কলমের খোঁচা

বাংলার সংস্কৃতি জগতে ঘটলো এক নক্ষত্র পতন।


কল্পনা গুপ্ত: চিন্তন নিউজ:১৫ ই নভেম্বর:- ” আমার যেটুকু দেবার আছে তার কতটা আর দিতে পারলাম।” একথা তিনিই বলতে পারেন যিনি তাঁর জীবনের শেষ পর্যন্ত সমস্তটুকু উজার করে দিয়েছেন- মননে, চিত্র জগতে, সংস্কৃতি জগতে। অপরাজিত অপু জীবনের বেলাশেষের গান গেয়ে চলে গেলেন রাজার মতন। কিং লিয়র তাঁর নাট্যজীবনের মাইল স্টোন। কিশোরদের শুধু নয় আমাদেরও মনে ফেলুদা মানেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। একটা মিথ হয়ে গেছে গোয়েন্দা চরিত্রে। সেই ফেলুদাই উদয়ন পন্ডিত হয়ে বিপ্লব ঘটাচ্ছেন মগজাস্ত্র দিয়েই। কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ৩৪ টা ফিল্মের মধ্যে ১৪ টিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন। সত্যজিৎ রায়ের অপুর সংসারে (১৯৫৯) অভিনয় করে তাঁর রূপালি পর্দায় চলা শুরু।

১৯৩৫ সালে ১৯শে জানুয়ারি তিনি কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানে কলিজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন, পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তিনি ২০০৪ এ পদ্মভূষণ, ২০০৬ এ ন্যাশানাল ফিল্ম এওয়ার্ড, ২০১২ তে দাদাসাহেব ফালকে পুরষ্কার, ২০১৮ তে লিজিয়ঁ দা নর সম্মানিত হন, ১৯৯৭ এ ফ্রান্সের সর্বোচ্চ শিল্প সাহিত্যে জাতীয় পুরষ্কারে ভূষিত হন।

তাঁর অভিনয়ের মধ্যে ছিলো এক সহজ, প্রাণবন্ত চরিত্রায়ন। সে কখনও নায়ক অথবা খল নায়ক। ঝিন্দের বন্দীর ময়ূরবাহন যেন শংকর সিংকে ছাড়িয়ে যায়। তাঁর অসংখ্য ফিল্ম আমাদের মুগ্ধ করে রেখেছে- বসন্ত বিলাপ, অভিযান, ফেলুদা সিরিজ, স্ত্রী, অশনি সংকেত,অপু ট্রিলজি,চারলতা, সাত পাকে বাধা ইত্যাদি। সত্যজিৎ রায়, মৃনাল সেন, অজয় কর, তরুণ মজুমদারের মতন পরিচালকদের সাথে কাজ করেছেন। তিনি বাংলা থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য ১৯৯৮ এ সংগীত নাটক একাডেমি পুরষ্কার পান।
” টানা ৩৪ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতাসীন এট নিঃ সন্দেহে বাংলার মানুষের কাছে গৌরবের বিষয়।… ফের বলছি, দৃপ্তকন্ঠে বলছি আমি বামফ্রন্টের পক্ষেই।” তাঁর অভিমত আমাদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে।

আজ বিগত ৪০ দিন ধরে তিনি বেলভিউ নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন। অসুখের সাথে এক ভয়ংকর লড়াই করে আজ ক্লান্তি অতিক্রম করে বেলা ১২টা১৫ মিনিটে চির বিশ্রামে চলে গেলেন। বাংলা তথা দেশের সংস্কৃতি জগতে এক নক্ষত্র পতন হলো। তাঁর প্রতি চিন্তনের পক্ষ থেকে রইলো আমাদের অকুন্ঠ বিনম্র শ্রদ্ধা আর আমাদের সাথে থাকলো গভীর শোক।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।