কলমের খোঁচা

বিশ্ব খাদ্য দিবসে খানিক তত্ত্ব তালাস।


মিতা দত্ত: চিন্তন নিউজ:১৬ই অক্টোবর:-

” ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়”–বিপ্লবী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য

পরপর দুটি বিধ্বংসী বিশ্বযুদ্ধ ঘটে যাওয়ায়, এই বিশ্বযুদ্ধের করালগ্রাস থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দে গঠিত হয় সন্মিলিত জাতিপুঞ্জ । বিশ্বের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ে দেখভালের জন্য ১৯৪৫ সালে ১৬ ই অক্টোবর গঠিত হয় খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা ।১৯৭৯ সালে হাঙ্গেরীর খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী প্যলা রোমানি এই দিনটিকে “বিশ্ব খাদ্য দিবস ” হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব দেন।১৯৮১ সালে তাঁর প্রস্তাবটি বিবেচিত হয় এবং “বিশ্ব খাদ্য দিবস” হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ব খাদ্য দিবসের উদ্দেশ্য নিশ্চয় বিশ্ববাসীর খাদ্য নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করা। খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিতিকরণের সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত কাজের নিরাপত্তা। এই সবটাই করবে প্রত্যেক দেশের শাসক। তাই শাসকের শ্রেণী দৃ‌ষ্টিভঙ্গীর ওপর খাদ্য নিরাপত্তা বিষয় টা নির্ভর করবে ।

আমাদের প্রিয় মাতৃভৃমির দিকে তাকালে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার এক করুণ চিত্র দেখতে পাবো। প্রাচীন কালে যখন কৃষির সূচনা হয়, তখন থেকেই মানুষ গোষ্ঠীগত চাহিদা মেটানোর জন্য খাদ্য সংরক্ষণও করতো। গোষ্ঠী থেকে গোষ্ঠীপতি ,শাসকের উদ্ভব থেকেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে শুরু করে। তাও ব্রিটিশ শাসনের আগে পর্যন্ত মোটামুটি খাদ্য নিরাপত্তা ছিলো। কিন্তু ব্রিটিশ আগমনের শুরুতে ও শেষে দুটি দূর্ভিক্ষ হয়, যতটা না প্রাকৃতিক দূর্যোগের জন্য , তার চেয়ে বেশী রাজস্ব সংগ্রহের জন্য। সে না হয় বিদেশী শাসক ছিল।

স্বাধীনতার পর নিপীড়িত জনগণ আশা করেছিলো, দুইবেলা পেটভরে খেতে পাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। আমরা সবাই সবুজ বিপ্লবের কথা জানি ও তার ফলাফলের কথাও অজানা নয়। এ তো গেলো ভারতের চিত্র। পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে যন্ত্রণা দায়ক সময় ১৯৫১ – ১৯৬৬ । এই সময় পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যের অভাব এমন মাত্রায় পৌঁছায় যে মানুষ সক্রিয় আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়। তৎকালীন সরকার, বাংলায় প্রবাদ আছে না, “ভাত দেবার খ্যামতা নেই, কিল মারার গোঁসাই”, সেই প্রবাদকে মান্যতা দিয়ে বুভুক্ষ্যু জনতার ওপর পুলিশী নীপিড়ন নামিয়ে আনে। পুলিশ এতটাই কর্তব্য পরায়ণ হয়ে উঠেছিল, যে গুলি চালিয়ে প্রাণ নিতে হৃদয় কাঁপেনি।

পরবর্তীকালে বামফণ্ট সরকারের আমলে পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো হয়। কিন্তু বর্তমান শাসক মোল্লা , পুরোহিতদের ক্লাব নিয়ে ব্যস্ত । তারপর গোদের ওপর বিষফোঁড়া, নতুন জাতীয় কৃষি নীতি। কৃষি নীতিতে কৃষকদের প্রাণান্তকর পরিণতি হবে।

তাই শুধু নিয়মরক্ষার দিনপালন নয়। এই দিনটিকে মর্যাদা দিতে গেলে শাসকের কৃষকবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এর ময়দানে থাকতে হবে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।