রাজনৈতিক রাজ্য

আব্বাস সিদ্দিকি ও বঙ্গ রাজনীতি


মল্লিকা গাঙ্গুলি: চিন্তন নিউজ:১৫ই আগস্ট:- আব্বাস সিদ্দিকি এবং ফুরফুরা শরিফ পশ্চিম বাংলার পরিচিত নাম, বিতর্কিতও বলা যায়। এই মূহুর্তে ২০২১এর বিধানসভা নির্বাচন কেন্দ্র করে বঙ্গের সমস্ত রাজনৈতিক দল তৎপর। এরই মধ্যে ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির বক্তব্যে রাজনৈতিক মহল তোলপাড়। গত ১৪ই আগস্টের এক স়ংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে সিদ্দিকি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, তিনি বাংলার দলিত, মুসলিম এবং আদিবাসীদের নিয়ে নতুন দল গড়তে চলেছেন, তার নতুন দল আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে।

সিদ্দিকির এই ঘোষণা যেমন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি করেছে তেমনি শরিফ পরিবারের কোন্দলও বাইরে বেরিয়ে এসেছে। আব্বাস সিদ্দিকির দাবি তারা দীর্ঘদিন থেকেই পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসকে নানা ভাবে ভোটে জিতিয়ে আসছে কিন্তু জেতার পর তৃণমূলের কাছ থেকে তারা তাদের প্রাপ্য অধিকার পায়নি। এই মুহূর্তে তারা আর তৃণমূলের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় নেই, দিদির গুন্ডাবাহিনী যেভাবে অত্যাচার জুলুম বাজি করছে তাতে তারা আর দিদিমনি কে মেনে নিতে পারছে না। যদিও সিদ্দিকি তাঁর নবগঠিত দলের নাম ঘোষণা করেন নি , তবে যথেষ্ট জোর দিয়ে বলেছেন তার নতুন দল ২১এর ভোটে লড়াইয়ের ময়দানে বুঝে নেবে কার কত দম।

শুধু তৃণমূল দল বা দলনেত্রীর বিরুদ্ধেই নয়, তিনি তার পরিবারের সদস্য ত্বহা সিদ্দিকির তৃণমূল রাজনীতির হয়ে কাজ করার প্রসঙ্গেও ক্ষুব্ধ তা তার বক্তব্যে স্পষ্ট আর এর থেকেই পারিবারিক বিবাদ কেও বাইরে নিয়ে আসেন। সাংবাদিকের তীক্ষ্ম প্রশ্ন বানে বিধ্বস্ত সিদ্দিকি সাহেব কোনো রাখঢাক না করেই তৃণমূল বিধায়ক থেকে খোদ তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে যেভাবে ক্ষোভ উদ্গীরণ করেছেন তাতে তৃণমূলের ভোট রাজনীতির মুখোশ যেমন খুলে গেছে তেমনি ফুরফুরা শরিফ তথা ধর্ম গুরু পীরদের ও আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অতি কৌশলে বিজেপি প্রসঙ্গ এড়িয়ে বর্তমান বাংলা সরকারকে সরাসরি চিটিংবাজ, প্রতারক ও গণতন্ত্র হত্যাকারী বলে চিহ্নিত করেছেন। আবার আব্বাস সিদ্দিকির ভাষায়- তাদের পরিবারে ফুরফুরা নিয়ে যে লড়াই তা ব্যক্তিগত পজিশনের লড়াই ছাড়া কিছু নয়, ও বড় হয়ে যাবে, এ উঠছে একে শেষ কর এরকম একটা ব্যাপার। মোট কথা ফুরফুরার ধর্ম গুরু সিদ্দিকি সাহেব সাংবাদিকের সামনে ভাষণে যতই বলুন তিনি দলিত, আদিবাসী, দরিদ্র মুসলিমদের অধিকার আদায়ের জন্য ধর্ম গুরু হয়েও রাজনীতিতে অবতীর্ণ। তার ধর্ম তাকে মানব সেবা দেশ সেবার রাজনীতি করার স্বাধীনতা দিয়েছে কিন্তু আসলে নিছক ক্ষমতার দম্ভ আর ব্যক্তি স্বার্থ পূরণই মূল কথা।

গত ২০১১থেকে ২০২০ তৃণমূলের সঙ্গে বোঝাপড়া দেনাপাওনা কেনাবেচার হিসাবে সমস্যা হয়নি বলেই সিদ্দিকি পরিবার তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছে। সাম্প্রতিক কালে তাদের পাওনাগণ্ডায় টান পরেছে বলেই সরাসরি কুৎসা খুন জখম গুন্ডাগিরি রাজনীতি শুরু হয়েছে। সারা দেশ জুড়ে রাজনীতির মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ধর্মস্থান গুলি। বিজেপি যেমন রামলালা কে কেন্দ্র করে আবেগ প্রবণ ভীরু হিন্দুদের ভুল বোঝাচ্ছে, ফুরফুরা শরিফের মত মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মভীরু মুসলিমদের বিভ্রান্ত করে নিজেদের আখের গোছানোর চক্রান্ত করছে। দেশের সাধারণ মানুষের এবার চোখ কান খোলা দরকার। সিদ্দিকির তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চরম বিষোদগার নেহাৎ ব্যক্তি স্বার্থ হলেও তার অভিযোগ গুলি একটিও ভুল নয়। আবার সিদ্দিকি দলিত আদিবাসী মুসলিমদের জন্য যে কুম্ভীরাশ্রু মোচন করছেন তাও আসলে গদি দখলের ফন্দি। বিজেপির হিন্দু তোষণ বা মুসলিমদের দলিত তোষণ যে আদপে মানুষের কথা ভেবে নয়, একথা বোঝার সময় এসেছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দলিত অদলিত হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে সমস্ত সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিকার অর্জন করতে সমস্ত প্রকার কু রাজনীতি ভন্ড ধান্দাবাজ বাকসর্বস্ব নেতৃত্ব কে পরিহার করে যদি মানুষের জন্য কাজ করে মানুষের কথা ভাবে এমন নেতা নির্বাচন করতে পারে তবেই পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র ফিরে আসবে।গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ময়দান হলো নির্বাচন, আর ভোটাধিকার হলো জনগনের সর্বশ্রেষ্ঠ নাগরিক অধিকার। তাই সাম্প্রতিক অতিমারি দারিদ্র্য বেকার সমস্যা শিক্ষা স্বাস্থ্যের বেহাল দশা থেকে নিজেদের সুস্থ সমাজ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে আপামর জনগণ কে সচেতন হতে হবে। ভাষণ আর ধর্মীয় ভণ্ডামির আবেগে না ভুলে মানুষ কেই একজোট হয়ে “জনগনের দ্বারা জনগনের জন্য জনগনের শাসন” প্রতিষ্ঠা করতে হবে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।