জেলা

কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারের অপদার্থতার ফলে করোনার কবলে জনগণ


দীপশুভ্র সান্যাল: চিন্তন নিউজ:২০শে এপ্রিল:- রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিচ্ছে এর মাঝেই জলপাইগুড়ি জেলা সদর হসপিটাল ও সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল (যার কোন স্পেশালিটি না দেখে মানুষেই তার নাম দিয়েছেন দশতলা হসপিটাল) দেখা গেল উলট পুরাণ সদর হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ সহ অন্যান্য বিভাগ এবং সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল এর ভ্যাকসিন নিতে আসা মানুষদের মধ্যে দেখা গেল অসম্ভব হুড়োহুড়ি। কোনরকম লাইন না করে দূরত্ব বিধি না মেনে চলছে চিকিৎসা ব্যবস্থা।

এদিকে জলপাইগুড়িতে প্রতিদিনই বাড়ছে করোণা সংক্রমণ জেলায় আজ ৯৬ জন করোণা আক্রান্ত হয়েছেন।  জলপাইগুড়ি শহরের সংখ্যাটা ৩৩। ভোট চলাকালীন বৃদ্ধি পেয়েছে  তৃণমূল-বিজেপির কোভিড বিধি না মেনে দলের  রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দরুন।

ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপির জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও জলপাইগুড়ি মিউনিসিপ্যালিটির প্রশাসক বোর্ডের সদস্য সন্দীপ মাহাতো। এদিকে আমাদের দেশের এবং রাজ্যের পরিস্থিতি দিনে দিনে আরো ভয়ানক হচ্ছে।  দ্বিতীয় পর্যায়ে অনুজীবী গতবছরের তুলনায় অনেক বেশি আগ্রাসী এবং মারণাত্মক।

দুঃখের হলেও সত্যি একটি অ-সংবেদনশীল সরকার কেন্দ্রীয় ক্ষমতায়। শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করে মেরুকরণ সম্ভব করে সংঘ পরিবারের স্বৈরাচারী শাসন বলবৎ রাখাই একমাত্র উদ্দেশ‍্য।  পশ্চিবঙ্গের রাজ‍্য সরকারও একই অচল মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। এদের উভয়ের কাছে জনস্বার্থ ও  জনস্বাস্থ‍্য রক্ষা করার যথার্থ পদক্ষেপ আশা করাও অবাস্তব। করোনা সংক্রমণ দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই নতুন করে বহু অসহায় মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে। হাসপাতালে শয‍্যা নেই, মুমূর্ষু রোগীর জন‍্য অক্সিজেন নেই। প্রতিষেধক টিকা নেই। শ্মশানগুলিতে ন‍্যূনতম সম্মান সহ সৎকার করার ব‍্যবস্থা নেই। মৃত প্রিয়জনের দেহ গাদাগাদি করে অপরিচ্ছন্ন স্থানে রাখা হচ্ছে আর মোদি-শাহ চক্র সোনার বাংলা গড়ার সম্পূর্ণ মিথ‍্যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাজ‍্যের নানাস্থানে বিপুল অর্থের জোরে হাজার হাজার মানুষকে জড়ো করে আরও বেশি সংক্রমণ ছড়িয়ে দেবার অপকর্ম করেই চলেছে।

তৃণমূলের অপকর্মের বিবরণ অপ্রয়োজনীয় অথচ কোন দল বাংলার মানুষের ওপর আধিপত্য স্থাপন করবে  তাই নিয়ে শতাধিক জনসভা ও রোড শো সংগঠিত করেই চলেছে। এই অবস্থার মধ‍্যেই লক্ষ লক্ষ ভক্তদের হরিদ্বারে কুম্ভ মেলায় যোগ দেবার অনুমতি দিয়ে সমস‍্যা গভীরতর করে তুলেছে মোদি সরকার। দুই সরকারের অপদার্থতার ফলে ভুগছেন জনগণ তাই মানুষের উচিত নিজেদের স্বার্থে সতর্কতা অবলম্বন করা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাড়ি থেকে বেরোলে মাস্ক পড়ে বেরোনো।



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।