কলমের খোঁচা

মৌলবাদের কালো হাতে মানবিকতার মৃত্যুদিন – মিতা দত্ত


আজ ৩০ শে জানুয়ারী – ভারতের ইতিহাসে এক কালিমালিপ্ত দিন। আলোর পথযাত্রীকে অন্ধকার ভাবনার বাসিন্দারা প্রাণ কেড়ে নিয়েছিলো। অন্ধকারের জীব আবার কাজের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলো। যাদের ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিন্দুমাত্র অবদান নেই, তারা আবার দেশপ্রেমিক!

মোহনচাঁদ করমচাঁদ গান্ধী এমন একজন মানুষ, যিনি ছিলেন জাতীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলনের অবিসংবাদী নেতা। খেদা ও চম্পারণ সত্যাগ্রহের মাধ্যমে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক আন্দোলনে অনুপ্রবেশ। কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি সক্ষম হয়েছিলেন ভারতবাসীর মধ্যে রাজনৈতিক বোধ আনতে ও আন্দোলনে সামিল করতে। অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন ও অবশেষে ভারতছাড়ো আন্দোলনে ব্রিটিশ বিরোধী একটির পর একটি আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ও অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছেন। তিনি ভারতবাসীর সামনে গণতান্ত্ৰিক আন্দোলনের পথ দেখিয়েছেন। যে পথে আজও দিল্লীর বুকে কৃষকরা আন্দোলনে সামিল।

স্বাধীনতার ঠিক প্রাক্কালে ভারতের রাজনীতিতে দুঃখের হলেও সত্যি হিন্দু মুসলিম বিভেদ চরম আকার নেয়। এর জন্য শুধু ব্রিটিশ শাসক নয়, ভারতীয় নেতৃত্বও দায়ী ছিলো। গান্ধী প্রথম থেকেই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ছিলেন। কিন্তু গান্ধীর নিয়ন্ত্রণে সবকিছু ছিলো না। ফলতঃ সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এমন ভয়াবহ রূপ নিলো যে দাঙ্গায় পর্যবসিত হলো। গান্ধীর প্রাণ উচাটন হয়। তিনি সাম্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য দাঙ্গাবিধ্বস্ত এলাকায় প্রচার করেন। শুধু প্রচার নয় দাঙ্গায় বিধ্বস্তদের রক্ষা ও উদ্বাস্তুদের দূর্দশায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

এইরকম একজন ব্যক্তিত্বকে উপাসনা সেরে ফেরার পথে হিন্দুত্ববাদীরা প্রাণসংহার করে। তাঁর আরাধ্য দেবতা সীতারাম। যার মধ্যে ছিলো ভক্তিরস। এখন হিন্দুত্ববাদের আওয়াজ, জয় শ্রীরাম – যার মধ্যে রয়েছে হুঙ্কার।

হুঙ্কার দিয়ে শুধু প্রাণ নেয় না, দেশটাকেই বিক্রি করতে উদ্যত। দেশের সেনাদের নিয়ে ছেলেখেলায় তারা সিদ্ধহস্ত। বিদেশী শাসনের দোসর এরা। তাই তো ব্রিটিশ শাসন যেমন একটার পর একটা জনবিরোধী আইন প্রণয়ন করতো ও তার প্রতিবাদ করলেও নামতো অকথ্য অত্যাচার, আজও একই ঘটনা চলছে নাথুরামের উত্তরসূরী সরকারের হাতে। বরাবরই প্রাণ রক্ষা নয়, প্রাণ নেওয়াতেই তাদের উল্লাস।

এই বকধার্মিকদের বিরুদ্ধে ভারতবাসী ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এই ঐক্যবদ্ধতা দিয়েই সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত সুসংগঠিত ভারতবর্ষ গড়ে তোলাই হবে গান্ধীজী প্রাণহানির প্রতুত্তর দেওয়া।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।