দেশ

অসম-মিজোরাম সীমা বিবাদ


সীমা বিশ্বাস ,অসম ২৮জুলাই চিন্তন নিউজ:— ‌‌গত ২৬ জুলাই তারিখে অসম – মিজোরাম সীমান্তের লাইলাপুর ভাইরেংটি অঞ্চলে মিজোরাম পুলিশের গুলিচালনার ফলে ৬ জন অসম পুলিশ সহ একজন অসামরিক লোকের মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক। শোকাবহ ঘটনাতে ৭১ জন পুলিশ সহ সাধারণ মানুষ আহত হন। উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির সঙ্গে অসমের সীমা বিবাদ দীর্ঘদিনের সমস্যা। অসম মিজোরামের সমস্যা ও অনেক দিন ধরে চলছে। কিন্তু গত ছয়মাসে এই বিবাদকে নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র রূপ ধারণ করে। পরিতাপের কথা যে এই উত্তেজনা প্রশমন করার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্ৰহণে দুই রাজ্য সরকার ব্যর্থ।

এই দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে বিবাদ নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এবং গৃহমন্ত্রণালয় যথাযথভাবে উদ্যোগ তথা দায়িত্ব পালনে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ২৫ জুলাই শিলংয়ে অনুষ্ঠিত উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য সমূহের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ্ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অসম মিজোরাম সীমান্তকে ধরে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য সমুহের সীমা সমস্যার সমাধান এবং সীমান্ত কেন্দ্রীয় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য ক্ষিপ্রতার সাথে ফলপ্রসূ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশা করা হয়েছিল কিন্তু গৃহমন্ত্রীর প্রস্থানের পরের দিন অর্থাৎ ২৬ জুলাই অসম মিজোরামের সীমা সংঘাতের ভয়াবহ ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করল যে পরিস্থিতির গভীরতা অনুধাবন তথা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়। সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে মুখ্যমন্ত্রীর চরম ব্যর্থতা প্রদর্শন করেছে। উল্লেখ্য যে আসামের মুখ্যমন্ত্রী উত্তর পূর্ব গণতান্ত্রিক মোর্চা (নেডা)র আহ্বায়ক এবং মিজোরাম সরকার ‘নেডা’ তথা কেন্দ্রের বি জে পি নেতৃত্বাধীন এন ডি এ র অংশীদার। এই ক্ষেত্রে আলাপ আলোচনার মধ্যে সীমা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ প্রশস্ত করার পরিবর্তে দুই রাজ্য সমুখ সমরে অবতীর্ণ হয়েছে তা অঞ্চলের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এর ফলে দুই রাজ্যের জণসাধারণের মধ্যে ভাতৃঘাতী সংঘর্ষের পথ প্রশস্ত করেছে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।