জেলা

আমপানে গৃহহীন “ফরিদা” ফিরিয়ে দিতে চান সরকারকে ক্ষতিপূরণের হাজার টাকা……


মাধবী ঘোষ: চিন্তন নিউজ: ২৩শে জুলাই:– আমপানে ঘর ভেঙে ছিল হাওড়ার শ্যামপুরের খাড়ুবেড়িয়া পঞ্চায়েতের মামুদপুর এর বাসিন্দা শেখ ফরিদা নামে এক মহিলার ।ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছিলেন প্রশাসনের কাছে ।প্রাথমিক পর্বে ক্ষতিপূরণ মেলেনি।( পরে যখন টাকা মিলল ) পাওয়ার কথা ছিল কুড়ি হাজার টাকা ।ব্যাংকে গিয়ে খাতা দেখার পর অবাক ফরিদা । দেখেন একাউন্টে ঢুকেছে মাত্র১০০০ টাকা। প্রথমে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি ।ব্যাংক কর্মীরা তাকে জানান অবাক হওয়ার কিছু নেই । ১০০০ টাকায় জমা পড়েছে তার অ্যাকাউন্টে।

ক্ষতিপূরণের টাকা নিতে চান না ফরিদা ।সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ,সেই টাকা তিনি ফিরিয়ে দেবেন প্রশাসনকে ।তার কথায়, ১০০০ টাকায় ঘর মেরামত করা সম্ভব নয় ।তাই ওই টাকা ফেরত দেবো বলে বিডিওর কাছে আবেদন করেন।

অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে মামুদপুর এ টালির ছাউনি দেয়াল দেওয়া মাটির ঘরে বাস করতেন ফরিদা ।আমপান তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকুও উড়িয়ে নিয়ে যায় ।ঘরের এক দিকের দেয়াল পড়ে যায় ।খড় এবং ত্রিপল দিয়ে ছাউনি করে কোনরকমে ওই ভাঙ্গা ঘরে বাস করছেন ফরিদা ।তার কথায়, “ভেবেছিলাম ক্ষতিপূরণের টাকা পেলে ঘর মেরামত করব ।কিন্তু ১০০০ টাকায় কি হবে। পাঁচটা বাঁশ কিনতেই শেষ হয়ে যাবে ।বাকি টাকা কোথা থেকে পাব?”

শ্যামপুর দু’নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিষয়টি খতিয়ে দেখেন ।তাঁর কথায় ,কিভাবে ওই মহিলার ব্যাংক একাউন্টে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০০০ টাকা ঢুকলো জানিনা ,যতদূর জানি যাদের ঘর ভেঙে গিয়েছে তারা কুড়ি হাজার টাকা পাবেন ,যাদের ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে তারা পাবেন পাঁচ হাজার টাকা করে ,কিন্তু এক হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা কারো নয়। মনে হয় কোথাও একটা ভুল হচ্ছে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

এখন ১০০ ইটের দাম কম বেশি ১১০০ টাকা, ঘরের ছাউনি তৈরীর জন্য যে ধরনের বাশ প্রয়োজন তার একটির দাম কমপক্ষে ২০০ টাকা ।এক বস্তা বালি কিনতে গেলে খরচ হয় ৯০ টাকা । প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম ৪০০ টাকা। একজন মিস্ত্রীর দৈনিক মজুরি এখন সাড়ে ৪০০ টাকা ।

এই হিসেব ধরলে টালি ছাউনি দেওয়া একটি পাকা ঘর তৈরিতে খরচ হয় কম বেশি ৬০ হাজার টাকা। ফরিদা বলেন নতুন ঘর করতে অনেক টাকা খরচ ।আমরা যে ঘরে থাকি তার সংস্কার করতেই খরচ হবে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। ১০০০ টাকা নিয়ে করব কি? ওটা সরকারের কাছেই থাকুক।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।