সিঙ্গুরে টাটার কারখানা বন্ধ করলো জোর করে জমি অধিগ্রহণ করার মিথ‍্যে অভিযোগে। সেই সরকারই আবার পাট্টাদারদের জমি কোটি টাকায় গেইল কোম্পানির সাথে রফা করে অন‍্যায়ভাবে প্রশাসনিক ক্ষমতা বলে দখল করছে।” বিধায়ক সুজিত বাবু দাবি করেছেন অবিলম্বে এই দ্বিচারিতা বন্ধ করে পাট্টা দারদের সঠিক মুল্যে ক্ষতি পূরনের ব্যাবস্থা করতে হবে।এ প্রশ্নে সিপিআইএম জেলা সম্পাদক তথা রাজ‍্য কমিটির সদস‍্য অজিত পতি এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে সরাসরি জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে দাবী জানানো হবে এবং কথা বলে সমাধানে বাধ‍্য করার চেষ্টা করা হবে।

সারা দেশ ও রাজ্যের সাথে বাঁকুড়াতেও পালিত হলো মেহনতির দাবী দিবস।দেশব্যাপী মেহনতির দাবী দিবস পালনের কর্মসূচীর উদ্যোক্তা ছিলেন সিআইটিইউ, সারা ভারত কৃষক সভা ও সারা ভারত ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন।
বেসরকারিকরণ রুখতে , মোদী সরকারের শ্রম আইন পরিবর্তন রুখতে , কৃষিতে কর্পোরেটকরণ রুখতে যৌথভাবে প্রতিরোধের আহ্বান জানান উপস্থিত বক্তারা। এই কর্মসূচী পালিত হলো বাঁকুড়া শহরের রেল স্টেশনের সামনে স্টেশন রোডে, মেজিয়াতে ও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। দাবী উঠলো চাই সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবার । বিশেষ করে বিনামূল্যে কোভিডের পরীক্ষা ও চিকিৎসা চাই। চাই বিনামূল্যে রেশন। চাই আগামী ছয় মাস পর্যন্ত আয়কর যারা দেয় না এমন পরিবারকে মাসে সাড়ে সাত হাজার টাকা নগদ সাহায্য। দিতে হবে দৈনিক ছয়শত টাকা মজুরীতে বছরে দুইশত দিন এমজি এনআরইজিএ তে কাজ। – বাঁকুড়া স্টেশন রোডে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও সভায় দাবীগুলির সমর্থনে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ ও অন‍্যান‍্য বামপন্থি শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দ।

আজ বিষ্ণুপুরের সিপিআইএম এর দপ্তরের সভা কক্ষে কোতুলপুর, জয়পুর বিষ্ণুপুর থানা ও অঞ্চল কৃষক সভা কর্মীদের নিয়ে হলসভা করে ষোলদফা দাবির সমর্থনে মেহনতির দাবী দিবসের কর্মসূচী পালন করা হয়। এই হলসভায় বক্তব‍্য রাখেন কৃষকসভার জেলা সম্পাদক যদুনাথ রায়, সংগঠনের জেলা সভাপতি ষড়ানন পান্ডে ও সহসভাপতি আশীষ ঘোষ।

পশ্চিম মেদিনীপুর-সংবাদ সংগ্রাহক নীল্টুঘোষ।

একদা মাওবাদী,ও তৃণমূলী নাশকতার আঁতুড়ঘর!শালবনী-দুই এরিয়ার পিড়াকাটা থেকে জয়পুর, ভীমপুর হয়ে বুড়িপালা পর্যন্ত দাবি আদায় ও করোনা সচেতনতা যাত্রা!
রেগায় দুশত দিন কাজ, কৃষিক্ষেত্রে কালা অর্ডিন্যান্স বাতিল,বিনামূল্যে করোনার সমগ্র চিকিৎসা করার দাবিতে এআইকেএস, সিআইটিইউ, এআইএডব্লুএ, ডিওয়াইএফআই এক মোটর সাইকেল মিছিল করে মেহনতির দাবী দিবসের কর্মসূচি পালন করা হয়।

পূর্ব মেদিনীপুর -সংবাদ সংগ্রাহক নীল্টু ঘোষ।

গতকাল খেজুরী, হেঁড়িয়া অঞ্চলে ১৬দফা দাবির সমর্থনে মিছিল এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হল। গ্রামে গ্রামে খাদ্য সংকট , আটষট্টি শতাংশ মানুষের আয় কমছে ,এক বছরে চল্লিশ হাজার কৃষক দিনমজুর আত্মহত্যা করেছেন। বেকারী মহামারী থেকে মানুষকে বাঁচাতে ও ভারত বাঁচানোর দাবীতে সরব হন মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা। সিপিআই (এম) উপর মানুষ ভরসা রাখতে শুরু করেছে ফলে দেখা যাচ্ছে খেজুরি থেকে হেঁড়িয়া পর্যন্ত লালে লাল।

শোক সংবাদ ——
বাঁকুড়ার শ্রমিক আন্দোলনের দীর্ঘ দিনের কর্মী নাড়ু গোপাল দাস(তন্তুবায়) গত কাল প্রয়াত হন। তিনি কংগ্রেসী সন্ত্রাসের বছরগুলিতেও রিক্সশ্রমিকদের সিআইটিইউ এর পতাকা তলে সংগঠিত করে বাম আন্দোলনকে সম্মৃদ্ধ করেছিলেন ।অকুতোভয় নেতৃস্থানীয় এই কর্মী তীব্র অভাবের মধ‍্যেও সংগঠনের প্রতি আস্থায় অবিচল ছিলেন।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।